• ই-পেপার

শেষ ষোলোয় কে কার মুখোমুখি

লড়াইটা হাকিমি-ডেভিসেরও

ক্রীড়া প্রতিবেদক
লড়াইটা হাকিমি-ডেভিসেরও
কানাডা-মরক্কোর বাইরে লড়াইয়টা ডেভিস-হাকিমিরও। ছবি : রয়টার্স

বিশ্ব ফুটবলের দ্রুততম দুই ফুলব্যাক। দুজনই রক্ষণ সামলান। আবার মুহূর্তেই আক্রমণের রূপ বদলে দিতে পারেন। একজন মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, অন্যজন কানাডার চালিকাশক্তি আলফানসো ডেভিস। শেষ ষোলোতে মরক্কো ও কানাডার লড়াইয়ে এই দুই তারকার দিকেই তাই চোখ থাকবে।

মরক্কোর সবচেয়ে বড় ভরসা হাকিমি। ডান প্রান্তে তাঁর দৌড়, ওভারল্যাপিং, নিখুঁত ক্রস এবং রক্ষণে সময়মতো ট্যাকল—সব মিলিয়ে তিনি আধুনিক ফুলব্যাকের অন্যতম সেরা উদাহরণ। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বড় মঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা। ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে তাঁর ‘প্যানেনকা’ পেনাল্টি আজও মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। কানাডার আশার প্রতীক ডেভিসও কম নন।

চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে তাঁকে পায়নি কানাডা। তবে রাউন্ড অব ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের চেহারা বদলে দেন। তাঁর উপস্থিতি কানাডার খেলায় অন্য রকম গতি এনে দেয়। শেষ ষোলোর আগে কোচ জেসি মার্শও জানিয়েছেন, ডেভিস শুরু থেকেই খেলতে প্রস্তুত। আশা করা হচ্ছে, দুই তারকার লড়াইটা তাই বেশ উপভোগ্যই হবে।

হাকিমি যখন ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যাবেন, তখন বাঁ দিক থেকে ডেভিসের কাজটা হবে হাকিমিকে আটকানো। দুজনই গতিশীল, তাই গতি দিয়েই একে অন্যকে পরাস্ত করতে চাইবেন। আশা করা হচ্ছে, দুই তারকার লড়াইটা তাই বেশ উপভোগ্যই হবে। হাকিমি যখন ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যাবেন, তখন বাঁ দিক থেকে ডেভিসের কাজটা হবে হাকিমিকে আটকানো। দুজনই গতিশীল, তাই গতি দিয়েই একে অন্যকে পরাস্ত করতে চাইবেন।
 
তবে ম্যাচটি শুধু হাকিমি-ডেভিসের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মরক্কোর শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ স্কোয়াডে আছেন ইয়াসিন বুনু, সুফিয়ান আমরাবাত, ইসমাইল সাইবারির মতো চাপ সামলানোয় দক্ষ ও পরীক্ষিত ফুটবলাররা। অন্যদিকে কানাডা খেলছে ভয়ডরহীন ফুটবল। তাদের তরুণদের আত্মবিশ্বাস, হাই প্রেসিং এবং দলগত শৃঙ্খলা এরই মধ্যে অনেককেই মুগ্ধ করেছে। সেরা আটের টিকিট পাওয়ার এই লড়াইয়ে অভিজ্ঞতার পাল্লা মরক্কোর দিকে কিছুটা ভারী। কিন্তু কানাডাও দেখিয়ে দিয়েছে, তারা ইতিহাস গড়তে এসেছে। আর সেই ইতিহাস লেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারেন হাকিমি। মুদ্রার অন্য পিঠে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গের সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন ডেভিস। হিউস্টনে শেষ পর্যন্ত কে ম্যাচ বদলে দিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার!

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে পরিবার হারানো শিশুর স্বপ্ন পূরণ করলেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে পরিবার হারানো শিশুর স্বপ্ন পূরণ করলেন রোনালদো
পর্তুগালের অধিনায়ক রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ জ্বরে এখন কাঁপছে পৃথিবী। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ নিয়ে মাতোয়ারা  থাকার কথা ছিল আন্দ্রেস মিয়েলেসেরও। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন ১০ বছর বয়সী শিশুটি।

আন্দ্রেসের এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী ভেনেজুয়েলায় হয়ে যাওয়া দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। অনেকের মতো যার জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ভূমিকম্পে পুরো পরিবার হারানো আন্দ্রেস নিজের এক পা হারিয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এমন কঠিন সময়ে আন্দ্রেসের চাওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একটি স্টিকার। প্রিয় খেলোয়াড়ের স্টিকারটি বিশ্বকাপের অ্যালবামে সাজিয়ে রাখবেন। শিশুটির চাওয়া কোনোভাবে পৌঁছে যায় পর্তুগিজ কিংবদন্তির কাছে। ইচ্ছা পূরণে শিশুটির কাছে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান রোনালদো।

স্টিকারটি ইতিমধ্যে হাতে পেয়েছে আন্দ্রেস। সঙ্গে নিজের সই করা একটি জার্সিও পাঠিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। তার পাঠানো উপহার পাওয়ার বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন সাংবাদিক গ্যাবি আরোচার। 

ভিডিও বার্তায় আন্দ্রেসকে নিজের একটি ম্যাচ দেখতে আসার জন্য বলেছেন রোনালদো। ‘সিআর সেভেন বলেছেন, ‘হ্যালো আন্দ্রেস, তুমি কেমন আছো? তোমাকে ভালোবাসা পাঠানোর জন্যই ভিডিওটি করেছি। জানি, তুমি আমার খুব বড় ভক্ত। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো। আমি চাই তুমি আমার একটা ম্যাচ দেখতে আসো। একসঙ্গে উপভোগ করব। তোমার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রইলাম। সাহস রেখো বন্ধু।’

 

পা হারানো ছোট্ট আন্দ্রেসের স্বপ্ন পূরণ করায় এখন প্রশংসায় ভাসছেন রোনালদো। মানবিকতার হাত বাড়ানো অবশ্য এবারই প্রথম নয় তার। আগেও অনেকবার এমন কাজ করেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।

ঘানাকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
ঘানাকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া
কলম্বিয়ার জয়ের নায়ক আরিয়াস। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের ৫৬ মিনিটে জালের দেখা পেলেন লুইস দিয়াস। জালের সঙ্গে বলের সাক্ষাৎ হতেই আনন্দে মাতলেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড। তবে মুহূর্তের মধেই সেই আনন্দ ফিকে হয়ে গেল। গোলটি করার আগে অফসাইডের ফাঁদে পড়েছিলেন দিয়াস। 

দিয়াসের গোলের আনন্দ পূর্ণতা না পেলেও ঠিকই হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে কলম্বিয়া। কানসাস সিটিতে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। এ জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। শেষ ৩২-য়ের শেষ দল হিসেবে পরের রাউন্ডের টিকিট পেয়েছে তারা।

জয়সূচক গোলটি এসেছে জন আরিয়াসের পা থেকে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে সতীর্থর বাড়ানো পাশে প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নেন আরিয়াস। তার সেই গোলেই পরে বিরতিতে যায় তারা।

বিরতির পর দিয়াস গোল করলেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। বিপরীতে চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারেনি গানা। ফল ১-০ গোলে হেরে বাড়ির টিকিট কেটেছে তারা। শেষ ষোলোয় কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

‘নকআউটে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘নকআউটে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না’
কেপ ভার্দের প্রশংসা করেছেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

জয়টা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে আজ মায়ামিতে মানুষের হৃদয় জিতেছে কেপ ভার্দে। সেই তালিকায় আছেন খোদ লিওনেল মেসিও। তাই তো ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভুলেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

শেষ ৩২-য়ের ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হারার আগে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কেপ ভার্দে। প্রতিপক্ষের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেছেন, ‘জানতাম ম্যাচটা অনেক কঠিন হতে যাচ্ছে। স্পেন ও উরুগুয়ের কাছে হারেনি তারা। তবে সবচেয়ে কঠিন কাজটি প্রথমে করতে পেরেছিলাম। তা হলো প্রথম গোলটি করা। এরপর ভেবেছিলাম চেনা ছন্দ খুঁজে পেয়ে স্বস্তিতে খেলব। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টো। নিজেদের সবটুকু তারা মাঠে নিংড়ে দিয়েছে।’

 

নকআউটের ম্যাচে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না বলে জানান মেসি। ৩৯ বছর বয়সী প্লেমেকার বলেছেন, ‘নকআউটের ম্যাচে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না। নামের কারণে অনেকে হয়তো প্রতিপক্ষকে কম শক্তিশালী ভাবতে পারে। তবে আমরা জানতাম ম্যাচটা মোটেও সহজ হবে না। এটাই বিশ্বকাপকে বিশেষ করে তুলেছে। সব দলই খুব কাছাকাছি মানের এবং প্রতিটি ম্যাচই কঠিন।

মায়ামির ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচে কাজে লাগাতে চান মেসি। ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক বলেছেন, ‘বরাবরের মতোই আমরা প্রচুর পরিশ্রম করেছি। নিজেদের সেরাটা দিতে পারি আর না পারি। 

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্রাম নেওয়া। পরের ম্যাচটি নিয়ে ভাবা। আর আজকের লড়াই থেকে ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা।’

শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। ম্যাচটি আগামী ৭ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে হবে। শুরু হবে রাত ১০টায়।