• ই-পেপার

সরকারি রাস্তায় দেয়াল!

পাখির ডাকে ঘুমায়, পাখির ডাকে জাগে

মাজহারুল ইসলাম মিশু, আঞ্চলিক প্রতিনিধি (ময়মনসিংহ)
পাখির ডাকে ঘুমায়, পাখির ডাকে জাগে
ছবি: কালের কণ্ঠ

ধনভাঙ্গা গ্রামটি পরিচিত পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে। অনেকে পাখির গ্রাম বলেও ডাকে। প্রায় তিন দশক ধরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামের মানুষ পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে, আবার পাখির ডাকে জাগে।  

গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে বট, নিম, তেঁতুল, আম আর  বাঁশঝাড়। রয়েছে আরো নানা প্রজাতির ছোট বড় গাছ। সেসব গাছের ডালে ডালে রাতচোরা, শামুকখোল, সাদা বক, কানা বক, শঙ্খচোরার সংসার। বাসা বেঁধেছে পানকৌড়ি ও হরিয়ালের মতো পাখিও।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন দশক ধরে বৈশাখ মাসে পাখিরা সেখানকার গাছে গাছে বাসা বাঁধে, ডিম দেয়। জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসের দিকে বাচ্চা ফোটে। বাচ্চারা বড় হয়ে উড়তে শিখলে শীতের শুরুতে তারা অন্যদিকে চলে যায়। আবার বৈশাখ মাস এলে পাখিরা এখানে ভিড় করে। তবে সব পাখি চলে যায় না। সাদা বক ও পানকৌড়ির একটি অংশ সারাবছর এখানেই থাকে। ছবি: কালের কণ্ঠ

বাসিন্দারা আরো জানান, ধনভাঙ্গা গ্রামের মানুষ পাখিগুলোকে নিজেদের সন্তানের মতো ভালোবাসে। কেউ যেন পাখিদের বিরক্ত না করে, সে বিষয়ে তারা সবসময় সতর্ক চোখ রাখেন। প্রতিদিন ভোরে আহার সংগ্রহে বের হয়ে সন্ধ্যার আগেই পাখিগুলো তাদের নীড়ে ফেরে। পাখিদের এ সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, পাখিগুলো আমাদের গ্রামকে মুখর রাখে। কেউ যেন ক্ষতি না করে, সে জন্য আমরা সবাইকে সচেতন করি। এলাকার মানুষ এখন পাখিদের অভিভাবক। অনেক সময় ঝড়ে বাসা থেকে পাখির ছানা নিচে পড়ে আহত হয়। আমরা সে ছানাকে আবার ওপরে তুলে দিই। তবে এখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নজরধারী থাকলে পাখিরা সঠিক চিকিৎসা পেতো।

হালুয়াঘাট সদর থেকে আসা দর্শনার্থী জাকির হোসেন ও রফিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখানে পাখিদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এত পাখি একসঙ্গে আমরা কোথাও দেখিনি। গ্রামের মানুষ এসব পাখিকে বিরক্ত করে না, এটা খুব প্রশংসনীয়। সরকারের উচিত পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া।

ধনভাঙ্গা গ্রামে পাখির অভয়ারন্যউপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, পাখি প্রকৃতির অনন্য সম্পদ। অতিথি পাখিরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কারণে কোনো পাখি আঘাত পেলে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সেবা দেব।

গভীর রাতে এলাকাবাসীর হাতে আটক ইমাম, বিয়ে করতে চাইলেন নারী

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
গভীর রাতে এলাকাবাসীর হাতে আটক ইমাম, বিয়ে করতে চাইলেন নারী
প্রতীকী ছবি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া এলাকায় এক নারীর বাড়ি থেকে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামকে আটক করেছে এলাকাবাসী। শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া জামে মসজিদ (টাঙ্গাইল পাড়া)-এর ইমাম মো. সেলিমকে মৃত আল আমিনের স্ত্রী মোছা. শানু বেগমের ঘরে দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হন এবং তাকে আটক করেন।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় এক দশক ধরে মো. সেলিম ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মো. সেলিম বলেন, ‘গত প্রায় দেড় মাস ধরে আমাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রেই আমি রাতে তার বাড়িতে যাই। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে আটক করেন।’

শানু বেগম বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।’

রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বরিশালে বাসার এসির ভেতর থেকে ৪টি সাপ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে বাসার এসির ভেতর থেকে ৪টি সাপ উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

বরিশালে একটি বাসার বেডরুমের এসির ইনডোর ইউনিট থেকে চারটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

সামাজিক বন বিভাগের বরিশাল সদর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, চারটি সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রবিবার সকালে সাপগুলোকে নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামের হাজীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জীবুল হক সেন্টুর বাড়ির বেডরুমের এসি থেকে সাপগুলো উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন এনিম্যাল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা।

বাড়ির মালিক জীবুল হক সেন্টু জানান, শুক্রবার রাতে তিনি বেডরুমের এসির নিচের অংশে একটি সাপের লেজ দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করেন এবং ওই কক্ষে প্রবেশ বন্ধ রাখেন।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে এনিম্যাল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর শনিবার বিকেলে সংগঠনটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

সংগঠনটির পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, দীর্ঘ চেষ্টার পর চারটি সাপ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরো একটি সাপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো জানান, এসির ভেতরের উষ্ণ ও নিরাপদ পরিবেশের কারণে সাপগুলো সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে চারটি এবং নগরীর সাগরদী এলাকায় একটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ময়লা থেকে উৎপাদন হবে জৈব সার ও বায়োগ্যাস

মাদারীপুর প্রতিনিধি
ময়লা থেকে উৎপাদন হবে জৈব সার ও বায়োগ্যাস
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট। এটি চালু হলে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরি করা হবে। স্বল্পদামে এই সার কৃষি জমিতে ব্যবহার করতে পারবেন প্রান্তিক চাষিরা। এতে যেমন ফসল উৎপাদন বাড়বে, তেমনি তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, শিবচর পৌরসভার চরশাম্যাইল ও শ্যামাইল মৌজায় ২ দশমিক ৬৮ একর জমিতে ২০২৩ সালে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে টার্ন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। মোট জমির ১ দশমিক ৫৪ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন আর বাকি ১ দশমিক ১৪ একর খাস জমিতে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই ব্যক্তি মালিকানা ১ দশমিক ৫৪ একর জমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করে জনস্বাস্থ্য বিভাগ। অধিগ্রহণের পর ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। তবে অধিগ্রহণের ৩ বছর পার হলেও এখনো ক্ষতি পূরণের কোনো টাকা পাননি ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শিবচর পৌরসভার বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে এই ইউনিটের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন করা হবে জৈব সার। বায়ুদূষণ রোধ এবং পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে তুলতেই এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের অর্থায়নে প্রথম দুই বছর জৈব সার উৎপাদন করবে। এরপর সরকারিভাবে এই সার উৎপাদন করা হবে।

 
 
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিবচরে ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা সমস্যা ছিল। এই প্রকল্প চালু হলে শহর আরো পরিচ্ছন্ন হবে। এছাড়া অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’

কৃষক হামেদ শিকদার বলেন, ‘বর্তমানে রাসায়নিক সারের দাম অনেক বেশি। যদি এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত জৈব সার স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের চাষাবাদের খরচ কমবে। জৈব সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বাড়বে ও মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এতে ভালো ফলনের পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। আমরা প্রকল্পটি দ্রুত চালু করার দাবি জানাই।’

উপশহরের বাসিন্দা আলী আকবর খান বলেন, ‘উপশহরে শেষ মাথা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। দুর্গন্ধে ঠিকমতো নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি দুর্গন্ধের কারণে মসজিদে নামাজ আদায় করতেও সমস্যা হয়। তাই দ্রুত আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করে আমাদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

শিবচর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শামীমা নাসরিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পটি চালু হলে শিবচর পৌরসভার চেহারা পাল্টে যাবে। সড়কে আর ময়লা থাকবে না। বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা আবর্জনা এখানে আনা হবে, প্রক্রিয়াজাত হয়ে তৈরি হবে জৈব সার। সাধারণ কৃষকরা কম খরচে সার কিনে জমিতে ব্যবহার করতে পারবে। সব মিলিয়ে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানে বড় পরিবর্তন আসবে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’

সরকারি রাস্তায় দেয়াল! | কালের কণ্ঠ