মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্থান। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদীপারের বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, নদীটি এর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এখন আতঙ্কের নাম। প্রতিবছর বর্ষা এলেই আগ্রাসী হয়ে ওঠে এ নদী। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়ে। এতে নদীটির প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়ে। তারা জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অন্তত ১৫টি স্থান ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে ইসলামপুরের মখাবিল, হখতিয়ারখোলা, মাধবপুরের হিরামতি, কাটাবিল, আদমপুরের ঘোরামারা, শুকুর উল্লাগাঁও, কমলগঞ্জ সদরের লংগুরপার, চৈতন্যগঞ্জ, পৌরসভার কুমড়াকাপন, করিমপুর, রহিমপুরের চৈত্রগাট, উবাহাটা, খুশালপুরসহ উপজেলার প্রায় ১৫টি স্থানে মাটি ধসে পড়ায় বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এককটি স্খানে ৫০ থেকে ১০০ ফুটজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়।
শনিবার (৬ মে) সরেজমিনে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লঙ্গুরপার, হীরামতি, চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের এসব এলাকায় মাত্র এক ফুট অংশ বাকি রয়েছে ভাঙার। এতে আতঙ্কে রয়েছে শতাধিক পরিবার।
বাঁধের দূরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, জরুরিভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জিও ব্যাগ বা ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানো প্রয়োজন। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ব্যবস্থা না নিলে বিপদে পড়তে হবে তাদের। তবে বার বার বাঁধ মেরামত না করে নতুন করে পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার দাবি তাদের।
লঙ্গুরপার গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৌলেন্দ্র কুমার ভৌমিক বলেন, আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। রাস্তাও বন্ধ। বাঁধের পাড় মাত্র এক ফুট ভাঙতে বাকি। তিনি বলেন, এখানকার প্রতিরক্ষা বাঁধ এখন অত্যন্ত দুর্বল। দ্রুত সংস্কার করা না হলে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
একই কথা বলেন ঘোরামারা এলাকার বাসিন্দা তাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘নদী আমাদের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর আমরা শুধু আশ্বাস পাই, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। বর্তমানে বাঁধের যে অবস্থা, তাতে সামান্য বৃষ্টি হলেই আমরা আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাই। জরুরিভিত্তিতে সিসি ব্লক বা টেকসই মেরামতের ব্যবস্থা না করলে এবার ঘরবাড়ি রক্ষা করা কঠিন হবে।’
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী গৌতম রঞ্জন দাস (কমলগঞ্জে দায়িত্বরত) বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করার চেষ্টা করছি। যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দেখা দিয়েছে, তা জরুরিভাবে মেরামত করা হবে। তিনি বলেন, লঙ্গুরপার ও কুমড়াকাপন বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছাদুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত ধসে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।