দেশের ডেনিম শিল্পের সক্ষমতা, উদ্ভাবন ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘২০তম বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’। বুধবার (১০ জুন) শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) শেষ হবে।
এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে ডেনিম ও নন-ডেনিম ফ্যাব্রিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, পোশাক প্রস্তুতকারক, গবেষণা ও রঞ্জনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মেশিনারি কম্পানি তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
মেলায় ডেনিম উৎপাদনের সর্বশেষ উদ্ভাবন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং নতুন পণ্যের সমাহার তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এসব উদ্যোগ বৈশ্বিক ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাব্য নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরবে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি ডেনিম শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এ সময়ে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, উচ্চমানের বিনিয়োগ আকর্ষণ, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর এবং এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমন একটি সাহসী ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক বাজেট প্রত্যাশা করে, যা ব্যবসা পরিচালনার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবে।
মাইকেল মিলার আরো বলেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল গেটওয়ে সামিটে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ বর্তমানে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় বাজারেই ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এ অর্জনের পেছনে বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল, প্যাসিফিক জিন্সের পরিচালক লুথমেলা ফারিদ এবং ইন্ডিটেক্সের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান হাভিয়ের সান্তোনহা ওলসিনাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।






