সিলেট বিভাগে কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত আছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার পশু। তবে শঙ্কা দেখা দিয়েছে ভারত থেকে চোরাইপথে আসা ‘বর্ডার ক্রস’ গরু নিয়ে। ঈদের আগে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাকারবারিরা অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আনা শুরু করেছেন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশীয় গরুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন খামারিরা। আর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, ন্যায্যমূল্য না পেলে দেশীয় গরু উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবেন খামারিরা।
সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির জন্য সিলেট বিভাগে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে মোট চাহিদা ২ লাখ ৭২ হাজার ১৭৪টি পশুর। বিপরীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৪টি। বিভাগের চার জেলা মিলে চাহিদার চেয়ে বেশি আছে ১৩ হাজার ৬৯০টি পশু। জেলাওয়ারি হিসাব, এ বছর কোরবানির জন্য সিলেট জেলায় প্রস্তুত ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৫টি পশু। আর জেলায় কোরবানির জন্য চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৮টি পশু। অর্থাৎ জেলায় কোরবানির জন্য উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৪ হাজার ২৭টি। মৌলভীবাজার জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৭৪ হাজার ৫৮৪টি পশু। আর চাহিদা ৭১ হাজার ৭৭২টি, উদ্বৃত্ত রয়েছে ২ হাজার ৮১২টি। হবিগঞ্জ জেলায় প্রস্তুত ৫০ হাজার ৮০২টি পশু। বিপরীতে চাহিদা ৪৬ হাজার ৫০টি। চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪ হাজার ৭৫২টি। সুনামগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৫২ হাজার ৫১৩টি পশু। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ৪১৪টি। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত পশু ২ হাজার ৯৯টি।
আরো পড়ুন
দালাল দেয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস
এদিকে ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতিদিন সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটের দুর্গম সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে গরু আসছে। পরে সেগুলো ট্রাক ও পিকআপ দিয়ে শহরের বাজারগুলোতে আনা হচ্ছে। এতে স্থানীয় খামারিরা বছরজুড়ে লালনপালন করা নিজেদের পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।
সিলেট শহরতলির দলইপাড়ার সুরমা এগ্রোর ব্যবস্থাপক জামাল আহমদ জানান, তার খামারে কোরবানির জন্য ১৫টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু যেভাবে ভারতীয় গরু আসছে তাতে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তিনি।
আরো পড়ুন
যেসব এলাকায় আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. আবু জাফর মো. ফেরদৌস জানান, সিলেট বিভাগের কোনো জেলায় কোরবানির পশুর সংকট নেই। স্থানীয় পশু দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু ভারত থেকে গরু এলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। আর ন্যায্যমূল্য না পেলে খামারিরা গরু লালনপালনে উৎসাহ হারাতে পারেন।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন