• ই-পেপার

রাতে আগুনে চার ব্যবসায়ীর 'কপাল' পুড়ে ছাই

উজিরপুরে তিন কেজি গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্রসহ নারী গ্রেপ্তার

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
উজিরপুরে তিন কেজি গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্রসহ নারী গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি নজরুল বেপারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।

দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে নজরুল বেপারীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে বাড়ির ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি চাপাতি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

অভিযান চলাকালে মূল অভিযুক্ত নজরুল বেপারী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত মাদক ও অস্ত্রের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নজরুল বেপারীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রংপুর

মরদেহ আটকে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ স্বজনদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
মরদেহ আটকে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ স্বজনদের
সংগৃহীত ছবি

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নুরনাহার বেগম নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বজনদের হাতে দায়িত্বরত এক চিকিৎসক লাঞ্ছিতের অভিযোগ ওঠে। এরপর মরদেহ মর্গে আটকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে মরদেহের দাবিতে হাসপাতালের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন স্বজনরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল প্রশাসন, পুলিশ ও উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত এক রোগী হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে অক্সিজেন মাস্কের প্রয়োজন হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন মাস্ক না পাওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তাদের স্বজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ওই চিকিৎসক মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে।

জানা যায়, চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে দাবি করে রংপুর মেডিক্যালের এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকের ওপর হামলার খবর হাসপাতালের অন্য চিকিৎসকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা দ্রুত একত্রিত হন। হামলার প্রতিবাদ এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন তারা। একই সঙ্গে হাসপাতালের মর্গের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এদিকে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়ায় রোগীর স্বজনরা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

রোগীর ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘আমাদের রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন মাস্ক না পাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এখন বিষয়টি আড়াল করতে মরদেহ আটকে রাখা হয়েছে। আমরা দ্রুত মরদেহ ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।’

চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে। তারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এক চিকিৎসক বলেন, ‘একজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি। খুব দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছি।’

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনা হয়। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দোহারে চোরচক্রসহ গ্রেপ্তার ১১

দোহার-নবাবগঞ্জ(ঢাকা) প্রতিনিধি
দোহারে চোরচক্রসহ গ্রেপ্তার ১১
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দোহার উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরচক্রের সদস্যসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দোহার থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দোহার ঘাটার মিরাজের ছেলে সোহাগ (১৯), একই এলাকার মো. রফিকের ছেলে নিরব (২০), সামির মৃধার ছেলে মো. সাইরাজ (১৮) ও মো. শহিদের ছেলে মোহাম্মদ আলী (১৮), মধ্য লটাখোলার মো. জয়নালের ছেলে সাইদুল ইসলাম (১৯), একই এলাকার সামছুদ্দিন বেপারীর ছেলে মাসুম ইকরাম উজ্জল (৩৩), পশ্চিমচরের আ. সামাদ খানের ছেলে মো. সবুজ খান (২৫), বড় রামনাথপুরের মৃত মোহন চোকদারের ছেলে দুদু মিয়া (৫৫), জামালচরের মৃত জামাল খার ছেলে মো. কামাল (২০), একই এলাকার মৃত জালাল খার ছেলে মো. জলিল (২৪) এবং নবাবগঞ্জের সুপরিয়ার খোকনের ছেলে মনির হোসেন (১৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে দোহার থানার এসআই কৃষ্ণ পোদ্দার, এএসআই সোহরাব হাসান তালুকদারের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩ জন চোরচক্রের সদস্য, ১ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ জন এবং ১ জন পূর্বের মামলার আসামিসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে।

দোহার থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুরে নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

শরীয়তপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে মলি আক্তারকে (৪০) মারধর ও চুল কেটে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় অভিযুক্তরা ওই নারীকে মেরেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে মুখে আলকাতরা ও জুতার মালা পরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার উত্তর পালং এলাকার শাবনূর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর পালং এলাকার বাসিন্দা মলি আক্তারের স্বামী বিদেশে কর্মরত। কিছুদিন ধরে প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সঙ্গে তার আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাকে একটি বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দেলোয়ার দপ্তরির ছেলে পলক, মেয়ে মৌসুমী, স্ত্রী আমেনা এবং তাদের এক স্বজন তাকে মারধর করেন। পরে তার চুল কেটে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে তাকে জনসম্মুখে অপদস্থ করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মলি আক্তার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোনো অপরাধ করলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু আমাকে যেভাবে নির্যাতন ও অপমান করা হয়েছে, আমি তার বিচার চাই।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, মলি আক্তারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন সময়ে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে মৌসুমী আক্তার বলেন, মীমাংসার জন্য ডাকা হয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। তিনি আমাদের পরিবারকে নানা ধরনের হয়রানি করে আসছেন।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাতে আগুনে চার ব্যবসায়ীর 'কপাল' পুড়ে ছাই | কালের কণ্ঠ