মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিন্জি বসতি এলাকায় যৌথ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করেছে বন বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা বিভিন্ন বাগান, স্থাপনা ও একটি অবৈধ পুকুর অপসারণের মাধ্যমে ভূমিটি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কমলগঞ্জ থানা পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি ও উচ্ছেদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে সেখানে মাল্টা, আনারস, লেবু ও সুপারির বাগান গড়ে তুলে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে আসছিল। যৌথ অভিযানে এসব অবৈধ চাষাবাদ সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানের সময় অবৈধভাবে নির্মিত দুটি বাঁশ ও পলিথিনের শেড এবং একটি ওয়াচার শেড ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক জলাশয়ে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা অবৈধ পুকুরের পাড় কেটে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুনঃস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে নতুন করে কেউ যাতে বনভূমি দখল করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হবে।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, উদ্ধার হওয়া বনভূমি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন আইন অনুযায়ী বন মামলা (পিওআর) দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, ‘বনভূমি দখল ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরো জানান, দখলমুক্ত স্থানে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি’ বৃক্ষরোপণের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের মাধ্যমে বনায়ন সৃজন করা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করার এ ধরনের উদ্যোগ বন সংরক্ষণ, জলাধার রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বনভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে অবৈধ দখল অনেকাংশে কমে আসবে।






