টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বাঁশতৈল ইউনিয়নের আমতৈলপাড়া গ্রামে এক বাবুর্চি ও এক অটোভ্যান চালক একে অপরের স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফরিদপুর সদরের রাজু পরকীয় সম্পর্ক করে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মরিয়মকে গত বছরের ৪ জুন তিন বছরের এক মেয়েসহ ভাগিয়ে নেন। পরের দিন ৫ জুন টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। পরে রাজু মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া আমতৈলপাড়া এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাসা এনজিওতে বাবুর্চির চাকরি নেন। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন এ উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের আমতৈলপাড়া গ্রামের অটোভ্যান চালক হাসান মিয়ার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী জহুরা বেগম।
আরো পড়ুন
নার্সদের পোশাকে পরিবর্তন চান কঙ্গনা
রাজু পরিবার নিয়ে পেকুয়া এলাকায় বসবাস করতেন। জহুরা রাজুর সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। হাসান ও জহুরার ১৫ বছরের সংসারে এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী সন্তানের মায়া ত্যাগ করে জহুরা গত ৭ মে রাজুর সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। প্রতিশোধ নিতে জহুরার স্বামী হাসান রাজুর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন এবং সাতক্ষীরা বাবার বাড়ি থেকে সন্তানসহ মরিয়মকে নিয়ে মির্জাপুরে চলে আসেন এবং বিয়ে করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বাড়িতে লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। এ খবরে হাসানের প্রতিবেশি ও সহকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করছেন। এ আনন্দে তারা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসানকে পুরস্কৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তারা।
আরো পড়ুন
চোট সারাতে নাসার প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন নেইমার
পেকুয়া এলাকার ভ্যান চালক মুখলেছ মিয়া জানান, হাসান যা করেছে, তা কেউ করতে পারেনি। নিজের স্ত্রীকে রাজু ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন। হাসান রাজুর স্ত্রীকে ভাগিয়ে এনে বিয়ে করে প্রতিশোধ নিয়েছে। আমরা তাকে পুরস্কৃত করবো। এজন্য প্রস্তুতি চলছে। এই বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
আরো পড়ুন
বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তা শঙ্কা, ইংল্যান্ড দলের ঘাঁটির কাছে গোলাগুলিতে আহত ৯
হাসান মিয়া বলেন, রাজু আমার বউকে নিয়ে বিয়ে করেছে। আমি রাজুর বউকে এনে বিয়ে করেছি। আমি প্রতিশোধ নিয়েছি। মরিয়ম আর আমার দুঃখ মিলে গেছে। সবাই দোয়া করবেন আমি স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সুখে বাকি জীবন পার করতে পারি।
বাঁশতৈল ইউপির এক নারী সদস্য সালমা আক্তার বলেন, একে অপরের স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন শুনেছি। তবে ওই বাড়িতে যাওয়া হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে বাঁশতৈল ইউনিয়নের হাট বাজারে আলোচিত ঘটনা বলেও তিনি জানান।