• ই-পেপার

হরতাল প্রত্যাখ্যান করে ফটিকছড়ির ৩ ইউনিয়নের গণজমায়েত

মাদক কারবারির আস্তানায় মিলল থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
মাদক কারবারির আস্তানায় মিলল থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় মাদক কারবারি আলমগীরের আস্তানা থেকে দুটি তারাশ পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পিস্তল দুটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ উত্তরে পরিদর্শক আনচারুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে আমবাগান বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলের তৈরি (টরাস ব্যান্ডের ৯ এম এম) দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পিস্তল দুটি ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, শনিবার দিবাগত রাতে ডবলমুরিং থানার ঝর্ণাপাড়া এলাকায় মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে যায় পুলিশ। সে সময় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে একজন এসআইসহ তাদের ছোড়া পাথরের আঘাতে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এরপর নগর পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঝর্ণাপাড়া সংলগ্ন খুলশী থানার আমবাগান বস্তি থেকে দুই সহযোগীসহ আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে। অস্ত্রগুলো এতদিন আলমগীরের কাছে ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম

‘চাঁদা না পেয়ে’ ব্যবসায়ীর নির্মীয়মাণ ভবনে দুর্বৃত্তের হামলা-ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
‘চাঁদা না পেয়ে’ ব্যবসায়ীর নির্মীয়মাণ ভবনে দুর্বৃত্তের হামলা-ভাঙচুর
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মো. জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর নির্মীয়মাণ ১০ তলা ভবনে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় ভাটিয়ারী লিংক রোড সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বাড়িটির মালিক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা করেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বড় দিঘিরপাড় এলাকায় একটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। রবিবার সকালে ১০-১২ জন ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে এসে জসিমের বাড়ির সামনে নামেন। সবার মুখে মাস্ক পরা ছিল। তারা বাড়িটিতে প্রবেশ করে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় ভবনটিতে কর্মরত শ্রমিকদের মারধর করেন। পরে যাওয়ার সময় তারা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জসিম উদ্দিনের কাছে সন্ত্রাসীরা চাঁদা চেয়েছিল বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন। এরপর রবিবার সন্ত্রাসীরা এসে হামলা করে ভাঙচুর করেছে। কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, তাদের মুখে মাস্ক পরা ছিল। এর মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

ঘটনার সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর লোকজন জড়িত আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ির মালিক আমাদের কারো নাম বলতে পারেননি। তবে আমরা তদন্ত করে দেখছি, সাজ্জাদ বাহিনীর সম্পৃক্ততা আছে কি না।

হামলার বিষয়ে বাড়ির মালিক জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করবেন। তবে কারা চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়েছেন, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে গত ১৩ জুলাই হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এর আগে সাজ্জাদের সহযোগী ডেভিড ইমন ডিডিএনের মালিকের কাছে চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার মূল হোতা ডেভিড ইমনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে চাঁদার দাবিতে হুমকি, গুলি ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আরো ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আরো ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
সংগৃহীত ছবি

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করে বলেন, ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। আগামী ৬ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে, চলতি বছরের ১১ মার্চ এ মামলায় ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তারও আগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইউসিবি ব্যাংক থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, জাবেদ তার মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহকে মালিক দেখিয়ে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। দুদকের দাবি, পরে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী।

এ ছাড়া সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ মোট ৩৬ জন আসামি রয়েছেন।

জঙ্গল সলিমপুরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
জঙ্গল সলিমপুরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরের যৌথবাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। যে স্থানে বিষ মেশানো হয়েছে সেখান থেকে বিষের একটি খালি কৌটাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, আজ সকালে সকালে পানিতে ফেনা ও দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। পানির দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তিনি দুর্গন্ধ পেয়ে পানির ট্যাংও ঢাকনা খুলে দেখেন ফেনাও ভাসছে। তাৎক্ষণিক তিনি সব বাহিনীকে পানি ব্যবহার থেকে বিরতে থাকতে সতর্ক করেন। আমাদেরও টিম গিয়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে। টেনে নেওয়া পানির লাইনের একটা জায়গায় বিষের খালি কৌটা পাওয়া গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি অন্তর্ঘাতমূলক অপরাধ। মামলা দায়ের হচ্ছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর আলীনগর এলাকায় অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যে পানি পান করেন রবিবার সকালে সে পানি গ্লাসে নেওয়ার পর তাতে সাদা ফেনা এবং বিষাক্ত গন্ধ পাওয়া যায়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশ সদস্যরা পানি পান না করায় কারো কোন বিপদ ঘটেনি। 

প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খ্যাত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে দখল মুক্ত করতে প্রশাসনের নানামুখী প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে আসছে একটি মহল। ইতোমধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকা পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ক্যাম্পে গুলি চালিয়ে স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সড়ক যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন করতে ছয়টি সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। এতে প্রশাসনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন হলে সন্ত্রাসীরা আস্তানায় ফিরতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। 

যৌথবাহিনীর পানিতে বিষ মেশানো জঙ্গল সলিমপুর থেকে প্রশাসনকে উচ্ছেদ চেষ্টার অংশ বলে জানায় পুলিশ।