• ই-পেপার

কৃষক দল নেতা হত্যার জেরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জামায়াতের অফিস ভাঙচুর

রাজনৈতিক নেতার লালসার শিকার কিশোরী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা!

অনলাইন ডেস্ক
রাজনৈতিক নেতার লালসার শিকার কিশোরী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা!
প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরের মতলবে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব এবং মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম হানিরপাড় এলাকার মো. কাইয়ুম মাল (৩৬) এবং একই এলাকার মোসা. তানিয়া আক্তার (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম মাল কলাকান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ভুক্তভোগীর মা জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে গেলে ওই শিক্ষার্থী তার বড় বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর অভিযুক্ত কাইয়ুম মাল, অপর অভিযুক্ত ভিকটিমের বড় বোন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা প্রতিবেদনে তিনি ৭ মাসের (২৮ সপ্তাহ) অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় বুধবার (১০ জুন) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারা এবং পেনাল কোডের ৫০৬(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এসআই সাদেকুর রহমান, এসআই সুমন চন্দ্র দাস ও এসআই মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পশ্চিম হানিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের নির্মম উদাহরণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভিকটিমের আপন বড় বোনই তার ছোট বোনের ওপর সংঘটিত এই জঘন্য অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মতলব উত্তর থানা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ে ভিকটিমের অভিযোগ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মূল আসামি এবং তার সহায়তাকারী অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে।
 

চুয়াডাঙ্গায় ওএমএসের চাল ও আটা জব্দ, বিএনপি নেতাকে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় ওএমএসের চাল ও আটা জব্দ, বিএনপি নেতাকে জরিমানা
প্রতীকী ছবি

চুয়াডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে সরকারি ওএমএসের ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় ওএমএস ডিলার ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার সোহেল মালিক সুজন সরকারি খাদ্যপণ্য গুদামে সংরক্ষণ না করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েন। এসময় একটি আলমসাধু (ভ্যানগাড়ি) থেকে সরকারি ওএমএসের ৭ বস্তা চাল ও ২ বস্তা আটা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা।

এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল-আটা অবৈধভাবে বিক্রি বা পাচার রোধে এ অভিযান চালানো হয়। 

নারায়ণগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় ফতুল্লার উকিল বাড়ি সাউথ কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার আসামি মো. মজিবর (৬৫), বাবা হাবিবুল্লাহ, গ্রাম রামনগর, থানা রূপসা, জেলা খুলনা। বর্তমানে তিনি ফতুল্লার শাহজাহান রোলিং উকিল বাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, বৃদ্ধ শিশুটিকে রাস্তার পাশে এক গলির ভেতরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করেন। ঘটনার সময় এলাকাবাসী আসামিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ফতুল্লা থানা পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

ফতুল্লা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথমে জনতা তাকে আটক করেছিল, পরে আমরা তাকে থানায় নিয়ে আসি। আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

রাতের আঁধারে বিএনপি নেতার বাড়িতে মলমূত্র নিক্ষেপের অভিযোগ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
রাতের আঁধারে বিএনপি নেতার বাড়িতে মলমূত্র নিক্ষেপের অভিযোগ

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নে বিএনপির এক প্রবীণ নেতার বাড়িতে রাতের আঁধারে মলমূত্র নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়ির বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা মাগরিবের নামাজ পড়ার সময় বালতিতে করে পানি নিক্ষেপের মতো শব্দ শুনতে পান। নামাজ শেষ উঠে বাড়ির প্রধান গেটে এসে দেখতে পান, বারান্দা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে মলমূত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী খুরশিদা বেগম বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে আমাদের বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে মলমূত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এটি শুধু আমাদের পরিবারকে হেয় করার জন্য নয়, সামাজিকভাবে অপমানিত করারও অপচেষ্টা। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আমার স্বামী এ খবর শুনতে পেয়ে পটিয়া থেকে বাড়িতে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি জানান।

যুবদল নেতা শেখ মো. নাছির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন জাকির হোসেন মেম্বার। তার পরিবারকে মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু কারো বাড়িতে এ ধরনের নোংরা কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি দলীয়ভাবেও খতিয়ে দেখা উচিত। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশের জন্যই বিব্রতকর। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।