• ই-পেপার

ডেঙ্গুতে আরো ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৯১ জন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিধি-৭১-এ জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারকরণ’ শীর্ষক এ নোটিশটি উত্থাপন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম। নোটিশে তিনি ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম হলেও সরকার আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস১ পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এ ছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে এক লাখ ৬ হাজার ৬০০ পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। আগামী এক মাসে আরো ৫ লাখ কিট যুক্ত হবে। পাশাপাশি এক লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগ বিশেষ রিজার্ভ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেড় মাস আগে হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত রেটেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়ে তারা সম্মতি দিয়েছেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হলে তা মোকাবেলায় মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালু হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরো পাঁচটি জেলায় এ সুবিধা চালু হবে।

মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হামের উপসর্গে আরো ৫ প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৫ প্রাণহানি
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৯২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৭২টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯২০। এই সময়ে ৮৫১টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৭টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৯০৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৬ হাজার ৮৭৮ রোগী, যাদের মধ্যে ৯৩ হাজার ২৬০ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় গেল ৭ প্রাণ

অনলাইন ডেস্ক
হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় গেল ৭ প্রাণ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯৯০ জন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়, নতুন করে মৃত সাতজনের মধ্যে একজনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে নিশ্চিত হামে ৯৫ জনের মৃত্যু হলো। অন্যদিকে বাকি ৬ জনের মৃত্যু হাম উপসর্গ নিয়ে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৬৭১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮৬৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১২২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৭৩৫ জন।

এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৬ হাজার ২৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৮৩ জন।

ডেঙ্গুতে আরো ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭ জন

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গুতে আরো ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭ জন
সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হলো। এ সময় নতুন করে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩২৭ জন।

মৃতদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। এদের মধ্যে একজন ২৬ থেকে ৩০ বছর এবং অন্যজনের ৩১ থেকে ৩৫ বছর। তারা উভয়ই নারী।

সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের মধ্যে ২৯৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৩০ জন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট আট হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭ হাজার ৮০০ জন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৮২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।