• ই-পেপার

ছাত্রলীগ নেতার কবজি কেটে নিয়ে পৈশাচিক উল্লাস!

ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইনে হাঁটছিলেন মাদরাসা শিক্ষক, ট্রেনের ধাক্কায় গেল প্রাণ

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইনে হাঁটছিলেন মাদরাসা শিক্ষক, ট্রেনের ধাক্কায় গেল প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মোহাম্মদ হুসাইন (২১) নামের এক মাদরাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যশোর-খুলনা রেলপথের অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকার রহমত ওয়েব্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ হুসাইন উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকার উম্মুলকুরা নূরানী একাডেমি মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের আসাদুজ্জামানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ হুসাইন মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। রহমত ওয়েব্রিজের সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেন তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মৌসুমি ইয়াসমিন বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় এক মাদরাসাশিক্ষককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি যশোর রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।’

পোলট্রি দোকানের আড়ালে মাদক কারবার, ১০৩ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
পোলট্রি দোকানের আড়ালে মাদক কারবার, ১০৩ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় ইয়াবাসহ মর্জিনা আক্তার ওরফে গেন্দি নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ১০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ১৬ হাজার ২৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মর্জিনা উপজেলার বানুরকুটি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আতোয়ার হোসেন মোল্লার মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মর্জিনা দীর্ঘদিন ধরে সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকায় একটি পোলট্রি মুরগির দোকানের আড়ালে মাদক কারবার ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য পরিবহনের কাজে আসা ট্রাকচালক ও পরিবহন শ্রমিকদের কাছে নিয়মিত ইয়াবা ও গাঁজার কারবার করতেন। অতীতে একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলেও কৌশলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যান তিনি।

শুক্রবার স্থানীয় সচেতন জনগণের সহায়তায় পরিচালিত এক অভিযানে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের উপস্থিতিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে তার কাছ থেকে ১০৩ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ১৬ হাজার ২৯০ টাকা জব্দ করা হয়। জব্দ মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫৬ হাজার ২৯০ টাকা।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

পারিবারিক বিরোধে বাবার শাবলের আঘাতে ছেলে নিহত

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পারিবারিক বিরোধে বাবার শাবলের আঘাতে ছেলে নিহত
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার শাবলের আঘাতে নুরুজ্জামান (১৫) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা শরিফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিরামপুর মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিজ বাড়ির মাটির ঘরের কাঠের দরজা সংস্কারের কাজ করছিলেন শরিফুল ইসলাম। এ সময় তাকে সহযোগিতা করছিল ছেলে নুরুজ্জামান। কাজের একপর্যায়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুল হাতে থাকা শাবল দিয়ে ছেলের মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে নুরুজ্জামান।

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ও ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে শরিফুল ইসলাম অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মিরসরাইয়ে চোরকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিলেন এলাকাবাসী

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে চোরকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দিলেন এলাকাবাসী
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে নফল নামাজ পড়ানো হচ্ছে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে তওবা করানোর পর ছেড়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী।  শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে একটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে নিজের ভুল স্বীকার করে তওবা করতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয় এবং ভবিষ্যতে চুরি বা অন্য কোনো অপরাধে জড়াবেন না—এমন অঙ্গীকার নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ খান বলেন, ‘এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। শুক্রবার একটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে সংশোধনের সুযোগ দিতে তওবা করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে থানায় কেউ অবহিত করেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করা হলে তাকে আইন অনুযায়ী পুলিশের কাছে সোপর্দ করা উচিত।’

ছাত্রলীগ নেতার কবজি কেটে নিয়ে পৈশাচিক উল্লাস! | কালের কণ্ঠ