• ই-পেপার

জার্মানিতে চুরির হারে নতুন রেকর্ড, ক্ষতি ৪.৩৩ বিলিয়ন ইউরো

মদ্যপ অবস্থায় দুর্ঘটনা, কারাগারে থাইল্যান্ডের ‘মাইকেল জ্যাকসন’

অনলাইন ডেস্ক
মদ্যপ অবস্থায় দুর্ঘটনা, কারাগারে থাইল্যান্ডের ‘মাইকেল জ্যাকসন’
সংগৃহীত ছবি

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক টিক শিরোকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আশির দশকের শেষভাগ ও নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই শিল্পীকে তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও নাচের ধরন দেখে অনেকেই 'থাইল্যান্ডের মাইকেল জ্যাকসন' বলে ডাকতেন।

টিক শিরোর আসল নাম মানাসাউইন নানতাসেন। বুধবার ব্যাংককের একটি ফৌজদারি আদালত তাকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ৬৪ বছর বয়সী এই গায়ক ব্যাংককের একটি সেতু দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেন। মোটরসাইকেলটি তখন সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা ২৮ বছর বয়সী এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার ২১ বছর বয়সী ভাই গুরুতর আহত হয়ে সেতু থেকে নিচে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে টিক শিরোকে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এই ঘটনা থাইল্যান্ডে বিশেষভাবে আলোচিত হয়, কারণ দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণা রয়েছে যে ধনী, প্রভাবশালী বা বিখ্যাত ব্যক্তিরা অনেক সময় আইনের কঠোর শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারেন। রায়ের পর আদালত এক বিবৃতিতে জানায়, মানাসাউইন নানতাসেন তদন্তে সহযোগিতা করেছেন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। এছাড়া মামলার বিচারকাজে সহায়ক তথ্যও দিয়েছেন। আদালত আরো উল্লেখ করে, তিনি নিহতদের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। এসব পদক্ষেপ তার অনুশোচনার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে আদালত শুধু কারাদণ্ডই দেননি, তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে একই দিনে থাইল্যান্ডে আরেকটি আলোচিত আইনি ঘটনা ঘটে। জনপ্রিয় রক সংগীতশিল্পী সেক লোসো মাদক এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলায় এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

তবে থাইল্যান্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। দেশটিতে অতীতের বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলাও এ ধরনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

২০১২ সালে বিশ্বখ্যাত এনার্জি ড্রিংক ব্র্যান্ড 'রেড বুল'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা চালেও যোবিদ্যার নাতি এবং কম্পানির উত্তরাধিকারী ভোরায়ুথ যোবিদ্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি ব্যাংককের একটি অভিজাত এলাকায় ফেরারি গাড়ি চালিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

এছাড়া ২০০১ সালে প্রবীণ থাই রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য চালর্ম ইউবামরুং-এর এক ছেলের বিরুদ্ধে ব্যাংককের একটি নাইটক্লাবে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। তবে পরে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তিনি আদালত থেকে খালাস পান।

সাম্প্রতিক রায়কে অনেক পর্যবেক্ষক থাইল্যান্ডের বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তবে দেশটিতে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

চীনের গ্লোবাল টাইমসে কলাম

তারেক রহমানের সফরে নতুন উচ্চতায় যেতে পারে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক

অনলাইন ডেস্ক
তারেক রহমানের সফরে নতুন উচ্চতায় যেতে পারে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য নিয়ে তিন দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে চীনে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর, যার দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে বেইজিংকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দেশের কূটনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্য মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সফরে দুই দেশের মধ্যে শিল্পখাত ও মেগা অবকাঠামোসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৫টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক মতামত নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চীন সফর করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর এবং দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে চীনে এসেছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো এ সফর নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী। তাদের ধারণা, এ সফরে ১৫টির বেশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা সই হতে পারে, যার মধ্যে বড় অবকাঠামো ও শিল্প খাতের প্রকল্পও থাকবে।

চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একে-অপরের বন্ধু, প্রতিবেশী এবং কৌশলগত সহযোগী। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার সম্পর্ক বজায় রেখেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তারা একটি উদাহরণ তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্বে’ উন্নীত করা হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে টানা ১৫ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি হওয়া শতভাগ শুল্কযোগ্য পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দিয়েছে বেইজিং।

অবকাঠামো উন্নয়নেও দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আঞ্চলিক পর্যায়ে চীন ও বাংলাদেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করছে এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায়ও সহযোগিতা করছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় তাদের সহযোগিতা আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন ও আঞ্চলিক সুশাসন নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মও গড়ে তুলেছে উভয় দেশ।

তবে এসব সাফল্যের পরও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রভাব। কিছু পরাশক্তি বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে টানার চেষ্টা করছে। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও হস্তক্ষেপ, অসম চুক্তির চাপ এবং ‘ঋণের ফাঁদ’ তত্ত্বের মতো বর্ণনা ব্যবহার করে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা। তৃতীয় চ্যালেঞ্জ দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও অনেকের মধ্যে চীন সম্পর্কে ধারণা সীমিত। বাংলাদেশের কিছু প্রভাবশালী মহল পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের প্রতি বেশি আস্থাশীল এবং চীনের উন্নয়নপথ ও শিল্প সহযোগিতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেয়।

আবার অন্যদিকে, কিছু অভিজাত মহল চীনের উন্নয়ন মডেল ও সহযোগিতার সুবিধা স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে দেশের কিছু আলোচনায় বাণিজ্য ঘাটতির জন্য শুধু চীনা পণ্যের প্রবেশকে দায়ী করা হয়, অথচ রপ্তানি পণ্যের সীমিত বৈচিত্র্য ও সক্ষমতার মতো কাঠামোগত বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকে।

তবে এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। এজন্য উভয় পক্ষের আরও দূরদর্শিতা ও ধৈর্যের প্রয়োজন। বিশেষ করে পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য কমাতে খোলামেলা আলোচনা ও যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের প্রকৃত অর্থে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের রাজনৈতিক সাহস দেখাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে কতটা গভীর সহযোগিতা চায়, তা দুই দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরবে।

বাংলাদেশি গণমাধ্যমে সফরটির যেসব গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। প্রথমত, শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও বাড়বে। চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করছে। তুলনামূলক কম শ্রমব্যয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন করে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, গ্লোবাল সাউথ এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার শিল্প শৃঙ্খল ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারবে। চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা ব্যবস্থার মতো প্ল্যাটফর্ম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।

সবশেষে, সুশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো হবে, যাতে বাংলাদেশ নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নপথ খুঁজে নিতে পারে। রাজনৈতিক দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা যেতে পারে।

উন্নয়নের কোনও একক মডেল নেই। পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নিজস্ব আধুনিকায়নের পথ অনুসরণ করার মতো সক্ষমতা ও সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে এই মতামত নিবন্ধটি লিখেছেন লিউ জোংই। তিনি সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া স্টাডিজ-এর পরিচালক।

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ৬৮০০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ৬৮০০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন
ছবি : রয়টার্স

ইউরোপজুড়ে চলা রেকর্ড তাপপ্রবাহের কারণে বুধবার উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। দেশটিতে চলমান তীব্র গরমের মধ্যে এটিই প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের একটি ট্রান্সফর্মারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই বিভ্রাট ঘটে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ব্রিটানি অঞ্চলের কুইম্পার শহরের কাছে এরগ-গ্যাবেরিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফিনিস্টের প্রিফেকচার।

ফরাসি গ্রিড অপারেটর আরটিই এবং এনেডিসের দলগুলো সমস্যাটি সমাধানের জন্য সারারাত কাজ করলেও দিনের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার দিনের শেষে ফ্রান্সে এক লাখ ছয় হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। ইউরোপজুড়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশটি ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হয়েছে।

ফরাসি বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা আরটিই জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যার কারণে মঙ্গলবার দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বুধবারের মধ্যে সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

বুধবার ফ্রান্সের ৫৮টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে ফিনিস্তেরও রয়েছে। ব্রিটানি থেকে প্যারিস অঞ্চল পর্যন্ত অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ ধরনের বায়ুপ্রবাহ ও আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে গরম বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে এক এলাকায় আটকে থাকছে। আর জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এই তাপপ্রবাহ আরো তীব্র হয়ে উঠছে।

ওপেন এআইয়ের সাবেক গবেষকের ভারত প্রত্যাবর্তন, এআই খাতে দেখছেন বৈশ্বিক সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক
ওপেন এআইয়ের সাবেক গবেষকের ভারত প্রত্যাবর্তন, এআই খাতে দেখছেন বৈশ্বিক সম্ভাবনা
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেন এআইয়ের একজন সাবেক গবেষক শ্যামল আনন্দকাট জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকা ছেড়ে ভারতে ফিরেছেন। তার মতে, ভারতের দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি খাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের জন্য ‘এক প্রজন্মে একবারই ঘটে’ এমন একটি বিরল ও যুগান্তকারী সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রায় চার বছর তিনি ওপেনএআইতে কাজ করেন। সেখানে তিনি অ্যাপ্লাইড ইভ্যালস দলের নেতৃত্ব দেন, যেখানে উন্নত এআই মডেলের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং উন্নত করার কাজ করা হতো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেখানে তিনি বলেন, প্রচলিত সিলিকন ভ্যালির বাইরে থেকেও বিশ্বমানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ওপেন এআইতে কাজ করার সময় ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক জেনারেটিভ এআই বিকাশের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি কাজ করেছেন। তবে তিনি জানান, ভারতের প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে তিনি সব সময়ই নিজের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অনুভব করেছেন, কারণ তার বেড়ে ওঠা সেখানেই।

আনন্দকাট স্বীকার করেন, বিশ্বের প্রযুক্তি কেন্দ্র থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত শুরুতে তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি মত বদলান। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভারত ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তি চিন্তাবিদদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব আলোচনায় তিনি দেখেছেন, এই অঞ্চল থেকে বিশ্বমানের প্রযুক্তি তৈরি করার শক্তিশালী আকাঙ্ক্ষা অনেকের মধ্যে রয়েছে।

তার মতে, এই অঞ্চলের প্রধান ঘাটতি দক্ষতা বা প্রতিভার নয়, বরং বড় ও ঝুঁকিপূর্ণ ধারণার ওপর কাজ করার আত্মবিশ্বাসের অভাব। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুধু নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকেই গড়ে উঠতে পারে।

যদিও তিনি তার পরবর্তী পেশাগত পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি, তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের এআই বা সুপারইন্টেলিজেন্সকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে তা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে এবং একই সঙ্গে সবার জন্য উপকারী ও সহজলভ্য হয়।

পোস্টের শেষে তিনি তার এই ভাবনার সঙ্গে একমত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, তার নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে আরো তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।