• ই-পেপার

রাস্তায় নাটক করলে হবে না : উপাচার্যকে বললেন জাবি ছাত্রী

শিক্ষার্থী সংকটে বন্ধ হতে পারে ১১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষার্থী সংকটে বন্ধ হতে পারে ১১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রমের ১১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বোর্ডের পরিদর্শক প্রকৌশলী বি এম আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

৫ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরনের শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদানসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর বিধি ৫.৪ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে বা শিক্ষার্থী ভর্তিতে দীর্ঘমেয়াদি অকার্যকারিতা দেখা দিলে বোর্ড প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে। সেই নীতিমালার আলোকেই এই ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

সংসদ ভবন পরিদর্শন করল রূপগঞ্জের শিক্ষার্থীরা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ ভবন পরিদর্শন করল রূপগঞ্জের শিক্ষার্থীরা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে ধারণা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবন পরিদর্শন করেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও সুশিক্ষায় নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

11

এ কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয় ও সহযোগিতা করেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু। শিক্ষার্থীদের জন্য এমন শিক্ষামূলক আয়োজন বাস্তবায়নে তার ভূমিকার প্রশংসা করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের এই অভিজ্ঞতা তাদের জীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বাকৃবিতে শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবিতে শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এক শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজিবুল হক আবিদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক ও ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম।

অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় ফার্মাকোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী তার ভর্তিজনিত কিছু ত্রুটির কারণে আমার চেম্বারে আসেন। সেসময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকৃবি শাখা ছাত্রদল নেতা নাজিবুল হক আবিদও আসেন। ভর্তিসংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে কথা বলতে বলতে নাজিব আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। গালাগাল, হেনস্তা করা থেকে শুরু করে হুমকি দেওয়াও শুরু করেন। মৌখিকভাবে সর্বপ্রকারে আমাকে হেনস্তা করেছেন।’

অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম আরো বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমি উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি। আমি এটির যথাযথ বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. নাজিবুল হক আবিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগের জুনিয়র এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ভর্তিজনিত ত্রুটি নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের সঙ্গে কথা বলতে যাই। ওই শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ করেছেন এবং পরীক্ষার ফলাফলে সিজিপিএ-৪ পেয়েছেন। এরপরে সর্বশেষ থিসিস সেমিস্টারে গিয়ে কিছুদিন আগে তাকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটি থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে যে তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাকে আগাম কোনো সতর্কবার্তা বা নোটিশ পাঠানো হয়নি। সিজিপিএ-৪ রেজাল্ট করা মেধাবী একজন ছাত্রকে দুই সেমিস্টার পার করার পরে হুট করে ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তার সঙ্গে এটি গুরুতর অন্যায় করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি এবং এই বিষয়টি নিয়ে আমি স্যারের সঙ্গে ন্যায়সংগত কথা বলেছি।’

শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায়ের পক্ষে আমি জোরালোভাবে কথা বলেছি এবং ন্যায়সংগত কথা জোরালোভাবেই বলা উচিত। বিভিন্ন মানুষ এটিকে বিভিন্নভাবে নিতে পারে। আমরা তাকেই হুমকি দিতে পারব যিনি হাসিনার মতো স্বৈরাচার। ন্যায়ের পক্ষে থাকা মানুষকে আমরা কখনো হুমকি দেব না। জোরালোভাবে কথা বলাকে উনি হুমকি মনে করছেন।’

ঘটনার বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘ছাত্রদলের কেউ যদি অসাংগঠনিক কোনো কাজ করে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাজিবুল হক আবিদ নামে ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকেন না, ছাত্রজীবনও শেষ। তিনি তার বিভাগের বড় ভাই হিসেবে তার জন্য একটি দাবি নিয়ে স্যারের কাছে গেছেন। তবে একজন শিক্ষকের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছেন সেটি অবশ্যই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অন্যায় করেছেন। আমরা সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

এ বিষয়ে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে সেই ছাত্রকে হল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

পুরনো প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
পুরনো প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর তানোরে সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ কেন্দ্রে পুরনো প্রশ্নপত্রে বাংলা প্রথমপত্র এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ায় কেন্দ্রসচিবসহ তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতির বিষয়টি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে এবং নতুন কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্তরা শিক্ষকরা হলেন সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল, অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী ও আফজাল হোসেন। কেন্দ্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম নবী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান। তবে বিষয়টি গোপন রাখতে তানোর কলেজের শিক্ষকরা বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ২ জুলাই এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ৭ জনসহ মোট ১১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের এমসিকিউ (ক) সেটের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছেন তানোর কলেজের শিক্ষকরা। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিয়ে জানা জানি হলে ওই কলেজের শিক্ষকরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীদের চাপ সৃষ্টি করেন।

কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা যাতে কারো কাছে না বলি বা অভিযোগ না করি সে জন্য তানোর কলেজের শিক্ষক মাসিন্দা গ্রামের মামুন স্যার আমাদের শাসিয়েছেন। নিজেদের শিক্ষা জীবনের কথা ভেবে অবশেষে আমরা তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাই।’

সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডে জানানো হয়েছে। আমাকে কেন্দ্রসচিব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্র সচিব দেওয়া হয়েছে।’

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না। রবিবার শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে জানিয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ভুলক্রমে ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা নেওয়া এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে কলেজের (অধ্যক্ষ) কেন্দ্রসচিব এবং কক্ষ পরিদর্শক দুজন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সমস্য যেন না হয়, সে জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

রাস্তায় নাটক করলে হবে না : উপাচার্যকে বললেন জাবি ছাত্রী | কালের কণ্ঠ