‘আপনার ছেলে মাদকসহ আটক হয়েছে’— এমন ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করেছে একটি চক্র। মামলা থেকে বাঁচাতে টাকা পাঠানোর চাপ দেয় প্রতারকরা। এভাবে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে কয়েকজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রতারণার শিকার শিক্ষকরা ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে জানা যায়, প্রতারকরা নিজেদের ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের মোবাইলে ফোন করে। তারা দাবি করে, শিক্ষকদের সন্তানদের মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা থেকে বাঁচতে হলে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে।
সন্তানের নাম-পরিচয় জানিয়ে বিশ্বাস তৈরি করে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে কয়েকজন শিক্ষক ধাপে ধাপে টাকা পাঠান।
ঘোড়াঘাট উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা, নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাফুজা বেগম ৪১ হাজার টাকা পাঠান।
পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারেন, সন্তান আটকের খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এরপর প্রতারকদের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
শিক্ষকরা জানান, আরও কয়েকজন শিক্ষক একই ধরনের ফোন পেলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তারা টাকা পাঠাননি।
ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ফোন পেলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।





