নতুন সরকার আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবে। এই বাজেটের অন্যতম প্রধান নীতিগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উদারীকরণের একটি রোডম্যাপ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থ বিভাগ ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ প্রণয়নে কাজ করছে।
আরো পড়ুন
যেসব এলাকায় আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও উদারীকরণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী বাজেটে যেন সম্ভব সর্বোচ্চ পরিমাণে এসব নির্বাচনী অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অর্থ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতেই এই রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য বিদ্যমান বিভিন্ন বাধা দূর করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং দেশীয় বাজারকে সবার জন্য আরো উন্মুক্ত করে দেওয়া। নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বলতে বিভিন্ন শিল্প খাতে সরকারের বিধিনিষেধ ও তদারকি কমানো বা তুলে নেওয়াকে বোঝায়, যার লক্ষ্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। অন্যদিকে বাণিজ্য উদারীকরণ বলতে দেশগুলোর মধ্যে পণ্যের অবাধ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা কমানো বা তুলে নেওয়াকে বোঝায়।
আরো পড়ুন
হাতে মেহেদির রঙ না মুছতেই নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু
এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই শুল্ক ও করের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই এগুলো যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো জরুরি। তিনি আরো বলেন, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের অংশ হিসেবে লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতের ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা যেতে পারে।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা, লজিস্টিক নীতি বাস্তবায়ন, সরকারি সেবা পেতে সময় কমানো, সমুদ্রবন্দরে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমানো, বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া কার্যকর করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আরো পড়ুন
সব মামলায় আইভীর জামিন বহাল কারামুক্তিতে বাধা নেই
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ১৯৯১-৯৫ সময়ে বিভিন্ন খাতে প্রতিযোগিতার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নানা সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না।
তিনি বলেন, ‘সরকারকে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর সংস্কার পদক্ষেপ নিতে হবে এবং জনগণের কাছে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে কোন খাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মাসে অর্থ বিভাগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিল, তারা নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও উদারীকরণ-সংক্রান্ত ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয় অতীতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য দিলেও মাত্র কয়েকটি মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। এখন অর্থ বিভাগ সেসব পরিকল্পনার ভিত্তিতে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে।
আগামী বাজেটে অংশীজনরা বিশেষভাবে জানতে চান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করনীতি সংস্কারে কী করবে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন কিভাবে আরো কার্যকর করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে ব্যবসা সহজ করতে নতুন সরকার এসব বিষয়ে আরো গুরুত্ব দিতে পারলে তা স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন