টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাড়া বাসায় সূচনা (১৮) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুর ঘাটাইল পৌরসভাধীন কলেজপাড়ার ভাড়া বাসায়।
রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত সূচনা উপজেলার দারপটল গ্রামের সোরহাব আলীর মেয়ে। নিহতের পরিবারের দাবি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
সূচনার বাবা সোরহাব আলী জানান, এক মাস আগে মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আলম মিয়ার সঙ্গে সূচনার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের ভাতিজা মো. শাওয়াল (২২) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সূচনাকে স্বামীর বাড়ি থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। বিষয়টি সূচনার স্বামী আলম মিয়া রাতেই তার শ্বশুরসহ সবাইকে অবগত করেন। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে কোথাও সূচনার সন্ধান পায়নি।
তিনি আরো জানান, নিখোঁজের তিন দিন পর চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুর পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলমান ছিল। গত রবিবার সন্ধ্যায় পারিবারিকভাবে বসে সমাধানের কথা ছিল কিন্তু তার আগেই সূচনা শেষ বিদায় নিল। সূচনার বাবার ভাষ্য, ‘মেয়াডারে ওরা মাইরা ফালাইছে।’
স্থানীয়রা জানান, একটি মেয়ে ফাঁস দিয়েছে বলে প্রতিবেশীরা শুনতে পেয়ে ওই চেয়ারম্যানের বাসায় যায়। বাসার লোকজন ওই সময় মেয়েটিকে আহত অবস্থায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপতালে নিয়ে আসার আগেই মেয়েটি মারা গেছে। এ অবস্থায় মরদেহ হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে যান চেয়ারম্যানের স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার হাসপাতালে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং চেয়ারম্যানের বাসা থেকে আলামত সংগ্রহ করেন।
মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমার চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে ওই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। একপর্যায়ে বিষয়টি সমাধান করার জন্য আমার বাসায় বসার সিদ্ধান্ত হয়। পরে মেয়েটি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
ঘাটাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাষ কুমার বসু জানান, মরদেহ রাতেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলা করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সোমবার সাধারণ ডায়েরি মূলে ময়নাতদন্তের জন্য গৃহবধূ সূচনার লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




