• ই-পেপার

পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

  • যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি যুক্তরাজ্য ফ্রান্স ইতালি কানাডা জাপান নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কে পোশাক রপ্তানি কমেছে

দেশে সোনার পর রুপার দামেও বড় পতন, ভরিতে কমল কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে সোনার পর রুপার দামেও বড় পতন, ভরিতে কমল কত?
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে আরেক দফা কমানো হয়েছে রুপার দাম। এবার ভরিতে ৪০৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে সবশেষ গত ১৯ জুন সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ২৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২৪ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

এদিকে, ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮০ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪০ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৯ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি জুন পর্যন্ত সাত শিল্প এলাকা

কাজের অভাব ও আর্থিক সংকটে শিল্পে ধস, ৪৫৭ কারখানার ৮৬ শতাংশই স্থায়ীভাবে বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
কাজের অভাব ও আর্থিক সংকটে শিল্পে ধস, ৪৫৭ কারখানার ৮৬ শতাংশই স্থায়ীভাবে বন্ধ

আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৭০০ শ্রমিক। শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৬ জুন থেকে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদিকে মালিক পক্ষের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, চাকরিসংক্রান্ত সুবিধাসহ সব আইনানুগ পাওনা আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি জুন পর্যন্ত শিল্প অধ্যুষিত সাতটি এলাকায় মোট ৪৫৭ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। 

শিল্প গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৫৭ কারখানার মধ্যে ২০৫টি বন্ধ হয়েছে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশের অভাবে। ১৯০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে মালিকের আর্থিক সংকটে। অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ, পর্যাপ্ত কাজের অভাব ও মালিকের আর্থিক সংকট। এ ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ হয়েছে ১১টি কারখানা। রাজনৈতিক, ব্যাংক জটিলতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কাঁচামালের অভাব ও ফ্যাক্টরি স্থানান্তরসহ অন্যান্য কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৫১টি কারখানা।

শিল্প পুলিশ সূত্র বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারখানা বন্ধ করা হচ্ছে শ্রম আইন অনুযায়ী নোটিস দিয়ে। তবে সংকট তৈরি হচ্ছে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বিলম্বের কারণে। সূত্রটির ভাষ্য, নোটিশ দিয়ে বন্ধের প্রক্রিয়া আইনগত হলেও অনেক ক্ষেত্রে বেতন, সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ করা হয় না। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কারখানা বন্ধের বিষয়টি আগে থেকে অবহিত না করলে হঠাৎ শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হয়, যা পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, ‘অধিকাংশ কারখানাই শ্রম আইন অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করছে। তবে মূল সমস্যা হলো—শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বিলম্ব। অনেক কারখানা নোটিশ দিয়ে বন্ধ করলেও শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা অনেক সময় ঠিকভাবে পরিশোধ করা হয় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটমেন্ট রক্ষা না হলে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করি। এটি আমাদের মূল দায়িত্ব না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটা করতে হয়। আগে থেকে তথ্য না থাকলে অনেক সময় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে যায়।’

দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে মোট কারখানার সংখ্যা ১০ হাজার ২৩৮। এর মধ্যে আশুলিয়ায় ১ হাজার ৭০৫ কারখানার মধ্যে বন্ধ হয়েছে ১২৪টি। গাজীপুরে ২ হাজার ৭৬৪ কারখানার মধ্যে বন্ধ হয়েছে ১৫৫টি। চট্টগ্রামে ১ হাজার ৭৭৮ কারখানার মধ্যে ১১৯টি বন্ধ। নারায়ণগঞ্জে ১ হাজার ৯৬০ কারখানার মধ্যে বন্ধ ৩৮টি। ময়মনসিংহে ২৯৩ কারখানার মধ্যে বন্ধ আটটি। খুলনায় ৬৭৩ কারখানার মধ্যে বন্ধ ছয়টি। কুমিল্লায় ৩১৭ কারখানার মধ্যে সাতটি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। তবে সিলেট অঞ্চলে স্থায়ী বন্ধ হওয়া কোনো কারখানার তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৪৫৭ বন্ধ কারখানার মধ্যে তৈরি পোশাক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সদস্য ১০৮টি। এ খাতের আরেক সংগঠন বিকেএমইএ সদস্য কারখানার সংখ্যা ৩৫। তৈরি পোশাকের কাঁচামাল সুতা-কাপড় উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন বিটিএমএ সদস্য আটটি। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাধীন বন্ধ কারখানা রয়েছে ১৯টি। কোনো সংগঠনের বাইরে থাকা কারখানার সংখ্যা ২৮৭। স্থায়ীভাবে বন্ধ ১৫১টি বা এক-তৃতীয়াংশের বেশি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্ট কারখানা।

পোশাকশিল্প খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, দীর্ঘ মেয়াদের ক্রয়াদেশ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ অনেক কারখানার টিকে থাকার সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অর্ডার প্রবাহে অনিশ্চয়তা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেও শিল্পে চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার এরই মধ্যে বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে। বিজিএমইএ সূত্র অনুযায়ী, এরই মধ্যে ৩২২ কারখানা এ প্রণোদনা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ১৯৯টি পুরোপুরি বন্ধ, বাকি ১২৩টি আংশিকভাবে বন্ধ। এসব কারখানার প্রণোদনা প্রাপ্তির যোগ্যতা যাচাই-বাছাই চলছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘কারখানা বন্ধের বিষয়টি একমাত্রিক নয়। বন্ধের কারণগুলোর ক্ষেত্রে ছোটখাটো ব্যত্যয় থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তথ্য সঠিক। সব কারখানা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। কিছু কারখানা সংকটে আছে কিছু টিকে থাকার লড়াই করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার মাধ্যমে কিছু কারখানা সচল রাখা সম্ভব। সে উদ্যোগও চলমান রয়েছে।’ তৃতীয় পক্ষের অডিটের মাধ্যমে বন্ধ কারখানার প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের প্রক্রিয়া রয়েছে জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, ‘কোন কারখানা চালু রাখা সম্ভব আর কোনটি সংকটে রয়েছে, সেটা নির্ধারণ করতে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

শিল্প খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একাধিক চাপ একসঙ্গে তৈরি হওয়ায় অনেক কারখানা কার্যক্রম চালাতে পারছে না। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ব্যাংক খাতে ঋণ সংকোচন জ্বালানি ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি শিল্পে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা। ফলে একদিকে অর্ডার কমছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘এ সংকট একক কারণে হয়নি। এটি দীর্ঘমেয়াদি ও নানামুখী সমস্যার ফল। শুরুতে অর্ডার ঘাটতি ছিল, যা পরে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সংকটে রূপ নেয়। অনেক কারখানা এলসি খুলতে পারেনি, ফলে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।’

জ্বালানিসংকট গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চাপ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক সংকট, কভিড মহামারির অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাবও শিল্পে পড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে অতিসম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংকট। সব মিলিয়ে কারখানা বন্ধের পেছনে বহুবিধ কারণ রয়েছে।’

শিল্প খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের উৎপাদন খাতে যে উচ্চমাত্রার বন্ধ ও স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে শুধু আর্থিক দুর্বলতা নয়, বরং বাজার চাহিদার সংকোচন, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং কাঠামোগত দুর্বলতাও সমানভাবে দায়ী। প্রকৃত বিপদগ্রস্ত কারখানাগুলোকে উৎপাদনে ফেরাতে সরকারের উদ্যোগও রয়েছে। কিন্তু ঢালাওভাবে সহায়তা না দিয়ে প্রকৃতভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা আছে এমন শিল্পগুলোকে বাছাই করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘বিপদগ্রস্ত কারখানাগুলোকে সাহায্য করার বিষয়টি আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। কারণ সামষ্টিক অর্থনীতি, কভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে গত তিন-চার বছরে দেশের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়েছে। এ অবস্থায় নীতিগত সহায়তা পেলে অনেক প্রতিষ্ঠান আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে ঢালাওভাবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। যেগুলো বহু বছর ধরে বন্ধ, তাদের ক্ষেত্রে স্বল্প সহায়তায় পুনরায় চালুর সম্ভাবনা কম। কারণ তাদের মেশিনারি ও অবকাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি পুনর্গঠন ছাড়া চালু করা সম্ভব নয়। আবার এমন কারখানাও আছে, যেগুলো সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে, তাদের পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে টার্গেটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারা সত্যিকারের উপকারভোগী হবে, সেটা ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর ক্ষেত্রেও বিবেচনা করতে হবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আদৌ আবার ব্যবসায় ফিরতে পারবে কি না।’

যাদের সহায়তার জন্য বাছাই করা হবে, তাদের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি অডিট করা দরকার জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘তাদের প্রকৃত অবস্থা কী, কেন বন্ধ হয়েছে, তা যাচাই করতে হবে। এরপর রিকভারি রোডম্যাপ তৈরি করে সেটি ভ্যালিডেট করার পরই সহায়তা দেওয়া উচিত।’

সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমল কত?

অনলাইন ডেস্ক
সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমল কত?

দেশের বাজারে সোনার দাম ফের কমেছে। ভরিপ্রতি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা, যা আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
 
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৫ হাজার ২৪৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৪ হাজার ৪৯০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

এর আগে গত ২২ জুন সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা। 

এদিকে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪০৯ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯১ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২৩৪ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলা কিউআর: আর্থিক লেনদেনে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

বাসস
বাংলা কিউআর: আর্থিক লেনদেনে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

দেশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরো সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করছে বাংলা কিউআর (কুইক রেসপন্স)। নগদবিহীন (ক্যাশলেস) এই ব্যবস্থা আরো সহজ ও স্বচ্ছ করবে লেনদেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলা কিউআর অনলাইন ভিত্তিক আর্থিক লেনদেনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ করতে ‘বাংলা কিউআর’কে একটি অভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে সারাদেশে বাংলা কিউআর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। এর ফলে শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের ব্যবসায়ী পর্যন্ত সর্বত্র একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলা কিউআরের সবচেয়ে বড় শক্তি এর সর্বজনীনতা ও কম খরচ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে যেখানে ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (সিএম) মেশিনের প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলা কিউআর ব্যবহারে একটি সাধারণ কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট হবে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফুটপাতের দোকানদার কিংবা বিভিন্ন সেবাদাতাও সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআর একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। এতে কার্ড ক্লোনিং বা পিন চুরির মতো ঝুঁকি নেই। গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন হয়।

এদিকে বাংলা কিউআর -এর ব্যবহার সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আহ্বায়ক করে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রথম বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের প্রতিনিধি এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের মাধ্যমে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে, লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরো সহজে আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এখন পুরো পৃথিবীই নগদবিহীন (ক্যাশলেস) লেনদেনে অভ্যস্ত। বাংলা কিউআর চালু হলে অবশ্যই ভালো হবে। উন্নত বিশ্বে তো এখন কেউ নগদ অর্থ বহন করে না। সবাই নগদবিহীন (ক্যাশলেস) লেনদেন করে। এটা চালু হলে ব্যবসায়ী থেকে ক্রেতাসহ সব মানুষই ব্যাপক সুবিধা পাবে। পাশাপাশি আমরা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লেনদেন করতে পারব।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে এখন অধিকাংশ পেমেন্টই ডিজিটাল মাধ্যমে করা যায়, সে যায়গায় আমরা এতদিন কিছুটা পিছিয়ে ছিলাম। বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার জন্য বাংলা কিউআর একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। বিশেষ করে পেমেন্ট, ফান্ড ট্রান্সাফারকে সহজ ও ঝামেলাহীন করে তুলবে এটি। এছাড়াও  এর মাধ্যমে সরকারের আর্থিক লেনদেনেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

তিনি আরো বলেন, এটি শুধু চালু করলেই হবে না। সরকারকে এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে, বিশেষ করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে। কারণ ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসিতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। ফলে সবাইকে যদি সচেতন না করা যায়, তাহলে এটির সুবিধা কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থাৎ সর্বস্তরে পৌছানো যাবে না।

এ বিষয়ে নিউমার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ বলেন, একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে যদি সব পেমেন্ট করা যায় তাহলে ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝামেলা অনেকটা কমে আসবে। এখন আলাদা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর রয়েছে যেগুলো একসঙ্গে রাখা অনেক কঠিন। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তকে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল আমিন বলেন, অনলাইন পেমেন্টগুলোতে প্রধানত নিরাপত্তা  এবং ডিজিটাল যে ঝুঁকিসমূহ থাকে সেগুলোর যথাযথ সুরক্ষা প্রদান জরুরি। এগুলো মাথায় রেখেই হয়তোবা বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কার্যাক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন করতে হবে এর সহজ ব্যবহারবিধি সম্পর্কে। আর সবকিছু যদি যথাযথভাবে অনুসরণ করে তাহলে দেশের জনগণ সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করতে পারবে এবং ঝুঁকি কমে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এ বিষয়ে বলেন, বিএনপি সররকার বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আধুনিকায়নের যে আশ্বাস দিয়েছে, এই অনলাইন নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা চালু তারই একটি অংশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসাকে সহজ করে দিতে চান, যেন মানুষ ব্যবসা করতে আগ্রহী হন। ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নগদ টাকার পরিবর্তে অনলাইনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে লেনদেন করতে পারবেন। এতে তাদের ব্যবসার নিরাপত্তা বাড়বে।

পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ | কালের কণ্ঠ