নগরীর তিন ব্যস্ততম সড়ক। সড়কের পাশেই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর ও আবাসিক ভবন। রয়েছে বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। অথচ সড়কগুলো দীর্ঘদিন বিপর্যস্ত।
সড়কগুলো হলো কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ-কোটবাড়ি বিশ্বরোড, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক এবং ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়ক।
সড়ক তিনটি কুমিল্লা শহরের প্রবেশমুখও। অথচ প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেগুলো ভাঙাচোরা, যা যানবাহন চলাচলে ব্যবহারের অনুপযোগী। ফলে যাত্রীদের কাছে সড়কগুলো এখন আতঙ্কের নাম।
স্থানীয়রা জানায়, একটু বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে পানি জমে। তখন সড়কের পানি জমা স্থানগুলোকে মনে হয় একেকটি ছোটখাটো ডোবা। সড়কের কোথাও পিচের অস্তিত্ব নেই, কোথাও ইট-পাথরের খোয়া উঠে গেছে। এসব বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগীদের।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সড়কগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলোর বিভিন্ন অংশে অসংখ্য খানাখন্দ। অল্প বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে। কোনটি সড়কের অংশ আর কোনটি গর্ত, তা বোঝার উপায় নেই।
হালিমানগর ও দৌলতপুর মোড় এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে পথচারী ও হাজার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করছে। গত পাঁচ বছর ধরে এভাবেই চলছে।
সরেজমিন দেখা যায়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ফলে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় অ্যাম্বুলেন্সের গতি কমে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সড়কগুলোতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা সেনানিবাস, বিজিবি সেক্টর হেড কোয়ার্টার্স, কুমিল্লা ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজ , বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, র্যাব কার্যালয় অবস্থিত।
এ ছাড়া কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ, সার্ভে ইনস্টিটিউট, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঞ্চলিক কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন।
কুমিল্লার প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটন এলাকা ময়নামতি জাদুঘর, শালবন বৌদ্ধ বিহারসহ কোটবাড়ি এলাকার দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাওয়া-আসার জন্য প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ব্যবহার করে যে সড়কটি সেটিও বিধ্বস্ত। সড়কটিতে বড় বড় গর্ত যা বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতার মধ্যে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়।
কোটবাড়ি এলাকার সিএনজি চালক গোলাম মোস্তফা ও মো. ইয়াসিন মিয়া বলেন, গাড়িতে যাত্রী উঠলে গালাগালি করে। প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির কোন না কোন যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে সড়কটি এই অবস্থায় আছে। মাঝখানে কিছু ভাঙা ইট-কংক্রিট দেওয়া হয়েছিল। এখন সেগুলোও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আক্তারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, চোখের সামনে দেখছি হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি। কিন্তু করার কিছু নাই। সড়কগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও তা সংস্কার করা হচ্ছে না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, প্রতিদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাস শিক্ষার্থীদের নিয়ে টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি সড়কে আসা-যাওয়া করে। বাসগুলো এ সড়কে চলাচল করতেও ভয় পায়, সড়কের অবস্থা দেখলে মনে হয় না এর কোন তদারকি সংস্থা আছে। মানুষের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানিনা।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা কালের কন্ঠকে বলেন, টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কসহ বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের জন্য টেন্ডারের আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বরাদ্দ এলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।