গ্রামীণ সড়কটি ৬০ বছরের পুরনো। চা বাগানের শ্রমিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ অন্তত ১০০ পরিবারের সদস্যদের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। হঠাৎ করে তারা দেখলেন সড়কজুড়ে বিশাল গর্ত। স্থানীয় একটি পরিবার সড়ক কেটে বন্ধ করে দিয়েছে চলাচল।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ এপ্রিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা খুশেদ মিয়া ওরফে খোশিয়া ও তার ভাই বারিক মিয়া ওরফে বারিক্কা সড়কটি বন্ধ করে দেন। এতে বিপাকে পড়েন সড়কটি দিয়ে চলাচলকারীরা।
কিন্তু তার চেয়ে বড় ঘটনা হলো, ওই ঘটনার দুই দিনের মাথায় অর্থাৎ ২০ এপ্রিল প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান ভুক্তভোগীরা। এর প্রায় দুই মাসেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
এদিকে, ওই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রতিকারের দাবিতে তারা আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সভা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা মোস্তাকিম আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মাওলানা কাজী ওমর ফারুক, মন্নান মিয়া, জন্নান মিয়া, আব্দুল মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রায় ৬০ বছর ধরে রামচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে আসছে। দেওরাছড়া চা বাগানের একাংশের চা শ্রমিকসহ শতাধিক পরিবারের যাতায়াতে একমাত্র সড়ক এটি। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।
বক্তাদের দাবি, শুরুতে সড়কটি সরু থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রায় ১৬ ফুট প্রশস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় এর সংস্কার ও উন্নয়ন কাজও হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সড়কের দুই পাশের বাসিন্দা খুশেদ মিয়া ও তার বড় ভাই বারিক মিয়া দুই পাশ কেটে গভীর গর্ত খুড়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, বারিক মিয়া সড়কের পাশে গর্ত করে সেখানে গোবর ও আবর্জনা ফেলছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলছে। এখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তারা বলেন, সড়কের বর্তমান অবস্থার কারণে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে মৃতদেহ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
সংকট নিরসনে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা বলেন, সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সড়কের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে দখল ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বারিক মিয়া বলেন, ‘আমার দলিলের জায়গায় রাস্তা পড়েছে, তাই আমি কেটেছি। এখানে কার সমস্যা বা কিসের সমস্যা- এটা আমার জানার বিষয় না।’
এ ব্যাপারে রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘মানুষের চলাচলের রাস্তা কেটে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রামবাসীর স্বার্থ রক্ষায় এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তা কাটার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




