• ই-পেপার

ময়মনসিংহে সিসি ক্যামেরায় ধরা ৩ মোটরসাইকেল চোর

সন্দ্বীপে দেশীয় অস্ত্রসহ ৭ জলদস্যু আটক

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সন্দ্বীপে দেশীয় অস্ত্রসহ ৭ জলদস্যু আটক

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ ডাকাতির মালামালসহ ৭ জন জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এসময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি ফিশিং বোটও জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার বিএন সুমন আল মুকিতের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

​কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৯ জুলাই বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানাধীন দক্ষিণ উপকূল এলাকায় একটি ফিশিং বোট জলদস্যুদের কবলে পড়ে। ডাকাতির শিকার হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল করে কোস্ট গার্ডকে বিষয়টি জানান।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ড ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করে।

​গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সন্দ্বীপের চৌধুরী বাজার ঘাটসংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট সারিকাইত ও স্থানীয় পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি ফিশিং বোটসহ ৭ জন জলদস্যুকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা গত ৯ জুলাইয়ের ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আটক জলদস্যুদের ব্যবহৃত ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতি হওয়া বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার মালামালের মধ্যে রয়েছে আনুমানিক ৪৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের ৯৫ হাজার মিটার সুতার জাল, ১১০ লিটার ডিজেল, মোবাইল ফোন ৫টি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র।

আটক জলদস্যু ও জব্দ আলামত এবং উদ্ধার হওয়া মালামালের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ওয়ালটনের ৯.৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ: শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ওয়ালটনের ৯.৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ: শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
শামীম হোসেন

টেক জায়ান্ট ওয়ালটনের ৯.৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এালাকার আগানগরে অবস্থিত কম্পানির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘হীরা ইলেক্ট্রনিক্স’-এর মালিক শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের কাজই হলো আদালতের পরোয়ানার তামিল করা। যার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হবে তাকে আমরা দ্রুত খুঁজে আইনের কাছে সোপর্দ করব।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওয়ালটনের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শামীম হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। কম্পানির আইন বিভাগের অ্যাডিশনাল অপারেটিভ ডিরেক্টর মো. ফিরোজ খান বাদি হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৬ এপ্রিল আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ৯ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মাহাফুজুর রহমান আসামির জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরোয়ানা জারির দিন শামীম আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। কিন্তু চতুর শামীম আগে থেকে আঁচ করতে পেরে আদালত পাড়া থেকে শটকে পড়েন। 

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, মো. শামীম হোসেন (৪০), জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৮৬১১৪৫১৮৮৭১৯৮, বাবা মো. শুকুর খন্দকার, ১নং আসামি এবং তার স্ত্রী সানজিদা বিনতে কামাল (৩০), জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৭৩০১৮৮৭৬৫৪, ২নং আসামি।

মামলার বাদী এজাহারে অভিযোগ করেন, শামীম আগানগর কেরানীগঞ্জে ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এক্সক্লুসিভ ডিলার হিসেবে মনোনীত হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ গত ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট এক্সক্লুসিভ ডিলার হিসেবে আগানগর, কেরানীগঞ্জের জন্য মনোনীত করেন। উক্ত আসামি তার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ‘হীরা ইলেকট্রনিক্স’-এর নামে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন।

পরবর্তীতে শামীম তার স্ত্রী ও মামলার ২ নম্বর আসামিকে জামিনদার হিসেবে মনোনীত করেন ও তার অবর্তমানে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষমতা দেন। আসামিরা ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে নগদে ও বাকিতে লেনদেন করে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের বিশ্বস্ততা অর্জন করে। আরো বাকিতে পণ্য চাইতে থাকে এবং আশ্বাস দেয় যে, শিগগিরই বাকিতে দেওয়া পণ্যের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

পরবর্তীতে প্রতারণামূলক এবং অসাধুভাবে কম্পানির পণ্য ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণে ওয়ালটন পণ্য বাকিতে ক্রয় করে কম পরিমাণে টাকা পরিশোধ করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিদের কাছে পাওনা পর্যায়ক্রমে অধিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট হইতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসামিদের বরাবর ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র বকেয়ার পরিমাণ বেড়ে মোট ৯ কোটি ৫৭ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৮.৮৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। 

জানা গেছে, কম্পানির বকেয়া পাওনা আত্মসাৎ করতে আসামি নানান টালবাহানা শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে কম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কম্পানি পরিবেশক শামীমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যার প্রেক্ষিতে আদালত শামীমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

দালালমুক্ত দুর্গাপুর ভূমি অফিস, বেড়েছে সেবার মান

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
দালালমুক্ত দুর্গাপুর ভূমি অফিস, বেড়েছে সেবার মান

একসময় ভূমি অফিস মানেই ছিল দীর্ঘসূত্রতা, দালালের দৌরাত্ম্য আর বাড়তি টাকার গল্প। সেই চিত্র এখন পাল্টে গেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায়। গত বছরের ১৫ অক্টোবর দুর্গাপুরে যোগদান করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ভূমি সেবাকে জনবান্ধব করে তুলেছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের পাশাপাশি লক্ষণখলসী, সিংগাহাট ও উজানখলসী ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার নির্দেশে প্রতিটি অফিসে সেবা ফ্রি ও ধাপের তালিকা টাঙানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বাক্স। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মনিটরিংয়ে। 

তিনি প্রতি মাসে তিনটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কেউ অতিরিক্ত টাকা চাচ্ছে কিনা তা নিজে যাচাই করেন। এর ফলেই এখন দুর্গাপুরের সব ভূমি অফিস দালাল ও ঘুষমুক্ত বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

সিংগাহাট ইউনিয়নে নামজারি করতে আসা আজিজুল ইসলাম বলেন, আগে একটা কাজের জন্য ৪-৫ বার আসতে হতো। এখন একবারেই হয়ে যায়। ম্যাডাম নিজে এসে আমাদের খোঁজ নেন। বাড়তি টাকার কথা কেউ বলতেও সাহস পায় না। লক্ষণখলসী ইউনিয়নের মো. রহিদ ইসলাম, আব্দুল হালিম, শফিকুল ও জহুরুল ইসলাম বলেন, একজন নারী কর্মকর্তা যে সাহস নিয়ে কাজ করছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। অফিসের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে। 

সবাই এখন সময় মতো অফিস করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, লায়লা নূর তানজুর কঠোর অবস্থানের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জবাবদিহিতা বেড়েছে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশন (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন, ভূমি সেবা মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা। আমি চাই প্রত্যেক নাগরিক যেন হয়রানি ছাড়া সেবা পান। অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এই ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত মনিটরিং চলবে। 

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান বলেন, মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলার প্রতিটি উপজেলায় হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি। লক্ষ্য একটাই - জনগণকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দালাল মুক্ত সেবা দেওয়া। ভূমি ব্যবস্থাপনায় এই স্বচ্ছতার কারণে দুর্গাপুরকে এখন জেলার অন্যান্য উপজেলার জন্য রোল মডেল হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

নারায়ণগঞ্জে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার যুবক

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার যুবক

নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ মো. আনন্দ (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর থানার হাজীগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তারের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. আনন্দ ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকায় থাকেন।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আনন্দ দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ র‍্যাব-১১-এর কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক বলেন, গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।

ময়মনসিংহে সিসি ক্যামেরায় ধরা ৩ মোটরসাইকেল চোর | কালের কণ্ঠ