kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

৭৪ পয়সায় শুকানো যা্বে ১ কেজি ধান

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭৪ পয়সায় শুকানো যা্বে ১ কেজি ধান

প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানকে চাল এবং চালকে ভাত করে খাবার টেবিলে পৌঁছাতেই ১৪ ভাগই অপচয় হয়। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ধান শুকাতে প্রচুর দুর্ভোগও পোহাতে হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার (ধান শুকানো যন্ত্র)। বিদ্যুৎ ব্যবহারে এ যন্ত্রটিতে মাত্র ৭৪ পয়সায় ১ কেজি ধান শুকানো যাচ্ছে। জ্বালানি হিসাবে ডিজেল ব্যবহারে যন্ত্রটিতে মাত্র ৮৭ পয়সায় প্রতিকেজি ধান শুকানো যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ড্রায়ার পরীক্ষামূলকভাবেও ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে- এ ড্রায়ারে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় ৫ শ কেজি ধান শুকানো যায়। আর ধান বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতাও থাকছে প্রায় ৯০ ভাগ। এখন দরকার যন্ত্রটির ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ।

বুধবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) 'সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার মেকানাইজেশন অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্টে প্রাকটিস ইন বাংলাদেশ' এর বার্ষিক কর্মশালায় কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল আলম মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন। অ্যাপ্রোপিয়েট স্কেল ম্যাকানাইজেশন ইনোভেশন হাব (আস্মি) বাংলাদেশ, পোস্ট হারভেস্ট লস রিডাকশন ইনোভেশন ল্যাব বাংলাদেশ ফেজ (২) এবং বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ যৌথভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ওই কর্মশালার আয়োজন করে। 

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির সাবেক উপাচার্য ও অ্যামিরিটাস অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মন্ডল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আগে বিদেশ থেকে যন্ত্র আনার ক্ষেত্রে যন্ত্রের গুণগতমান পরীক্ষা করা হতো না। কিন্তু আমরা এখন এ বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখছি। বর্তমানে দেশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে যন্ত্র আবিষ্কার করা হচ্ছে। এতে আমাদের কৃষি লাভজনক হয়েছে, কমেছে যন্ত্র আমদানিতে পরনির্ভরশীলতা। আবার দেশে কোনো কৃষি প্রযুক্তি ছড়ানোর আগে তার টেকসই ও স্থায়িত্বের বিষয়টি ও উৎপাদন খরচ কিভাবে কমানো যায় সে বিষয়গুলো মাথায় রাখা অতি জরুরি। প্রযুক্তিগুলো ব্যাপকভাবে কৃষকের দোড়গোড়াই পৌঁছাতে সরকারের ভতুর্কি যেন সঠিকভাবে পৌঁছায় সেদিকেও নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি। 

অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিদেশ থেকে কেবল যন্ত্র আনলেই হবে না। সে যন্ত্রটির মেশিন-পার্টসগুলো যেন সহজে পাওয়া যায় সেদিকও নজর রাখা জরুরি।

কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল হক। পরে একটি টেকনিক্যাল সেশনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বি কে বালা। এ সময় আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল, বিএডিসির মুখ্য প্রকৌশলী মো. লুৎফুর রহমান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা