• ই-পেপার

ঢাবিতে নারী হেনস্তার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ঢাবির ভিসি চত্বরে তরুণকে আটকে মুক্তিপণ দাবি, সাবেক শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন ডেস্ক
ঢাবির ভিসি চত্বরে তরুণকে আটকে মুক্তিপণ দাবি, সাবেক শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে এক তরুণকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

শনিবার (২৭ জুন) ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের শ্বশুর মাসুম চৌধুরী বাদী হয়ে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় আরো দুজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাজিদ হাসান ও তার এক বন্ধুকে ধরে নিয়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আটকে রাখা হয়। পরে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ তুলে সাজিদের পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর শ্বশুর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে এ সময় আরো দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আটক অবস্থায় থাকা তরুণের পকেট থেকে এক যুবক ইয়াবা বের করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, যার পড়াশোনা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া পলাতকদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে দাবি করে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি অপহরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এ বিষয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তারা গ্রেপ্তার হলে পুরো ঘটনার নেপথ্য সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা পরে জানতে পেরেছি। তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বিষয়টি এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।’

অবসর সুবিধা বোর্ডে ঝুলে আছে ৬৭ হাজার আবেদন : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অবসর সুবিধা বোর্ডে ঝুলে আছে ৬৭ হাজার আবেদন : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে।’ 

রবিবার (২৮ জুন) সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ প্রশ্ন রেখে বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দ অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন ধরে অবসরকালীন ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বসর প্রাপ্তির ৩ মাস হইতে ৬ মাসের মধ্যে অবসরকালীন ভাতাদি পাওয়ার ব্যবস্থা নিবেন কি না?

জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ সুবিধা দ্রুত প্রদানের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষক/কর্মচারী গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৮,৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অবসর তহবিলে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ফলে প্রায় ৭,৪১০ কোটি টাকার অর্থ ঘাটতি বিদ্যমান।

মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে আগস্ট ২০২৩ থেকে ২১-জুন, ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৩,১৫০ কোটি টাকার এককালীন বরাদ্দ প্রয়োজন।

সরকার ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর জন্য সফটওয়্যার পুনরায় চালুকরণ, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরাসরি, শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ হচ্ছে বিসিএস কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ হচ্ছে বিসিএস কর্মকর্তা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা শাখাপ্রধান হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে সুশাসন, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি আলোচিত ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।

এ জন্য ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে সরকার। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজন মনে করলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে উপযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা অথবা বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দিতে পারবে বলে সমকাল একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, গভর্নিং বডির ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষার মান অবনতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রথমে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেখানে শিক্ষা ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে।

তবে শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ মানদণ্ড এবং প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নতুন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘শিক্ষা ক্যাডার থেকে কর্মকর্তাদের অধ্যক্ষ করে পাঠালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। বরং মনিটরিং আর জবাবদিহি সুনিশ্চিত করা না গেলে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসবে না। যারাই যে দায়িত্ব নেবেন, সেই কর্মকর্তাদের সেখানকার জবাবদিহি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।’
 

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাবির সপ্তম সমাবর্তন : উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাবির সপ্তম সমাবর্তন : উপাচার্য
সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সপ্তম সমাবর্তন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ৪৩তম বার্ষিক অধিবেশনে উপাচার্যের ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সপ্তম সমাবর্তন আয়োজন করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।’ তবে এর আগে গত বছরের সিনেট অধিবেশনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সমাবর্তন করার কথা জানিয়েছিলেন উপাচার্য।