kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধরলা, সানিয়াজান ও তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। জনসাধারণের রাস্তা চলাচলে দুর্ভোগ ও ফসলি জমি রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মন্ত্রিপরিষদের কড়া নির্দেশ উপেক্ষা করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে একটি দুষ্টচক্র।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী জানান, কেউ যদি বালুমহাল ইজারা নেয় তাহলে শর্তানুযায়ী বালু উত্তোলন করবে আর যদি কেউ আইনবিরোধী কাজ করে বা অননুমোদীত হয় তাহলে স্থানীয় প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। এটা স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানান।

সরেজমিনে উপজেলার ধরলা নদীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে ট্রলিতে বালু উত্তোলন করে পরিবহনের প্রতিযোগিতা চলছে। বালু ব্যবসায়ী একটি দুষ্টচক্র বিভিন্ন নদী থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালু উত্তোলন করেছে। এ সব বালু বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে মহাসড়কের পাশেসহ পাটগ্রাম পৌরসভা, পাটগ্রাম, বুড়িমারীসহ বিভিন্ন এলাকায়। এতে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ও যান চলাচলে দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন ও পরিবহন হচ্ছে পাটগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোহাগপুর, ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাবার ড্যাম এলাকা, বুড়িমারী ইউনিয়নের গুড়িয়াটারী, বাউরা ইউনিয়নের সানিয়াজান নদী ও দহগ্রাম ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকার তিস্তা নদী থেকে দিন-রাত একটানা চলছে বালু উত্তোলন।

দহগ্রাম ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে দলীয় ক্ষমতাসীন লোকজন জড়িত। তারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

ট্রাকচালক এনামুল হক ও সুমন মিয়া বলেন, লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়কের বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি, বেলতলী ও পৌরসভার কলেজপাড়া, মির্জারকোর্টসহ বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কের পাশে বালু স্তূপ করে রাখে বালু ব্যবসায়ীরা ও ট্রাকে বালু লোড করে। এতে করে যানজট সৃষ্টি হয়। আমাদের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

পৌরসভার সোহাগপুর এলাকার মতিবর রহমান বলেন, ধরলা নদী থেকে বালু খনন করে ট্রলিতে নিয়ে যাওয়ায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি ও চলাচলের রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গত ১১ অক্টোবর অভিযোগ দিয়েছি। তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন নাহারের সাথে কয়েকদিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, নদীর যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে, সেগুলোর নাম মেসেজ করে দিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা