• ই-পেপার

জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে উত্তেজনা, সভা-সমাবেশে সিএমপির নিষেধাজ্ঞা

ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় ২ মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় ২ মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

সোমবার (১৮ মে) সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে। 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি (গির্জাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা সুশীল চন্দ্র রায় (৬৮) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তিনি পরিবারের সবার অগোচরে কীটনাশক সেবন করেন। পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের ছোট ভাই শ্রী মলিন চন্দ্র রায় জানান, তাঁর বড় ভাই দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রোগযন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মৃত্যু নিয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ সৎকারের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী থানায় এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা (মামলা নং-১৫) করা হয়েছে।

অন্যদিকে রানীশংকৈল উপজেলার ৩ নম্বর হোসেনগাঁও ইউনিয়নের উজধারী গ্রামে এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের নাম স্বপন কুমার রায় (২০)। তিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন এবং সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় কর্মরত স্বপন কুমার রায়ের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকায় তাঁর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গতকাল রাতে স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসা কেন্দ্র করে মনোমালিন্য হয়। পরে রাতের খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বপন। আজ  সোমবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় পরিবার।

রানীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

চাঁদপুরে হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরে হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ট্রলিচালক ওয়াসিম বেপারীকে (২৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আরিফ হোসেন বেপারী (৪৩) নামের যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. কামাল হোসাইন এই রায় দেন।

হত্যার শিকার ওয়াসিম উপজেলার শিকিরচর গ্রামের বেপারী বাড়ির মৃত সাহেব আলী বেপারীর ছেলে। তিনি পেশায় ট্রলিচালক ছিলেন। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আরিফ হোসেন বেপারী একই বাড়ির তৈয়ব আলী বেপারীর ছেলে।

আরো পড়ুন
শেরপুরে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

শেরপুরে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মিজানুর রহমান ওরফে বালু মিজান পরিবারের সঙ্গে ওয়াসিম পরিবারের জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ২৯ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মিজানুর রহমান ফোন করে ওয়াসিমকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বাড়ির পাশের সেচ প্রকল্পের বাঁধের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে তার মরদেহের সন্ধান পায় পরিবার।

ওই ঘটনার পরদিন ৩০ জুন মতলব উত্তর থানায় ওয়াসিমের মা জাহানারা বেগম (৬০) বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন তৈয়ব আলী বেপারীর ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে বালু মিজান (৪৫), আরিফ হোসেন বেপারী (৪৩), মো. আজাদ বেপারী (৪০), মো. করিম বেপারী (৩৮), মেয়ে সালমা বেগম (২৭) ও একই বাড়ির মোশারফ বেপারীর ছেলে মো. কুদ্দুছ বেপারী (২৫)।

মামলাটির তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আউয়ালকে। তিনি মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩১ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী কামাল উদ্দিন বলেন, মামলাটি আদালতে চলমান অবস্থায় ২৫ জনের সই নেওয়া হয়। সাক্ষ্য প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামি তার অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক তার উপস্থিতিতে এই রায় দেন। অপর আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অপর আইনজীবী ছিলেন হারুনুর রশিদ এবং আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জাবির হোসাইন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে কয়েদির মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে থাকা তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি মরণ মিয়া (৪০) মারা গেছেন। সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

মরণ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের ধরমন্ডল গ্রামের বায়জিদ মিয়ার ছেলে। ইয়াবা সেবন মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিনি কারাগারে ছিলেন।

হাসপাতাল ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে কারাগারে নাশতা করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মরণ মিয়া। এ সময় কারাগারের চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারাগারের চিকিৎসক ডা. শাখাওয়াত হোসেন তানভীর জানান, মরণ মিয়াকে কারাগাটেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার জানান, ইয়াবা সেবন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ৯ মে মরণ মিয়া কারাগারে আসেন। সোমবার সকালে তিনি অসুস্থবোধ করলে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে তার লাশ রাখা হয়েছে। 

কটিয়াদী

নিখোঁজের ৪ দিন পর ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
নিখোঁজের ৪ দিন পর ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিখোঁজের চারদিন পর নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার পৌর এলাকার ভোগপাড়া মহল্লায় কটিয়াদী-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি মো. জিল্লুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তির। তিনি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরগোহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। ঘটনার পরপরই কটিয়াদী সার্কেল এসপি মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জিল্লুর রহমানের গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরগোহালবাড়িয়া গ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে কটিয়াদী সদরে বসবাস করতেন। স্ত্রী ছাড়াও তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কটিয়াদী পৌর এলাকায় তার দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ‘মুন ডিজিটাল স্টুডিও অ্যান্ড কালার ল্যাব’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছিলেন। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে ‘অন-টাইম প্লেট অ্যান্ড গ্লাস’ তৈরির কারখানা দিয়ে ব্যবসাও শুরু করেন।

পরিবারের লোকজন জানান, শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তিনি। সোমবার সকালে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে মরদেহটি মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ওই কারখানায় কাজ করা দুই কর্মী মদিনা ও শারমিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে আমরা সর্বশেষ কাজ করে চলে যাই। আমরা ছাড়াও আরেকজন ড্রাইভার ছিল, তবে তার নাম আমরা জানি না। তিনিও এখানে কাজ করতেন। মালামাল আসলে আমাদের ফোনে জানানো হতো। এরপর থেকে কাজের জন্য আর কোনো ফোন পাইনি।’

এদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওই ড্রাইভারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ তার নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি।

মৃত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী অন্তরা বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে নাশতা খেয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর দুপুরে সর্বশেষ কথা হয়। পরে ফোনে কল গেলেও তিনি রিসিভ করেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেখি মরদেহটি মেঝেতে পড়ে রয়েছে।’

চাচাতো ভাই আব্দুল হাশিম বলেন, ‘কিভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে, তার সঠিক তদন্ত চাই। আমার ভাই খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। আমরা তার নম্বরে অনেকবার কল দিয়েছি, কিন্তু ফোন খোলা থাকলেও রিসিভ হয়নি।’

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। নিখোঁজের বিষয়ে থানাকে আগে অবগত করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’