• ই-পেপার

বাকৃবির নতুন উপাচার্য ড. এমদাদুল হক চৌধুরী

জবিতে বাসের ওপর উপড়ে পড়ল শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া

জবি প্রতিনিধি
জবিতে বাসের ওপর উপড়ে পড়ল শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীতে টানা ভারি বর্ষণের প্রভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে একটি শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছ উপড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের ওপর পড়েছে। এতে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় এবং আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন রফিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গাছটির গোড়ার মাটি নরম হয়ে শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ে। বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার মধ্যে একপর্যায়ে বিশাল কৃষ্ণচূড়াগাছটি হঠাৎ উপড়ে পাশেই পার্কিং করে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের ওপর আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে গাছটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গাছটির ভারী কাণ্ড ও ডালপালার আঘাতে বাসটির ছাদ, জানালা ও বিভিন্ন অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলটি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চলাচলের পথ হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও সে সময় বাসে কিংবা গাছের নিচে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত রাত থেকে টানা ভারি বৃষ্টির কারণে গাছটির গোড়ার মাটি সরে যায়। হঠাৎ বিকট শব্দে গাছটি উপড়ে পাশে রাখা বাসের ওপর পড়ে। তখন আশপাশ দিয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচল করছিলেন। ভাগ্য ভালো, বাসে বা গাছটির নিচে কেউ ছিলেন না। না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

ঘটনার পরপরই উপড়ে পড়া গাছ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাস দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসিরুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গাছটি ভেঙে পড়ার সময় বাসের ভেতরে বা আশপাশে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। গাছের আঘাতে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় মুহূর্তের জন্য ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা সতর্ক রয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কত টাকা পাবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কত টাকা পাবে?
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন। পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। মোট ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন ছাত্রী (৫৪.৭১ শতাংশ) এবং ৩৫ হাজার ৮৯২ জন ছাত্র (৪৫.২৯ শতাংশ) বৃত্তি অর্জন করেছে।

মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) এবং ৪৬ হাজার ২৮১ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। বিদ্যালয়ভিত্তিক হিসাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৯৬২ জন এবং কিন্ডারগার্টেন থেকে ৯ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৮২টি বৃত্তি পেয়েছে ঢাকা জেলার শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ১৮৮টি বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলার শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি ৮ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে দিনাজপুর জেলায়।

বর্তমানে ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা ও বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে পাচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুমোদিত হলে বৃত্তির অর্থ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক ভাতা ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকায় উন্নীত হবে।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
প্রতীকী ছবি

রাজধানীতে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রবিবার (১২ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্ষা মৌসুম ও টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকার বেশ কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সকালের দিকে প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা আগে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় তৎপর রয়েছেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে রাস্তায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তা নেওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বছর ঢাকা মহানগরের অসংখ্য কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব এড়াতে গণপরিবহন বা নিজস্ব যানবাহনে যাতায়াতকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করতে সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা করছে সরকার : ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করতে সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা করছে সরকার : ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ ব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে থাকবে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও লেসন, যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে সমানভাবে শেখার সুযোগ পায়।

আজ রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০২৮ সালের জন্য একটি যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে। বর্তমানে যে পাঠ্যবইগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাত্ত্বিক শিক্ষার তুলনায় ব্যাবহারিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবজীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরো শক্তিশালী করা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষা নতুন প্রজন্মের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, জাতীয় পরিচয় এবং সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, দলগত কাজ এবং সুস্থ জীবনাচারের চর্চা গড়ে উঠবে।

ববি হাজ্জাজ আরো বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং  যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
 

বাকৃবির নতুন উপাচার্য ড. এমদাদুল হক চৌধুরী | কালের কণ্ঠ