• ই-পেপার

ব্যাংকেও আগামী শনিবারের ছুটি বাতিল

ব্যাংকে ছুটি ৭ দিন, সীমিত পরিসরে খোলা ২৫ ও ২৬ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংকে ছুটি ৭ দিন, সীমিত পরিসরে খোলা ২৫ ও ২৬ মে

ঈদুল আজহায় তফসিলি ব্যাংকগুলোতে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৫ মে থেকে এ ছুটি শুরু হবে। তবে সীমিত পরিসরে দুই দিন কিছু এলাকায় ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ মে শনিবার ও ২৪ মে রবিবার তফসিলি ব্যাংকসমূহের সব শাখা ও উপশাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এরপর ২৫ মে সোমবার থেকে ৩১ মে রবিবার পর্যন্ত ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে শিল্প এলাকাগুলোতে ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা থাকবে।

যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা

ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। 

এসব শাখায় অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।

এ ছাড়া সমুদ্র স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথসমূহে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে।

৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই বাজেট অনুমোদন করা হয়। 

সভায় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে আরো আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি।

সভায় উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, এবারের উন্নয়ন কর্মসূচি পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলগত কাঠামোর আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনাকে পাঁচটি প্রধান স্তম্ভে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিভিত্তিক সামাজিক সংহতি জোরদার।

আরো পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে সুখবর

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে সুখবর

 

রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার অংশে বিচার ও আইনগত সেবা সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর, সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহু বছর মেয়াদি সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়নকে এবারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট উন্নয়ন কর্মসূচির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও বড় বরাদ্দ পেয়েছে।

আরো পড়ুন
নড়াইলে পিকআপ-ট্রলি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

নড়াইলে পিকআপ-ট্রলি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

 

তবে এবারের উন্নয়ন কর্মসূচির সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দিক হচ্ছে থোক বরাদ্দের ব্যাপক সম্প্রসারণ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিপরীতে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

কার্যপত্রে দেখা যায়, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অতীতের তুলনায় এ ধরনের অনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পাশাপাশি থোক বরাদ্দও বড় আকারে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় হাজার আট কোটি টাকা, কিন্তু একই বিভাগের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। একইভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৪৮ কোটি টাকা হলেও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগেও তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন
স্থানীয়দের নজরদারিতে ধরা পড়ল ‘তেল চোর দম্পতি’

স্থানীয়দের নজরদারিতে ধরা পড়ল ‘তেল চোর দম্পতি’

 

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে এবারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে। সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবার কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ আরো এক হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। এছাড়া আগামী জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উন্নয়ন কর্মসূচিতে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলাকে পণ্য পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, উপকূলীয় সুরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরো পড়ুন
মিরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের

মিরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের

 

তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের সামান্য বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বাস্তবতায় আরো বড় আকারের উন্নয়ন কর্মসূচি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জুন ২০২৭ সালের মধ্যে সমাপ্তিযোগ্য প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নতুন ব্যয় সীমিত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি?

অনলাইন ডেস্ক
আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি?

দেশের বাজারে গত শনিবার আরেক দফা কমানো হয়েছে সোনার দাম। ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা, যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। 

বাজুস জানায়, নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ১৪১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

আরো পড়ুন
দেশে চাহিদার চেয়ে ২২ লাখের বেশি পশু রয়েছে : টুকু

দেশে চাহিদার চেয়ে ২২ লাখের বেশি পশু রয়েছে : টুকু

 

এর আগে গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। 

এদিকে সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দৃষ্টি এখন বাজেটে

জোর ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতিতে

অনলাইন ডেস্ক
জোর ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতিতে

নতুন সরকার আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবে। এই বাজেটের অন্যতম প্রধান নীতিগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উদারীকরণের একটি রোডম্যাপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থ বিভাগ ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ প্রণয়নে কাজ করছে।

আরো পড়ুন
যেসব এলাকায় আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

যেসব এলাকায় আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

 

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও উদারীকরণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী বাজেটে যেন সম্ভব সর্বোচ্চ পরিমাণে এসব নির্বাচনী অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অর্থ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতেই এই রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য বিদ্যমান বিভিন্ন বাধা দূর করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং দেশীয় বাজারকে সবার জন্য আরো উন্মুক্ত করে দেওয়া। নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বলতে বিভিন্ন শিল্প খাতে সরকারের বিধিনিষেধ ও তদারকি কমানো বা তুলে নেওয়াকে বোঝায়, যার লক্ষ্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। অন্যদিকে বাণিজ্য উদারীকরণ বলতে দেশগুলোর মধ্যে পণ্যের অবাধ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা কমানো বা তুলে নেওয়াকে বোঝায়।

আরো পড়ুন
হাতে মেহেদির রঙ না মুছতেই নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

হাতে মেহেদির রঙ না মুছতেই নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

 

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই শুল্ক ও করের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই এগুলো যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো জরুরি। তিনি আরো বলেন, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের অংশ হিসেবে লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতের ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা যেতে পারে।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা, লজিস্টিক নীতি বাস্তবায়ন, সরকারি সেবা পেতে সময় কমানো, সমুদ্রবন্দরে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমানো, বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া কার্যকর করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আরো পড়ুন
সব মামলায় আইভীর জামিন বহাল কারামুক্তিতে বাধা নেই

সব মামলায় আইভীর জামিন বহাল কারামুক্তিতে বাধা নেই

 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ১৯৯১-৯৫ সময়ে বিভিন্ন খাতে প্রতিযোগিতার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নানা সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর সংস্কার পদক্ষেপ নিতে হবে এবং জনগণের কাছে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে কোন খাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মাসে অর্থ বিভাগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিল, তারা নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও উদারীকরণ-সংক্রান্ত ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয় অতীতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য দিলেও মাত্র কয়েকটি মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। এখন অর্থ বিভাগ সেসব পরিকল্পনার ভিত্তিতে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে।

আরো পড়ুন
১৬২ পয়েন্টে ১৬০০ গডফাদার

১৬২ পয়েন্টে ১৬০০ গডফাদার

 

আগামী বাজেটে অংশীজনরা বিশেষভাবে জানতে চান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করনীতি সংস্কারে কী করবে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন কিভাবে আরো কার্যকর করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে ব্যবসা সহজ করতে নতুন সরকার এসব বিষয়ে আরো গুরুত্ব দিতে পারলে তা স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন