• ই-পেপার

১২ বছরের মামার সঙ্গে ১৪ বছরের ভাগ্নির বিয়ে দিলেন মেম্বার!

ফরিদপুরে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৪

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে রশিদ দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তারা গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মহাসড়কে পরিবহন থামিয়ে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করছিলেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যার আগে সদর উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায় ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে। পরে তাদের কোতোয়ালী থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। পরে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে, তারা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান।

আটকরা হলেন- মো. ফরহাদ হোসেন, মো. দিলু মিয়া, মো. জুলফিকার ও মো. মতি শেখ। তারা সদর উপজেলার বাসিন্দা ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে রশিদ দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। পরে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে অর্থ আদায়ের সময় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে প্রতিটি বাস থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে জানা গেছে, তারা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। শ্রমিক সংগঠনের তহবিলে অর্থ জমা দেওয়া হয়। শ্রমিকদের কল্যানে সংগঠনটি কাজ করে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবহন থেকে টাকা উত্তোলনের সময় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। পরে জানতে পারি চাঁদা আদায়কারীরা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। নিহত-আহত শ্রমিকদের কল্যাণে সংগঠনটি কাজ করে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের জিম্মায় তাদের চারজনকে দেওয়া হয়েছে।’

পরশুরামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর

ফেনী প্রতিনিধি
পরশুরামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর
প্রতীকী ছবি

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর মহম্মদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি।

নিহত গৃহবধূর নাম ননাই বিবি। তিনি উত্তর মোহম্মদপুর গ্রামের জর্দার বাড়ির বাসিন্দা কাশেমের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় ওই গৃহবধূ ঝড়ে ছিঁড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা একটি বৈদ্যুতিক তার দেখতে পান। পথচারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারটি সরানোর চেষ্টা করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

পরশুরাম পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বলেন, ‘মৃত্যুর ঘটনা সত্য। তবে তারটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আমরা ঝুলন্ত তারের বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার সুযোগ হয়নি।’

পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যুর বিষয়টি জানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। নিহতের আত্মীয় স্বজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

বারহাট্টায় ইউপিসদস্যের বসতঘরে মিলল গাঁজা, গ্রেপ্তার ২

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
বারহাট্টায় ইউপিসদস্যের বসতঘরে মিলল গাঁজা, গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার বারহাট্টায় অভিযান চালিয়ে চিরাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের বসতঘর থেকে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সদস্যরা। এই ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দাম বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- এলাকার নৈহাটী গ্রামের নবীনেওয়াজ তালুকদারের ছেলে ইউপিসদস্য ছন্দু মিয়া (৩৮) ও তার সহযোগী একই গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে জুয়েল মিয়াকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএনসি ও থানাসূত্র জানায়, চিরাম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছন্দু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার পরিচালনা করছেন- এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় তার ও জুয়েল মিয়ার টিনশেডের ঘর তল্লাশী করে প্লাস্টিকের পৃথক দুটি ব্যাগে মোড়ানো দুই কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার করলে ছন্দু মিয়া ও জুয়েল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার গাঁজার মূল্য ৬০ হাজার টাকা হতে পারে।

ডিএনসি নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ের এসআই মো. নাজমুল হক বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের বারহাট্টা থানায় হস্তান্তর ও তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রক্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

দিনাজপুর

বিল দিতে না পারায় প্রসূতিকে আটকে রাখার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্তি

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বিল দিতে না পারায় প্রসূতিকে আটকে রাখার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্তি
ছবি: কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় সদ্য সন্তান হারানো এক প্রসূতিকে হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার ল্যাম্ব হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর মাঝাপাড়া গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছয় দিন বয়সী অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে গত বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হন ওই মা। হাসপাতালের নারী ও শিশু ওয়ার্ডে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে শিশুটি মারা যায়।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা বিল পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি মাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। তবে নবজাতকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফলে মায়ের অনুপস্থিতিতেই শিশুটির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সময়ে কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে ইউএনও তাদের সেখানে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি দ্রুত দেখছেন।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১ ঘণ্টার মধ্যে প্রসূতি মাকে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ইউএনও। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনা খরচে অথবা বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সদ্য সন্তানহারানো এক মাকে চিকিৎসা বিলের কারণে আটকে রাখা মানবিকতার পরিপন্থী। বিষয়টি জানার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ল্যাম্ব হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইমন বলেন, রোগীকে আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিল পরিশোধে সহায়তার আশ্বাস পাওয়ার পর রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

তবে রোগীর স্বজনরা দাবি করেছেন, চিকিৎসা বিল পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত প্রসূতি মাকে হাসপাতাল ছাড়তে দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

১২ বছরের মামার সঙ্গে ১৪ বছরের ভাগ্নির বিয়ে দিলেন মেম্বার! | কালের কণ্ঠ