kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

রিয়ালের পরিবর্তে ভিম বার!

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৬ জুন, ২০১৯ ১২:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রিয়ালের পরিবর্তে ভিম বার!

প্রতারক হাসিবুল মিয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় টাকার বিনিময়ে সৌদি রিয়ালের পরিবর্তে ভিম বার সাবান দিয়ে প্রতারণা করায় এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম হাসিবুল মিয়া। সে গোপালগঞ্জ জেলার মোকশেদপুর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৫টি প্রতারণা ও মাদক মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ জুন) এই প্রতারককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের দোকানে গিয়ে প্রতারক হাসিবুল মিয়া জানায় এক ব্যক্তি তার নিকট থেকে একটি ১০০ রিয়ালের সৌদি নোট নিয়ে মাত্র ৩০০ টাকা দিয়ে আর টাকা দিচ্ছে না। তার নিকট ১০০ রিয়ালের আরো ১০০টি নোট রয়েছে কিন্তু ভাঙাতে ভয় পাচ্ছে, নেওয়ার পর যদি টাকা না দেয়। সাইদুল ইসলাম যদি রিয়ালগুলো নেন তবে তাকে ভালো মুনাফা দিবেন। ১ লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করে প্রতারক হাসিবুল চলে যায়। সোমবার দুপুরে ফোনে সে জানায় রিয়ালগুলো নিয়ে সে শাহবাজপুর বাজারে অপেক্ষা করছে। টাকা দিয়ে সেগুলো আনার অনুরোধ জানালে ব্যবসায়ী সাইদুল এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে শাহবাজপুর বাজারের স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনের রাস্তায় আরো দুই ব্যক্তি নিয়ে হাসিবুল অপেক্ষা করছে। এ সময় ব্যবসায়ী সাইদুল জানান তিনি ১ লাখ টাকা যোগাড় করতে পারেননি। ৬০ হাজার টাকা এনেছেন। এ টাকায় ১০০ রিয়ালের ৬০টি নোট দিয়ে দিতে। এ সময় তিন প্রতারক একটি পোটলার গিঁট খুলে রিয়ালের ৪-৫টি নোট দেখিয়ে পোটলাটি গামছা দিয়ে আবার গিঁট দিয়ে বলে এখানে ৬০টি নোট রয়েছে। ৬০ হাজার টাকা দেন। এরপর টাকা নিয়ে তারা দ্রুত চলে যায়। গিঁট খুলে রিয়ালের পরিবর্তে পত্রিকা কাগজে মোড়ানো একটি ভিম সাবান দেখেই সাইদুল চমকে উঠেন। 

দ্রুত ধাওয়া করে জনতার সহায়তায় প্রতারক হাসিবুল মিয়াকে আটক করে স্থানীয় ইউপি অফিসে নিলে ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন পুলিশে খবর দেন। এর আগেই অপর দুই প্রতারক প্রদীপ ও তারা মিয়া পালিয়ে যায়। রবিবার এই চক্র দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজারের সালেহ উদ্দিন নামে আরেক ব্যবসায়ীকে সৌদি রিয়ালের পরিবর্তে গামছায় মোড়ানো কাগজের একটি পোটলা দিয়ে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সালেহ উদ্দিন মঙ্গলবার বড়লেখা থানায় গিয়ে আটক প্রতারককে শনাক্ত করেছেন। 

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাতে বলেন, প্রতারিত সাইদুল ইসলাম ৩ প্রতারকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়েছেন। অভিনব কৌশলে প্রতারণা করাই তাদের পেশা। গ্রেপ্তার হাসিবুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা ও মাদক মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা