অস্ট্রেলিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ স্ট্রেইনটি প্রথমবারের মতো সেখানে শনাক্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো, এই অত্যন্ত সংক্রামক প্রজাতিটি এখন প্রতিটি মহাদেশে পৌঁছে গেছে। শনিবার কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স জানিয়েছেন, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখি `ব্রাউন স্কুয়ার' মধ্যে রোগটি শনাক্ত হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম অনুসারে, পাখিটিকে পার্থ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৪ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে এস্পেরান্স শহরের কাছে কেপ লে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল পার্কের একটি সৈকতে পাওয়া গেছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল একমাত্র মহাদেশ যেখানে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু স্ট্রেইনটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এই স্ট্রেইনটি হাঁস-মুরগি এবং বন্য পাখিদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই রোগের কারণে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। কলিন্স একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা সবাই জানতাম যে আমরা চিরকাল বার্ড ফ্লু-মুক্ত থাকতে পারব না।’
অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লুর আরও একটি সন্দেহজনক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানান, এস্পেরান্সের একটি সৈকতে ক্লান্ত অবস্থায় একটি সাউদার্ন পেট্রেল পাখি পাওয়া গেছে, যা বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমানে ব্যাপক হারে পাখির মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতীয় সম্প্রচারকারী সংস্থা এবিসির প্রতিবেদনে বিপন্ন প্রজাতি বিষয়ক কমিশনার ফিওনা ফ্রেজার জানান, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কয়েক দিনের মধ্যেই নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা বেথ কুকসন জানান, এই পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষ অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ কারণে জরুরি পশুরোগ বিষয়ক কমিটি শনিবার বৈঠকও করেছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ ধরন শনাক্ত হয়।
এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত আগস্ট থেকে হার্ড দ্বীপের ১৭ হাজার সীল শাবকের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারই এইচ৫এন১ সংক্রমণে মারা গেছে। অর্থাৎ, পুরো দলের ৭৫ শতাংশেরও বেশি শাবক মারা পড়েছে। গবেষকরা পেঙ্গুইনের মধ্যেও প্রত্যাশার তুলনায় বেশি মৃত্যুর ঘটনা লক্ষ্য করেছেন।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফরাসি নিয়ন্ত্রিত ক্রোজে দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে গত আগস্টে এই দ্বীপগুলোতে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে।
বার্ড ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত পাখিদের আক্রান্ত করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি শিয়াল, সীল ও উদবিড়ালের মতো অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও ছড়াতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বন্য পাখিদের মধ্যে যে ধরনের বার্ড ফ্লু সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে, সেটি হলো এইচ৫এন১ ভাইরাস। এই ভাইরাসটি ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে চীনে প্রথম শনাক্ত হয়।
পরিযায়ী পাখিদের মাধ্যমে এই রোগ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং গৃহপালিত ও বন্য পাখিদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়। খুব কম ক্ষেত্রে, আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে।




