• ই-পেপার

ইসলামী অর্থনীতির স্বরূপ ও সুফল

ঘরে জ্বিন-শয়তানের প্রভাব  প্রতিরোধে ইসলামী নির্দেশনা

মুফতি ওমর বিন নাছির
ঘরে জ্বিন-শয়তানের প্রভাব  প্রতিরোধে ইসলামী নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

মানবজীবন শুধুমাত্র দৃশ্যমান জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর পাশাপাশি একটি অদৃশ্য জগতও রয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা জ্বিন ও শয়তান জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। তারা মানুষের মতোই একটি বাস্তব সৃষ্টি, যারা মানুষের ঈমান, চিন্তা ও আমলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তবে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য তাদের থেকে নিরাপদ থাকার পথও দেখিয়ে দিয়েছেন— তা হলো কোরআন, সুন্নাহ এবং জিকির-আজকারের মাধ্যমে আত্মরক্ষা।

ইসলাম আমাদেরকে শিখিয়েছে যে ঘরকে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাই যথেষ্ট নয়; বরং ঘরের আধ্যাত্মিক নিরাপত্তার দিকেও মনোযোগ দিতে হয়। তাইতো মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে এমন কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেগুলো অনুসরণ করলে ঘর শয়তানের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকে। নিচে ঘরের কিছু নির্দিষ্ট স্থান এবং সেখানে শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার সুন্নাহসম্মত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো।

১. বিছানা ঝেড়ে ঘুমানো
ঘুম মানুষের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থাগুলোর একটি, যখন মানুষ সম্পূর্ণ অচেতন থাকে। তাই ঘুমানোর আগে মহানবী (সা.) বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন বিছানায় যাবে, সে যেন তার কাপড় দিয়ে বিছানাটি ঝেড়ে নেয় এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে; কারণ সে জানে না তার পরে সেখানে কী এসেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩২০, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭১৪)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিছানা পরিষ্কার রাখা এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করা শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

২. অগোছালো কাপড় ও ঘরের আসবাবপত্র গুছিয়ে রাখা
ইসলাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ঘরের জিনিসপত্র অগোছালো রাখা কেবল দৃষ্টিকটু নয়; বরং এটি শয়তানের জন্য অশান্তির সুযোগ তৈরি করে। মহানবী (সা.) ঘুমানোর আগে ঘরের পাত্র ঢেকে রাখা, দরজা বন্ধ রাখা এবং আগুন নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যা ঘরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতি গুরুত্ব নির্দেশ করে। অতএব, কাপড়-চোপড় ও ঘরের জিনিসপত্র অগোছালো রাখা থেকে বিরত থাকা সুন্নাহসম্মত একটি সুন্দর অভ্যাস।

৩. ওয়াশরুম পরিস্কার রাখা ও দোয়া পড়ে প্রবেশ করা 
বাথরুম বা শৌচাগার এমন একটি স্থান, যেখানে মানুষ একাকী ও অরক্ষিত অবস্থায় প্রবেশ করে। তাই এখানে প্রবেশের আগে মহানবী (সা.) বিশেষ দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই এই শৌচাগারগুলোতে (অশুভ শক্তির) উপস্থিতি থাকে। তাই তোমাদের কেউ প্রবেশ করলে সে যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস।’(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২)
এটি প্রমাণ করে যে, এই স্থানে প্রবেশের সময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।

৪. রান্নাঘর ও আগুনের ব্যাপারে সতর্ক থাকা
রান্নাঘর ঘরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে আগুন ও তাপ ব্যবহার করা হয়। ইসলাম অগ্নি নিরাপত্তার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক সতর্কতার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে।  ঘুমানোর আগে আগুন নিভিয়ে রাখতে বলেছেন, যাতে কোনো অনিষ্ট না ঘটে। অনেক আলেমের মতে, ঘরের আগুন বা চুলার আশেপাশে অসতর্কতা ও বিশৃঙ্খলা শয়তানের প্রভাবের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই রান্নাঘরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে রাখা ইসলামী শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত।

৫. দরজা-জানালা ও ঘরের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা
ঘরের নিরাপত্তার জন্য দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দরজা বন্ধ করো এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো; কারণ শয়তান এমন দরজা খুলতে পারে না যা আল্লাহর নাম নিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩০৪)
এটি ঘরের আধ্যাত্মিক সুরক্ষার এক শক্তিশালী মাধ্যম।

শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আরো কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা:
১. নিয়মিত আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা। 
২. ঘরে সুরা বাকারা তিলাওয়াত করা। 
৩. ঘুমের আগে ও সকালে-সন্ধ্যায় জিকির করা।
৪. ঘর প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দোয়া পাঠ করা।
৫. ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। 

অতএব, ঘরকে শুধু বসবাসের স্থান নয়, বরং ইবাদতের পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহর জিকির, কোরআনের তিলাওয়াত এবং সুন্নাহভিত্তিক জীবনই আমাদের ঘরকে প্রশান্তি, রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ করতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর আশ্রয়ে সুরক্ষিত রাখুন এবং শয়তানের সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন।


 

মধ্য এশিয়ার গর্ব : নুর সুলতান গ্র্যান্ড মসজিদ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মধ্য এশিয়ার গর্ব : নুর সুলতান গ্র্যান্ড মসজিদ
সংগৃহীত ছবি

মধ্য এশিয়ার হৃদয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানার দৃষ্টিনন্দন নুর সুলতান গ্র্যান্ড মসজিদ। আধুনিক স্থাপত্য, ইসলামী শিল্পকলার সৌন্দর্য এবং জাতীয় ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়ে নির্মিত এই মসজিদ আজ শুধু কাজাখস্তানের নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। 

মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে পরিচিত এই মহিমান্বিত স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছে প্রায় ১০ হেক্টর (প্রায় ২৫ একর) ভূমির ওপর। বিশাল এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন, যা একে বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর কাতারে স্থান দিয়েছে।

আকাশছোঁয়া মিনার ও বিশাল গম্বুজ
মসজিদের চার কোণে স্থাপিত চারটি সুউচ্চ মিনারের প্রতিটির উচ্চতা ১৩০ মিটার। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মিনারগুলো যেন রাজধানীর আকাশরেখাকে স্পর্শ করেছে। মসজিদের কেন্দ্রীয় গম্বুজের ব্যাস ৬২ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৯০ মিটার, যা বিশ্বের বৃহত্তম গম্বুজগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। প্রধান গম্বুজকে ঘিরে রয়েছে আরো ৭২টি ছোট গম্বুজ, যা পুরো স্থাপনাটিকে দিয়েছে এক অনিন্দ্যসুন্দর ও রাজকীয় আবহ। নীল, সাদা ও সোনালি রঙের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই স্থাপত্য যেন ইসলামী সভ্যতার সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

আধুনিক প্রযুক্তি ও ইসলামী স্থাপত্যের অসাধারণ সমন্বয়
মসজিদটির নকশা প্রণয়ন করেছে দুবাইভিত্তিক দিওয়ান আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স। স্থপতিরা এমনভাবে পরিকল্পনা করেছেন যাতে স্থাপনাটির বিশালতা, নান্দনিকতা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে সুশোভিতভাবে মিশে যায়। গম্বুজ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষ হালকা স্টিল ফ্রেম, যার ফলে মসজিদের প্রধান নামাজঘরটি প্রায় স্তম্ভবিহীন রাখা সম্ভব হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি একসঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করতে পারেন।

আলো-ছায়ার মোহনীয় জগৎ
মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা। গম্বুজ, দেয়াল, খিলান এবং কার্পেটের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক এলইডি প্রযুক্তি ও কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত লাইটিংব্যবস্থা। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এসব আলো প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। জুমা, রমজান, ঈদ কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা ভিন্ন ভিন্ন আবহ সৃষ্টি করে, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

কিবলা দেয়ালে আল্লাহর ৯৯ নাম
মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর কিবলামুখী দেয়াল। সেখানে কুফি ক্যালিগ্রাফিতে অত্যন্ত নান্দনিকভাবে অঙ্কিত হয়েছে আল্লাহ তাআলার ৯৯টি পবিত্র নাম। জ্যামিতিক নকশা, কাচের ব্যাকলিট মোজাইক এবং সোনালি আলোকছটার সমন্বয়ে এই দেয়াল এক অপার্থিব সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। নামাজরত মুসল্লিরা যখন কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ান, তখন আলোকিত এসব নাম তাদের হৃদয়ে আল্লাহর মহিমা ও স্মরণকে আরো গভীর করে তোলে। এ কারণেই স্থপতিরা এই অংশকে মসজিদের ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করেন।

জাতীয় পরিচয় ও ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতিফলন
মসজিদের বাহ্যিক অংশে ব্যবহৃত সাদা পাথর, নীল ও সোনালি রং কাজাখস্তানের জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং কাজাখ জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতীক। মসজিদের চারপাশের প্রাঙ্গণ পাঁচটি অংশে বিভক্ত, যা প্রতীকীভাবে ইসলামের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের স্মারক। চারদিকে সুনিপুণ বাগান, খোলা প্রাঙ্গণ ও শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনে প্রশান্তির অনুভূতি জাগায়।

ইবাদতের পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র
নুর সুলতান গ্র্যান্ড মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ও সামাজিক কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে আধুনিক গ্রন্থাগার, কনফারেন্স হল, ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র, শিশুদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, টেলিভিশন স্টুডিও, বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং পর্যটকদের জন্য তথ্যকেন্দ্র। ফলে মসজিদটি আজ ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

হাদিসের বাণী

কেয়ামতের দিন যাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কেয়ামতের দিন যাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ
সংগৃহীত ছবি

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.) বললেন, তোমরা কি জানো, গরিব-সম্বলহীন কে? তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে গরিব হলো ওই ব্যক্তি, যার কোনো দিরহাম, দিনার ও মাল-সামানা নেই। তখন মহানবী (সা.) বললেন, প্রকৃত সম্বলহীন তো ওই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন সালাত, জাকাত, সিয়াম নিয়ে উপস্থিত হবে ঠিকই; কিন্তু এটাও সঙ্গে আনবে যে সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো প্রতি অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ গ্রাস করেছে, হত্যাকাণ্ড করেছে, কাউকে প্রহার করেছে। ফলে সেদিন মাজলুম ব্যক্তিকে এই জালিম থেকে সাওয়াব দেওয়া হবে। আর যদি সাওয়াব শেষ হয়ে যায়, তাহলে মাজলুমের গুনাহ এই জালিমের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। অবশেষে তাকে জাহান্নামের অতলে ফেলে দেওয়া হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৫৭৯, মুসনাদে আহমাদ, ৮০২৯)

শিক্ষা ও বিধান
১. মানুষ সাধারণত অর্থ-সম্পদহীন ব্যক্তিকে গরিব বা নিঃস্ব মনে করে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত নিঃস্ব হলো সেই ব্যক্তি, যে অনেক নেক আমল নিয়ে কিয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হবে, কিন্তু মানুষের অধিকার নষ্ট করার কারণে সব সাওয়াব হারিয়ে ফেলবে।
২. নামাজ, রোজা, জাকাত ইত্যাদি মহান ইবাদত হলেও মানুষের প্রতি জুলুম করলে এসব আমল বিপদের কারণ হতে পারে। তাই ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্র ও আচরণও শুদ্ধ হওয়া জরুরি।
৩.  আল্লাহ তাআলা নিজের হক ক্ষমা করতে পারেন; কিন্তু বান্দার হক আদায় না করে ক্ষমা পাওয়া কঠিন। এ জন্য মানুষের অধিকার নষ্ট করা থেকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
৪.  কারো সম্মানহানি করা, গালি দেওয়া, অপবাদ দেওয়া বা কুৎসা রটানো কিয়ামতের দিন কঠিন ক্ষতির কারণ হবে।
৫. অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা কবিরা গুনাহ। প্রতারণা, ঘুষ, সুদ, জবরদখল, আত্মসাৎ বা অন্যের হক নষ্ট করা আখিরাতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, শুধু বেশি বেশি নামাজ, রোজা বা নফল ইবাদত করাই যথেষ্ট নয়; বরং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ, জুলুম থেকে বেঁচে থাকা এবং উত্তম চরিত্র গঠনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি আল্লাহর হক আদায়ের পাশাপাশি বান্দার হকও যথাযথভাবে আদায় করবে, সেই-ই প্রকৃত সফলকাম হবে। আর যে মানুষের ওপর জুলুম করে, সে যত বড় ইবাদতকারীই হোক না কেন, কিয়ামতের দিন প্রকৃত দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের মানুষের হক আদায়কারী, জুলুম থেকে বেঁচে থাকা এবং আখিরাতের প্রকৃত সফল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে কোরআনে বর্ণিত দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে কোরআনে বর্ণিত দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবন কখনোই দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা ও পরীক্ষামুক্ত নয়। কখনো সফরের চিন্তা, কখনো জীবিকার উদ্বেগ, কখনো ভবিষ্যতের অজানা আশঙ্কা—এসব বিষয় মানুষের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তোলে। কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, সে তার সকল দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ আল্লাহ তাআলার কাছে সোপর্দ করে। সফরে বের হওয়ার সময়, নতুন কোনো কাজে প্রবেশের সময় অথবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তের মুহূর্তে নিম্নোক্ত কোরআনে বর্ণিত দোয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি এমন একটি দোয়া, যা আল্লাহর নিকট কল্যাণকর প্রবেশ, কল্যাণকর প্রস্থান এবং তাঁর বিশেষ সাহায্য প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। দোয়াটি হলো-

 رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِن لَّدُنكَ سُلْطَانًا نَّصِيرًا

উচ্চারণ : রাব্বি আদখিলনী মুদখালা সিদক্বিও ওয়া আখরিজনী মুখরাজা সিদক্বিও ওয়াজআল্লী মিল্লাদুনকা সুলতানান নাসীরা।

অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে বের করো কল্যাণের সাথে; আর তোমার পক্ষ থেকে আমাকে দান করো সাহায্যকারী শক্তি।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৮০)

বর্তমান যুগে দুশ্চিন্তা যেন মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ একজন মুমিন জানে, তার সকল সমস্যার সমাধান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। সুরা ইসরার এই মহান দোয়াটি শুধু সফরের দোয়া নয়; বরং জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে আল্লাহর সাহায্য, হেফাজত ও কল্যাণ কামনার এক অপূর্ব প্রার্থনা। তাই যখনই হৃদয় উদ্বেগে ভারাক্রান্ত হবে, তখন এই দোয়াটি আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠ করুন। আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখুন। কারণ যে হৃদয় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে, সেই হৃদয়ই প্রকৃত প্রশান্তি লাভ করে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত রেখে তাঁর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।