kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

লাশ রেখে পালাচ্ছিল দম্পতি

ভালো রাখার কথা বলে নিয়ে ২ মাস পর লাশ ফেরত দিল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ১৯:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালো রাখার কথা বলে নিয়ে ২ মাস পর লাশ ফেরত দিল

নিহত মরিয়মের শরীরে আঘাতের চিহ্ন

অনেকগুলো ছেলে মেয়ে। অভাবের সাংসার। একটু ভালো রাখার আশায় মেয়ে মরিয়মকে (৭) এক দম্পতির বাসায় দিয়েছিলেন তার বাবা-মা। ওই দম্পতির সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা করবে-এমন কথা বলে দুই মাস আগে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শিশুটিকে। সেই ছোট্ট শিশুটি দুই মাস পর মায়ের কাছে ফিরল ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মরিয়ম কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের বীর পাইকসা গ্রামের ভ্যানচালক সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।

প্রতিবেশী প্রায়ত নূর উদ্দিনের মেয়ে জান্নাতুল নাইম (২৮) তার সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে মরিয়মকে স্বামী এলাহী শুভর কুমিল্লার বাসায় নিয়ে যান। এলাহী শুভর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রাইভেট কম্পানির চাকরি সূত্রে থাকেন কুমিল্লার দউদকান্দির বুল্লিরপারে। সেই বাসাতেই থাকত মরিয়ম।

বীর পাইকসা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বুধবার ভোরে ওই দম্পতি একটি পাইভেটকারে করে মরিয়মের লাশ গ্রামে নিয়ে আসে। লাশটি কোনোমতে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। লাশের শরীরে অসংখ্য জখমের চিহ্ন দেখে পরিবারের লোকজনের চিৎকার ও কান্নায় স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। এ সময় তারা ওই দম্পতিকে গাড়িসহ আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার রোষানল থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

জখমে ভরা লাশ দেখে মরিয়মের মা কুলসুম বেগম অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, বড়লোকের বাড়িত থাকলে একটু ভালা থাকব, এই আশায় ছিরিডারে দিছিলাম। আমার আদরের মরিয়মরে হেরা কী নির্যাতনই না করছে। আমার মেয়েরে যারা খুন করছে, হেরার বিচার চাই আমি। 

মরিয়মের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, অনেক বলে কয়ে মরিয়মকে নিয়েছিল তারা। গ্রামের মেয়ে তাই সরল বিশ্বাসে তার হাতে তুলে দিয়েছিলাম আদরের সন্তানকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হয়েছে, তাকে প্রথম দিন থেকেই অত্যাচার করা হয়েছে। তার অসুস্থতার খবর পর্যন্ত আমাদের দেওয়া হয়নি। ফোন করলে বলত আপনার মেয়ে ভালো আছে। কাল রাতে ফোন করে একবার জানিয়েছে, মরিয়মের অবস্থা ভালো না। আরেকবার জানায় মেয়ে মারা গেছে, লাশ নিয়ে তারা আসছে। আমি এদের বিচার ছাড়া আর কিছু চাই না। 

পুলিশের কাছে আটক হওয়ার আগে অভিযুক্ত জান্নাতুল নাইমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি মেয়েটিকে নির্যাতন করেননি দাবি করে বলেন, শিশুটি কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল। খাটের নিচে লুকিয়ে থাকত। সেখান থেকে বের করার সময় সে জখম হয়। তার আহত হওয়ার খবর পরিবারকে জানাননি কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

হোসেনপুর থানা পুলিশ জানায়, শিশুটির শরীরে অসংখ্য জখমের চিহ্ন রয়েছে। যা থেকে মৃত্যু হতে পারে শিশুটির। তবে তদন্ত না করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। 

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নূর ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই মামলাটি হবে। এ ব্যাপারে পুলিশি কার্যক্রম চলছে। আর হত্যার কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোগরঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা