• ই-পেপার

লকডাউন ভেঙে বসেছে 'করোনা হাট'!

‘ছেলে মাদকসহ আটক’ বলে শিক্ষকদের টাকা লুটের অভিযোগ

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
‘ছেলে মাদকসহ আটক’ বলে শিক্ষকদের টাকা লুটের অভিযোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘আপনার ছেলে মাদকসহ আটক হয়েছে’— এমন ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করেছে একটি চক্র। মামলা থেকে বাঁচাতে টাকা পাঠানোর চাপ দেয় প্রতারকরা। এভাবে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে কয়েকজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রতারণার শিকার শিক্ষকরা ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে জানা যায়, প্রতারকরা নিজেদের ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের মোবাইলে ফোন করে। তারা দাবি করে, শিক্ষকদের সন্তানদের মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা থেকে বাঁচতে হলে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে।

সন্তানের নাম-পরিচয় জানিয়ে বিশ্বাস তৈরি করে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে কয়েকজন শিক্ষক ধাপে ধাপে টাকা পাঠান।

ঘোড়াঘাট উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা, নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাফুজা বেগম ৪১ হাজার টাকা পাঠান।

পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারেন, সন্তান আটকের খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এরপর প্রতারকদের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

শিক্ষকরা জানান, আরও কয়েকজন শিক্ষক একই ধরনের ফোন পেলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তারা টাকা পাঠাননি।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ফোন পেলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ধলাই নদীর পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নতুন করে ডুবল ৬ গ্রাম

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
ধলাই নদীর পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নতুন করে ডুবল ৬ গ্রাম
ছবি : কালের কণ্ঠ

উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত কমে আসায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। এতে বন্যাকবলিত ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নে পানি কমতে শুরু করে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ভাটি এলাকায় নতুন করে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুন) রাত থেকে ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও আঙিনায় জমে থাকা কাদা এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।

অন্যদিকে ভাটি অঞ্চল হওয়ায় উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এতে গোপীনগর, রাধাগোবিন্দপুর, নয়াবাজার, পতনঊষারসহ ছয়টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। ফলে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং নৌকাই তাদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যায় প্রায় ২০০ হেক্টর আউশ ধান ও আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

এদিকে বন্যার তীব্র স্রোতে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে। পাশাপাশি অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে থাকায় যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। শুক্রবার মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরী রহিমপুর ও পতনঊষার এলাকার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে মুড়ি, চিড়া, গুড়, বিস্কুট ও বিশুদ্ধ পানিসহ শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ভাটি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিনি পানিবন্দি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রশাসন বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’

নওগাঁয় কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পারইল মাঝিপাড়া গ্রামের রায়হান মাঝি লিটনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওই গ্রামে একটি মূল্যবান মূর্তি বেচাকেনার প্রস্তুতি চলছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বাড়ির একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে প্রায় ৯ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূর্তি বেচাকেনা চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যান। পরে উদ্ধার করা মূর্তিটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ১৬ জেলে

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ১৬ জেলে
সংগৃহীত ছবি

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে একটি মাছ ধরার ট্রলারের তলা ফেটে ডুবে গেছে। তবে আশপাশে থাকা অন্য ট্রলারগুলোর জেলেদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় ট্রলারটিতে থাকা ১৬ জেলে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বঙ্গোপসাগরের হাইর এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ডুবে যাওয়া ট্রলারটি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামের মিঠন হাওলাদারের মালিকানাধীন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রলার মালিকের বাবা বাবুল হাওলাদার এবং কোড়ালিয়া মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার।

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান, মাছ ধরার সময় হঠাৎ সাগরে প্রচণ্ড ঢেউয়ের সৃষ্টি হলে ট্রলারটির তলা ফেটে পানি ঢুকতে শুরু করে। বিপদ বুঝতে পেরে জেলেরা ট্রলারটি চালিয়ে আশপাশে থাকা অন্য ট্রলারগুলোর কাছে নিয়ে যান। পরে তাদের সংকেত পেয়ে অন্য ট্রলারের জেলেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রলারটিতে থাকা ১৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর ট্রলারটির অধিকাংশ অংশ পানিতে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনায় ট্রলারে থাকা মাছ ধরার জাল, বরফ, জ্বালানি, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামালের বড় একটি অংশ সাগরে ভেসে যায়।

ট্রলার মালিকের বাবা বাবুল হাওলাদার বলেন, ট্রলারে থাকা সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনটি ট্রলারের সহায়তায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি দড়ি দিয়ে বেঁধে কোড়ালিয়া ঘাটে নিয়ে আসা হচ্ছে।

কোড়ালিয়া মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করে তুফানিয়া এলাকা হয়ে ঘাটে আনা হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

লকডাউন ভেঙে বসেছে 'করোনা হাট'! | কালের কণ্ঠ