kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অফিস না করেই বেতন তুলছেন বেনাপোল বন্দর কর্মকর্তা!

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অফিস না করেই বেতন তুলছেন বেনাপোল বন্দর কর্মকর্তা!

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৪ নম্বর শেড (গুদাম) ইনচার্জ মোহাম্মদ আশ্রাফুল ইসলাম প্রায় দুই বছর কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে তাকে পাওয়া জায়নি।

বন্দর সংশ্লিষ্ট লেবাররা জানান, দীর্ঘদিন যাবত ৩৪ নম্বর শেড ইনচার্জ মোহাম্মদ আশ্রাফুল ইসলাম নিজ কর্মস্থলে আসেন না। চাকরিতে যোগদানের পর থেকে একাধিকবার তার কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকতেন। এতে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কাজে মারাত্মক ব্যাহত হওয়ায় তাকে কর্তৃপক্ষ কয়েকবার সতর্ক করে। তার অনুপস্থিতের কারণে তাকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। তিনি এখানে কাজ না করেই ঢাকা থেকে বেতন তুলছেন বলে জানা গেছে।

বেনাপোল বন্দরের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে যোগদানের পর হতে মোহাম্মদ আশ্রাফুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে একাধিকবার কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে ৩৪ নম্বর শেডের মালামাল লোড-আনলোডের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। তাতেও সাড়া দেননি আশ্রাফুল ইসলাম। জবাব দেননি কারণ দর্শানো নোটিশের। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৪ জুলাই বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩৪ নম্বর শেডের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন আবু মুছা মোহাম্মদ তারেক নামের এক কর্মকর্তাকে। এ নিয়ে আশ্রাফুল ও তারেকের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ৩ দিন পর বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। পরে ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে বন্দরের ব্যারাকে আশ্রাফুল ও তারেকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনায় তারেকের নামে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর, কাগজপত্র, তিন লাখ টাকা ও ল্যাপ্টপ ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে একই বছর ১৭ অক্টোবর বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করে একটি পত্র দেয় আশ্রাফুল। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

আশ্রাফুলের আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে রিপোর্ট দেয় তদন্ত কমিটি। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় তাদের দুইজনের মধ্যে কথা কাটকাটি হয়েছে। কোনো লাঠি দিয়ে আঘাত বা টাকা মালামাল ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর আশ্রাফুল তিন দিনের ছুটি নিয়ে আর কর্মস্থলে ফিরে আসেনি।

জানা গেছে, আশ্রাফুল বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থান করছে। সেখান থেকে বেতন ভাতা তুলছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশ্রাফুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। এ ধরনের সংবাদের ভিত্তিতে আশ্রাফুল চলতি বছরের ২২ অক্টোবর তারেকসহ বন্দরের ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একটি মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে আসামিদের দ্বারা মারধরের শিকার হয়ে প্রায় ২ বছর তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। অথচ বন্দরের হাজিরা রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে আশ্রাফুল ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর পর্যন্ত অফিস করেছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সিবিএর সহসভাপতি মনির হোসেন মজুমদার জানান, আশ্রাফুলের বিরুদ্ধে বন্দরের দায়িত্ব পালন না করে ব্যারাকে দরজা বন্ধ করে অপরিচিত লোকজনের সাথে গোপন বৈঠক করতেন। বন্দরের কর্মকর্তাদের ব্যঙ্গ করে কবিতা লিখে বই ছাপিয়ে বিভিন্ন লোকজনের দিতেন। নিজেকে রক্ষা করতে বন্দরের কর্মকর্তাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে।

এ বিষয় আশ্রাফুলের সাথে চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দীর্ঘ দিন আশ্রাফুল ইসলামের অনুপস্থিতির কথা স্বীকার করে বলেন, আশ্রাফুল যশোর আদালতে ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন শুনেছি। বিস্তারিত জানি না। 

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল জানান, প্রায় ২ বছর অনুপস্থিত থাকা আশ্রাফুল সংযুক্তির মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত থাকায় বেতন-ভাতা প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ছুটি নিয়ে কর্মস্থলে আর ফিরে না আসায় আশ্রাফুলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রবিধানমালা-২০০৪ এর ৪০ এর (ক) ও (খ) মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশনামা পাঠান বন্দরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা