ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে স্পিডবোটে তিন বছরের এক শিশুর ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দড়িদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি গ্রামে স্পিডবোট ঘাটে এক যাত্রীর সঙ্গে থাকা তিন বছরের একটি শিশুর ভাড়া দাবি করেন স্পিডবোট চালক ইমরান। এ সময় ঘাটের ইজারাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছোট শিশুর ভাড়া না নেওয়ার পরামর্শ দিলে চালকের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে চালক ইমরান ঘাটের টোল আদায়কারী বাবুলের ওপর চড়াও হন। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
এরপর ঘটনাটি মিটে যায়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর পূর্বপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাদিরের দোকানে কয়েকজনকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে পরবর্তী হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আসাদুল্লাহ নামাজ শেষে পুবপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থানসংলগ্ন মসজিদ থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৭ থেকে ৮ জন তাকে ঘিরে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আসাদুল্লাহর ওপর হামলার খবর পেয়ে স্বজন ও ঘাট-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় গেলে সেখানে আবারও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীদের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে শরীফ নামের এক ব্যক্তি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর মধ্যে একটি গুলি জাহাঙ্গীর আলমের তলপেটে বিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর আলমকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন জানান, স্পিডবোট ভাড়া নিয়ে সংঘাত হয়েছে বলে জেনেছি। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





