• ই-পেপার

কুষ্টিয়ায় ৭ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ শুরু

ফরিদপুরের সদরপুর

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না ও লাইসেন্সবিহীন বাইক চালানোর অপরাধে জরিমানা

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না ও লাইসেন্সবিহীন বাইক চালানোর অপরাধে জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না ও পরিবেশন করার অপরাধে এক হোটেল ব্যবসায়ী ও লাইসেন্স-রেজিস্ট্রেশন সনদ-ট্যাক্স টোকেন ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো ও নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি ব্যবহারের অপরাধে ছয়জন মোটরসাইকেল আরোহীকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া স্টান্ডে ও পূর্ব শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না ও পরিবেশন করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সালের ৫৩ ধারা অনুসারে সদর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া স্টান্ড এলাকার শাহজালাল হোটেল মালিককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া একই ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর এলাকায় লাইসেন্স-রেজিস্ট্রেশন সনদ-ট্যাক্স টোকেন ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো ও নম্বরপ্লেট বিহীন গাড়ি ব্যবহারের অপরাধে ৬ জন মোটরসাইকেল-আরোহীকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া জানান, অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না ও পরিবেশন করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারায় একটি হোটেলে ও ৬ জন মোটরসাইকেল-আরোহীকেলাইসেন্স-রেজিস্ট্রেশন সনদ-ট্যাক্স টোকেন ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো ও নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি ব্যবহারের অপরাধে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালী

মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
নিহত মো.ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) ও অভিযুক্ত আকাশ গোল চিহিৃত।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ফারুক ওরফে শহীদ সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

আটক দুজন হলেন মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪), তিনি একই গ্রামের মুন মুন্সিবাড়ির আল আমিনের ছেলে; এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯), তিনি আকবরপুত্রের বাড়ির দুলালের ছেলে।

নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন দাবি করেন, আরশাদ ওরফে আকাশ এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। তার মাদকসেবনের প্রতিবাদ করতেন স্থানীয় উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহির। মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আকাশের মাদকসেবন নিয়ে কথা উঠলে তিনি বেপরোয়া আচরণ করেন এবং জহিরকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ সময় দোকানে উপস্থিত ফারুক তাকে ধমক দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেন।

ইমরান আরো দাবি করেন, পরদিন বুধবার সকালে আকাশ কয়েকজনের কাছে তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেন। পরে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলতলা বাজারসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে পেছন থেকে তার বাবার পিঠে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসেবনের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক দুজন বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং আশঙ্কামুক্ত আছেন।

ফটিকছড়িতে চলছে হরতাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ফটিকছড়িতে চলছে হরতাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর সব এলাকার মানুষের সুবিধার্থে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে হরতাল পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ-এর ডাকে এই কর্মসূচি চলছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে হরতাল ও অবরোধের ফলে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ফটিকছড়ি-হেয়াঁকো সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাক ও গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া সকাল থেকেই বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট  ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নারায়ণহাট ও হেয়াঁকো বাজারে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা নবগঠিত উপজেলার প্রশাসনিক কার্যালয় বা সদর দপ্তর কোনো একপাক্ষিক স্থানে না করে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে সবার জন্য সুবিধাজনক ও যৌক্তিক স্থানে করার দাবিতে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, একটি নতুন উপজেলার সদর দপ্তর যদি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে কোনো এক কোণায় স্থাপন করা হয়, তবে উপজেলার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না। তাই তারা ন্যায্য দাবির পক্ষে এই হরতাল ডেকেছেন। হরতাল চলাকালে ওই অঞ্চলের দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যানচলাচল স্বাভাবিক করার জন্য চেষ্টা করছেন পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চলমান ছিল।

জলাবদ্ধতায় হাসপাতালে নিতে না পেরে ঘরেই প্রসূতির মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
জলাবদ্ধতায় হাসপাতালে নিতে না পেরে ঘরেই প্রসূতির মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে জলাবদ্ধতায় সময়মতো হাসপাতালে না নিতে পেরে ঘরেই নাজমা আক্তার (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত নাজমা আক্তার একই গ্রামের শাহজাহানের বাড়ির বাসিন্দা মো. হক সাবের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়া ও উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে বুধবার সকালে অস্বাভাবিক জোয়ারে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ইসলামপুর গ্রামের সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়ে পড়ে। এদিন সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র নৌকাটি ভাঙা থাকায় এবং এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ঘরেই প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনাগত সন্তানসহ তার মৃত্যু হয়।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম জানান, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে কোনো স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র বা হাসপাতাল নেই। চিকিৎসার জন্য সবাইকে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু জোয়ারের পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় নাজমাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ঘরের ভেতরেই সন্তানসহ তার মৃত্যু হয়েছে। তার আগে দুইটি সন্তান রয়েছে। এটি ছিল তার তৃতীয় সন্তান।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিঝুমদ্বীপে চিকিৎসাসেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।