kalerkantho

রবিবার। ১৬ কার্তিক ১৪২৭ । ১ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মানিকগঞ্জে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, বিপাকে খামারি-কৃষক

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ   

২৭ জুলাই, ২০২০ ১৯:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানিকগঞ্জে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, বিপাকে খামারি-কৃষক

মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর তিন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে মাছের ঘের, রাস্তা-ঘাট পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে। এ তিন উপজেলার প্রায় সকল আঞ্চলিক পাকা সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রতিটি গ্রাম। এসব এলাকার বানভাসি মানুষ গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলের সাতটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ সকল অঞ্চলের বন্যাদুর্গত বাসিন্দারা ঘরে মাচা করে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংঙ্কট।

আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জেলার আরিচা-যমুনা পয়েন্টে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার শুরুতেই এসব অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মাঠে থাকা আউশ ও আমন ধান বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে লোকজন। এ ছাড়া এসব এলাকার মানুষের অন্যতম আয়ের উৎসহ হলো কোরবানির পশু পালন। সারা বছর গরু লালন-পালন করে কোরবানির ঈদের আগে বিক্রয় করে থাকে। তবে এবার বন্যার কারণে কোরবানির পশুগুলোর লালন-পালনে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ইতিমধ্যে গরু বিক্রয় শুরু হলেও বন্যার কারণে ন্যায় দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

আলোকদিয়া চরের জলিল শেখ জানান, সারা বছর আমরা গরু পালন করে থাকি। তা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে হাটে বিক্রয় করে সেই টাকা দিয়ে সারা বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে চলি। এবার বন্যার কারণে পশুগুলোর সঠিক যত্ন নিতে পারি নাই। ব্যাপারীরা প্রতি গরুর ২০-২২ হাজার টাকা কম দাম করতেছে।

আরো কয়েকজন কৃষক জানান, মাঠের সকল ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। স্বাভাবিক বন্যা হলেও কমপক্ষে আমন ধান হয়। এবার অস্বাভাবিক বন্যার কারণে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম রহুল আমিন রিমন জানান, আমরা চরাঞ্চলগুলোতে ইতিমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছি। এ ছাড়া সরেজমিনে গিয়ে বন্যা দুর্গতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। প্রাথমিকভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম চলমান রাখা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা