ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ৯টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারার দরপত্র আহবান করা হয়। এদের মধ্যে ৫টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। ৫টি হাটেই গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক কম দামে ইজারা সম্পন্ন হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে বলে জানা গেছে। বাকী ৪টি হাটের কাঙ্ক্ষিত দরপত্র না পাওয়া সেগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের ৯টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ৫টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাসরাবাদ হাটে ৩টি দরপত্র জমা পড়ে। সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় হাটটির ইজারা পান হাজী মো. সেলিম। অথচ গত বছর একই হাটের ইজারা হয়েছিল ৬১ লাখ টাকায়।
আগানগর ইউনিয়নের আওতাধীন আমবাগিচা বালুর মাঠ পশুর হাটের ইজারা সর্বোচ্চ ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় পান পূর্ব আগানগর গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. আনোয়ার হোসেন। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা কম।
ঐতিহ্যবাহী জিনজিরা পশুর হাটের ইজারা মাত্র ৭ লাখ টাকায় হাটটি পান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জিনজিরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাদ্দেদ আলী বাবু। যেখানে গত বছর একই হাটের ইজারা একই ব্যক্তি নিয়েছিলেন ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায়।
এ ছাড়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানার নতুন সোনাকান্দা গবাদিপশুর হাট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা পান শাহাবুদ্দিন মেম্বার। অন্যদিকে গত বছর ব্যাপক আলোচিত মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাটের ইজারা পান হাজী সাইফুল ইসলাম ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। অথচ গত বছর হাটটির ইজারা মূল্য ছিল প্রায় ৭২ লাখ টাকা।
কাঙ্ক্ষিত দরপত্র না পাওয়ায় রাজাবাড়ী বালুর মাঠ, রসুলপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন বালুর মাঠ, খাড়াকান্দী মাদরাসা হাট ও বাঘাশুর হাটের ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক জানান, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হাটগুলোর ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যেসব হাটে কাঙ্ক্ষিত দরপত্র পাওয়া যায়নি, সেগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।