• ই-পেপার

উচ্চশিক্ষার সংকট নিরসনে অংশীজন সংলাপ করবে ইউজিসি

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন

২৫০০ শিশুকে দুধ পান করাল বাকৃবি

বাকৃবি প্রতিনিধি
২৫০০ শিশুকে দুধ পান করাল বাকৃবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘দুগ্ধশিল্পে নারী কৃষকদের অবদান উদযাপন’—প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চতুথর্দশতম বারের মতো বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ও আশপাশের আটটি বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিশুকে দুধ পান করানো হয়।

একই সঙ্গে দুগ্ধশিল্পে অসামান্য অবদানের স্মীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো ১ জন নারী দুগ্ধ খামারি ও একজন নারী উদ্যোক্তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে দেশে ডেইরি শিল্পের বিকাশ এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিবছর এ দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

বুধবার (১০ জুন) দিরসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় বাকৃবি চত্বরে অবস্থিত স্কুলসমূহের ২ হাজার ৫০০ শিশু শিক্ষার্থীকে দুধ পান করানো হয়। এরপর পশুপালন অনুষদের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। 

পরে সকাল ১০টায় সকালে ওই অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, দুগ্ধ খামারি ও বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

এরপর দুপুরে পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক সেমিনার ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ‎বাকৃবির ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা এবং নেসলে বাংলাদেশের রেগুলেটরি অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্সের প্রধান রেবেকা শারমিন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এম. এ. সামাদ খান, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাসুম।

‎এ সময় সম্মাননাপ্রাপ্ত দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তা উম্মে আতিয়া বলেন, ‘প্রায় ৬ বছর ধরে বগুড়ায় নিজস্ব উদ্যোগে দুগ্ধজাত পণ্যের একটি কারখানা নিয়ে কাজ করছি। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৪ মণ দুধ থেকে মিষ্টি, ছানা ও দই তৈরি করি আমরা। খামারিদের কাছে থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করার পর সেটিকে পাস্তুরিত করে এসকল পণ্য তৈরি করা হয়। এই প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এভাবে সম্মাননা পেলাম। কাজের স্বীকৃতি আমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।’

সম্মাননাপ্রাপ্ত আরেক খামারি জনি আক্তার বলেন, ‘আমার বাড়িতে মোট ১৫টি গরুর দেখাশোনা করি। প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। গরুর দেখাশোনা থেকে শুরু করে দুগ্ধ দোহন ও বিক্রি সবই এক হাতে করি। গ্রামের এক প্রান্তিক খামারি হিসেবে এভাবে সম্মাননা পাব এটা কখনো ভাবিনি। খুবই ভালো লাগছে।’

সেমিনারে অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, ‘অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। কেননা দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাদের অবদান অস্বীকার করে দেশ, জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না। দেশের দুগ্ধ শিল্পের উন্নতিতে উৎপাদন বাড়াতে কাজ করতে হবে, একই সাথে প্রান্তিক খামারিদের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে।’

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা’র (এফএও) নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি বছর ১ জুন সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ দিবসটি উদযাপন করে। এ বছর ১ জুন বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকার কারণে ১০ জুন এটি উদযাপন করা হচ্ছে। দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম বাকৃবি ২০১৩ সাল থেকে এ দিবসটি পালন করে আসছে।

পিবিপ্রবিতে যোগ দিলেন নতুন উপাচার্য ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার

অনলাইন ডেস্ক
পিবিপ্রবিতে যোগ দিলেন নতুন উপাচার্য ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিবিপ্রবি) উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর যোগদানপত্র দাখিল করেন। একইদিন সন্ধ্যায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন। 

ক্যাম্পাসে পৌঁছালে নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। পরে তিনি প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে গত ৮ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদারকে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৯৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১২ সালে তিনি প্রফেসর পদে উন্নীত হন। বর্তমানে তিনি গ্রেড-১ প্রফেসর হিসেবে কর্মরত। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বিভাগীয় চেয়ারম্যান, আবাসিক হলের সহকারী হাউস টিউটর ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ঢাবি মিলেনিয়াম ব্যাচের কমিটি গঠন : আহ্বায়ক করিম, সদস্যসচিব রিপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবি মিলেনিয়াম ব্যাচের কমিটি গঠন : আহ্বায়ক করিম, সদস্যসচিব রিপন
আবদুল করিম সরকার ও আনোয়ার হোসেন রিপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলেনিয়াম ব্যাচের (২০০০-২০০১) আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। আবদুল করিম সরকারকে আহ্বায়ক ও আনোয়ার হোসেন রিপনকে সদস্যসচিব করে ২১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনসহ অরাজনৈতিক এই সংগঠন পরিচালনা করবে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্কিং কমিটি’র বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়। 

কমিটির অন্যরা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক হিমেল, ইফতেখার আনাম ও প্রণব বৈষ্ণব। এছাড়া বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা হলেন এনামুল হাসান (অর্থ), উবায়দুল্লাহ বাদল(প্রচার-প্রকাশনা), শাহজাহান আলী (দপ্তর), হাকিম লেবু(শিক্ষা) এবং মুহাম্মদ হোসাইন সবুজ (কালচার)। 

এছাড়া নির্বাহী সদস্যরা হলেন হাসান মোর্শেদ ধ্রুব, আশরাফুল আলম সাগর, জায়েদুল ইসলাম রিয়াজ, ফারহানা বীথি, তানভীর আহমেদ রোমেল, রুহুল আমীন মাসুম, সোলায়মান সোহেল, তারিকুল ইসলাম মনির, লুনা, ইব্রাহিম শিকদার ইমন ও ফজলে এলাহী সবুজ।

ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন রিপনের সভাপতিত্বে ও শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ওয়াকিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক-মাধ্যমিকে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ৪ বিষয়ের মধ্যে যা থাকবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক-মাধ্যমিকে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ৪ বিষয়ের মধ্যে যা থাকবে
সংগৃহীত ছবি

২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, সেখানে নতুন আরো চারটি বিষয় যুক্ত করা হবে। সেগুলো হলো– আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদেরকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দু'টি চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। আর মাধ্যমিক স্তরে পা রাখার পর, অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদেরকে 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা' এবং 'আনন্দময় শিক্ষা' বা 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' পড়তে হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সোমবার (৮ জুন) বিকালে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

কী থাকবে এসব বিষয়ে

আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা — মানে কী, মূলত কী থাকবে এগুলোতে, কারা পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন, গণমাধ্যম কর্তৃক এসব জানতে চাওয়া হয় তাদের কাছে।

এসব প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় দুটো নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, স্কুলে স্কুলে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা চালু থাকলেও এগুলোর কোনোটিই বর্তমান শিক্ষাক্রমের অংশ না এবং আগেও কখনও ছিল না।

কিন্তু ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সবসময় শিক্ষাক্রমে থাকা উচিৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সেজন্যই সরকার যত শিগগিরই সম্ভব এই বিষয় দুটোকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত করবে। তবে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে সবগুলো বিষয় প্রথম দিন থেকেই কার্যকর করতে পারবে না সরকার।

তিনি বলেন, যেমন, আমরা প্রাথমিকে আটটি খেলা যুক্ত করতে চাই। কিন্তু একবারে এটি সম্ভব না। তাই, আমরা চেষ্টা করবো অন্তর দুই-তিনটি খেলাকে যোগ করতে।

অর্থাৎ, আপাতত ফুটবল, দাবাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বাকিগুলো পরে যোগ করা হবে। অবশ্য মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, ক্রিকেটকেও এখন থেকেই যুক্ত করা যেতে পারে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাই। গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা্র মতো বিষয়গুলো থাকবে। তবে সংস্কৃতি বিষয়টিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

  • ১. পারফরমেটিভ। 
  • ২. এক্সপ্রেসিভ।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, গান, নাচ, বক্তৃতা, পেইন্টিং, সাহিত্য ইত্যাদি থেকে শিক্ষার্থীরা বাছাই করতে পারবে যে সে কোনটি নিবে। পাইলটের পরে এগুলো পরিবর্তন হবে।

পারফরমেটিভ বলতে বোঝানো হচ্ছে যে শিক্ষার্থীরা কোনো শিল্প বা সাংস্কৃতিক কাজ সরাসরি পরিবেশন করবে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীকে অন্যদের সামনে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। আর এক্সপ্রেসিভে মঞ্চে পরিবেশনের চেয়ে নিজের ভাবনা বা অনুভূতি প্রকাশের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল বিষয় হলো সৃজনশীলভাবে নিজেকে প্রকাশ করা।

'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা' কী? জানতে চাইলে মাহ্দী আমিন বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে সমাজের চোখে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। এই ধারণা ভেঙে আমরা এটিকে মূলধারার শিক্ষায় আনতে চাই। আমরা চাই, বাংলাদেশের সব স্কুলে যেন একটি করে কারিগরি ল্যাব থাকে। এতে করে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাটা সুনিশ্চিত করা যাবে বলে মত তার।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া একমাত্র পথ নয়। অনেক শিক্ষার্থী যদি স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন করে, তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং স্বাবলম্বী হতে পারবে।

লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস

এখন থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদেরকে 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা'র পাশাপাশি 'আনন্দময় শিক্ষা' বা 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' নামক বিষয়টিও পড়তে হবে। কিন্তু যেকোনো শিক্ষাই তো আনন্দময় হওয়া উচিৎ। তাহলে 'আনন্দময় শিক্ষা' নামক আলাদা একটি বিষয় চালু করার কারণ কী? কী থাকবে এই বিষয়ে?

এ নিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের দুইটা দিক আছে। এক, এটা হলো পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ভ্যালু ও প্রিন্সিপ্যাল। যেভাবে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই, যে আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা হবে, উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস করবে।

অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চাইছেন যে 'আনন্দময় শিক্ষা' কেবল কোনো আলাদা বিষয় নয়। বরং, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তার একটি নীতি হলো এটি। শিক্ষার্থীরা যেন ভয় বা চাপ থেকে না, বরং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে আনন্দ নিয়ে পড়ে, শেখে। দুই, এই সাবজেক্টের মাধ্যমেই তারা নীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সুশিক্ষা শিখবে।

অর্থাৎ, এই বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণ, সততা, দায়িত্ববোধসহ বিভিন্ন জীবনদক্ষতা শেখানো হবে। তবে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বাস্তব জীবনে এগুলো কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, সেটিও শেখানো হবে এই বিষয়ে।

উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষার্থীদেরকে বৃক্ষরোপণের কথা বলা হয়। কিন্তু সাধারণত শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বৃক্ষরোপণ করতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বিষয়টির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে যে কী কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া, বিভিন্ন দিবস থাকে। যেমন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু এই দিবসের তাৎপর্য কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ বা আমরা মানবাধিকারের কথা বলি, কিন্তু কেন এই মানবাধিকার এত গুরুত্বপূর্ণ‒ এর প্রত্যেকটির ব্যবহার আমরা দেখাবো।

সরকারের প্রস্তুতি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি যুক্ত হবে এবং সেখানে দুই-তিনটি বিষয় শেখানো হবে। কিন্তু ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রম পুরোপুরিভাবে পরিবর্তন করবে সরকার। 

এর আগে, সোমবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বল্প সময়ে শিক্ষাক্রম পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সে কারণে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

যদিও ২০২৮ সাল থেকে একেবারে সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে, নাকি ধাপে ধাপে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

তবে এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয় দুটো নিয়ে বলেন, ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যেসব নতুন বিষয় ও উদ্যোগ চালু করা হবে, সেগুলো মূলত পরীক্ষামূলক বা পাইলট পর্যায়ের অংশ। এসব কর্মসূচির সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ২০২৮ সালের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রমের কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে, নতুন বিষয়গুলো আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চালু হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষিত ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাই।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন বিষয় 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' পড়াবেন কারা? কীভাবে?

এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করা হবে। এটি যারা পড়াবেন, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এটি হবে সবচেয়ে বিশেষায়িত বিষয়গুলোর একটি। এজন্য বাছাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যমান শিক্ষকদের মাঝ থেকে শিক্ষক নির্বাচন করা হবে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' বিষয়ে শিক্ষকদের জন্য নির্দেশিকা এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে তারা সৃজনশীলভাবে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করতে পারেন। তবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়; তাই ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, বাংলা ও ইংরেজির বাইরে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এজন্য শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। এতে করে শিক্ষার্থীরা যেমন সমৃদ্ধ হবে, দেশে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে, বলছিলেন মাহদী আমিন।

নতুন যুক্ত হওয়া এসব বিষয়ে কোনো গ্রেড বা জিপিএ নির্ধারণ করা হবে না। শিক্ষার্থীদের কেবল পাশ বা ফেল হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।