• ই-পেপার

ঋণ প্রবৃদ্ধি কমল বেসরকারি খাতের

শিল্পকারখানায় ছাঁটাই আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক
শিল্পকারখানায় ছাঁটাই আতঙ্ক

নানাবিধ সংকটের মুখে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। বৈশ্বিক সমস্যা, জ্বালানি সংকট, কম অর্ডার, লোডশেডিং সব মিলিয়ে শিল্প মালিকরা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আছেন। প্রায় প্রতি মাসেই বন্ধ হচ্ছে কোনো না কোনো কারখানা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক শিল্প কারখানায় দিতে হচ্ছে লোকসান। সেই লোকসান সামাল দিতে শিল্প মালিকরা বাধ্য হচ্ছেন ‘ম্যানপাওয়ার’ কমাতে। এতেই ছাঁটাই আতঙ্কে ভুগছেন শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা।

তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ব্যবসায়ীদের একপ্রকার কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। হয়রানির ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিলেন। এতে নষ্ট হয়েছে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ। সেই ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিল্প মালিকরা। তারা আরো জানান, গত ১১ মাসের মধ্যে এক-দুই মাস প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও অন্য মাসগুলোতে ছিল নিম্নমুখী। এই ধারা এখনো অব্যাহত।

ঢাকার সাভারে অনেক তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা অবস্থিত। সেখানেও অনেক শিল্প কারখানা তাদের লোকবল কমিয়েছে। চাকরিচ্যুত করেছে অনেক শ্রমিককে। সম্প্রতি সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের ৭ পোশাক কারখানার মোট ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকরা সাভারের রেডিও কলোনি ও উলাইল ও আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় কারখানার সামনে প্রতিদিন জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। শ্রম আইন অনুসরণ না করা, পাওনা পরিশোধ না করার প্রতিবাদে ও চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সার্ভিস লেনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে বর্তমানে ৪৬০টি তৈরি পোশাক কারখানা চালু আছে। সবই মাঝারিশিল্প। লোকসানসহ নানা সমস্যায় গত এক বছরে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে শ্রমিক।

জানা গেছে, নগরীর কালুরঘাট এলাকার একটি বড় পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দীর্ঘদিন বেতন পাচ্ছেন না। ওই কারখানার শ্রমিকদের অন্যত্র চাকরি খুঁজে নিতে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮৩৪টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার বেশির ভাগেই আগে থেকে উৎপাদন কমেছে। হাতেগোনা বড় বড় কয়েকটি কারখানা কোনো রকম উৎপাদন ধরে রাখতে পারলেও ছোট কারখানাগুলোর জন্য টিকে থাকাই কষ্টকর বলছে কর্তৃপক্ষ। টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেক শিল্প কারখানা অনেক কর্মীকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের চাকরিচ্যুত ইউনাইটেড গার্মেন্টের সুপারভাইজার মো. কবির হোসেন বলেন, গত কয়েকমাস ধরেই আমার বেতন দিচ্ছিল না। এরই মধ্যে হঠাৎ করে আমিসহ অনেককেই ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আামাদের মানবেতর দিনযাপন করতে হচ্ছে।

আবির ফ্যাশনের শ্রমিক মো. মিজান বলেন, ঈদের পর গার্মেন্টে যাওয়ার পরই মালিকপক্ষ বলছে তাদের অর্ডার নেই। তাই আমাদের কোনো কাজ নেই। ফলে আমাদের আর প্রয়োজন নেই। আমাদের আর গার্মেন্টে আসতে হবে না। আমরা যেন অন্য কোথাও কাজ খুঁজে নেই। কিন্তু এই সময়ে কোথায় কাজ খুঁজে পাব তার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। এই অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিন্তায় আছি।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি ঈদের পূর্বে এবং পরে ব্যাপকভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। ঈদের পরে ইউনাইটেড গার্মেন্ট বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। আবির ফ্যাশনের শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আর এভাবে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকলে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক অস্তিরতা চলে আসতে পারে। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে প্রায় ২ হাজারেও বেশি শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বড় ধরনের কোনো ঘটনা না থাকলেও জেলার কিছু কিছু কারখানায় নানা কারণে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা এলাকায় অবস্থিত লিবাস নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত মে মাসে তাদের কারখানায় কয়েকজন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছিল। এখন কারখানার কাজকর্ম স্বাভাবিক চলছে। তাদের মধ্যে ছাঁটাই আতঙ্ক কাজ করছে বলে তারা জানান।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কারখানায় কাজের অর্ডার কম থাকা, কাজের অর্ডারের তুলনায় শ্রমিক বেশি হওয়ায়, শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টির অভিযোগ, শ্রমিকদের মাঝে অযৌক্তিক দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও কারখানার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগসহ নানা কারণে চলতি বছরের গত ১৭ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত গাজীপুর জেলার ১৯টি কারখানার ৫৬০ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এসব কারখানা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা, বাসন, কোনাবাড়ী, টঙ্গী, কাশিমপুর, গাছা এবং জেলার গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর উপজেলা এলাকায় অবস্থিত।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু বলেন, কেউ তো ইচ্ছাকৃত শ্রমিক ছাঁটাই করে না। ব্যবসার অবস্থা খারাপ এটা সত্য কথা। আমরা সবসময় বলি, ছাঁটাই করতে হলে কর, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সবার প্রাপ্য পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলেই আমরা আশঙ্কা করছি। যে ইঙ্গিতগুলো দেখছি, তা খুব একটা সুখকর নয়। পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ দেখছি। আমরা চাই সবাই টিকে থাকুক। টিকে থাকার জন্য যদি কেউ মনে করে কিছু শ্রমিক কমিয়ে প্রতিষ্ঠানকে শক্ত অবস্থানে রাখতে হবে, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু যার যা পাওনা, তা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। পরিস্থিতি দুঃখজনক, কিন্তু এটাই বাস্তবতা।

শ্রমিক ছাঁটাই পরিস্থিতি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, যেসব কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, সেখানে মালিক পক্ষ শ্রম আইন অনুযায়ী নোটিস দিচ্ছে এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করেই ছাঁটাই কার্যক্রম সম্পন্ন করছে বলে আমরা জেনেছি। তবে অনেক শ্রমিকের অভিযোগ, ঈদের ছুটিতে যাওয়ার পর ফিরে এসে তারা চাকরি হারানোর বিষয়টি জানতে পারছেন। মূলত চাকরি হারানোই তাদের বড় উদ্বেগের কারণ।

যেসব এলাকায় শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে বা এমন পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে শিল্প পুলিশ নজরদারি ও মোতায়েন জোরদার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও মধ্যস্থতার ভূমিকাও পালন করছি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্ববাজারে কমেছে সোনা-রুপার দাম

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে কমেছে সোনা-রুপার দাম
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। ফলে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক লোকসানের পথে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটি। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। খবর রয়টার্স

শুক্রবার (১২ জুন) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২০৫ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে আসে। সপ্তাহজুড়ে ধাতুটির দাম কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সোনা ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২৬ দশমিক ১০ ডলারে ওঠে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কমেনি বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে ফেড সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বলে ধারণা জোরালো হয়েছে।

ধাতুবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জ্যানার মেটালসের জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ পিটার গ্রান্ট বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে—এমন বিশ্বাস এখনো বাজারে তৈরি হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতা হতে পারে—এমন খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক পশ্চিমা সূত্রের তথ্যমতে, এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষর হতে পারে এবং সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে অনাগ্রহী হতে পারে, যা সোনা বাজারের জন্য নেতিবাচক।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে লাভের পথে রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন : গভর্নর

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু টুলস আছে, যা আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োগ করব। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের জন্য ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্ট (জরুরি তারল্য সহায়তা), যা দেওয়ার প্রয়োজন, তা আমরা দেব।’

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকিং খাত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ‘ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। যেহেতু একটি সিস্টেমিক ব্যাংকে ন্যূনতম পাঁচজন সদস্য ছাড়া বোর্ড চলে না, তাই আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে নিয়োগ দিতে হয়েছে।’

ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে আমরা এসে একটি বোর্ড পাই, যা অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত। পাঁচজনের এই বোর্ডের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তাকে ১৬ মার্চ পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে আমাদের কোনো কার্যক্রম ছিল না। আমরা কোনো বোনাস, বদলি বা পদোন্নতির জন্য কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।’

ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই ২০২৪-এ ইসলামী ব্যাংকের এডিআর (ঋণ-আমানত অনুপাত) ছিল ৯৩, যা বর্তমানে ৯৭-৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের নির্ধারিত সীমা হলো ৯২। আমরা ম্যানেজমেন্টকে এটি কমাতে বলেছি।’

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘আমি এমন অবস্থায় গভর্নর হিসেবে কাজ শুরু করেছি, যখন দেখতে পাই ব্যাংকিং সেক্টরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। ৩৫ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশ এনপিএল (খেলাপি ঋণ) নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকে আমাদের চেষ্টা ছিল সেক্টরটাকে প্রথমে স্থিতিশীল করা এবং তারপর ক্যাপিটালাইজ করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। এইরকম একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

গভর্নর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছিল, এই সরকার আসার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এবং মনোনীত এমডি দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। নতুন এমডি নিয়োগের জন্য ২৫ মার্চ পর্যন্ত আবেদনের সময় দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।’

তিনি যোগ করেন, ‘বিভিন্ন সংস্থা থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ এবং ৬ ও ১০ মে ইন্টারভিউ নেওয়ার পর ১২ বা ১৩ মে এমডি নির্বাচন করা হয়। মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করে মে মাসের শেষে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।’

তিনি জানান, বর্তমানে বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং গত মঙ্গলবার বা বুধবার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রথম সভা করেছেন।

বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সিবিএস (কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার) সমন্বয়ের অভাবের কথা, যা নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

এনবিএফআই নিয়ে সুখবর দিয়ে গভর্নর বলেন, ‘আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি এনবিএফআই (আর্থিক প্রতিষ্ঠান) নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তার সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ১২ বছর ধরে যেসব আমানতকারী টাকা পাচ্ছিলেন না, আমাদের কার্যক্রমের ফলে তারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন।’

ইসলামী ব্যাংকে সরকার অবৈধ হস্তক্ষেপ করেনি : গভর্নর

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকে সরকার অবৈধ হস্তক্ষেপ করেনি : গভর্নর

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে সম্প্রতি চেয়ারম্যান ও এমডির পদায়ন ইস্যুতে আন্দোলন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে সরকার কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ করেনি।

তিনি বলেন, আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন।

ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তিনি জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয়ের কাজ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যক্রমে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, আমরা কাউকে ঋণ দিতে বলি না, বদলি বা পদোন্নতির জন্যও কোনো নির্দেশ দিই না। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

গভর্নর আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে গত ১৬ মার্চ পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।

ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর। তিনি বলেন, এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক। তাই বোর্ডে ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা নিশ্চিত করতে আমাদের দ্রুত নতুন নিয়োগ দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে কিছু টুলস আছে। প্রয়োজন হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তারা যে কোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।

গভর্নর জানান, জুলাই ২০২৪-এ ইসলামী ব্যাংকের এডি রেশিও ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। কিন্তু মার্চে তা বেড়ে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে এ হার কমাতে নির্দেশ দিয়েছে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামনে বড় কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করি না। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও বোর্ড এ বিষয়ে সজাগ আছে। প্রয়োজনীয় ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্টও বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে।

ঋণ প্রবৃদ্ধি কমল বেসরকারি খাতের | কালের কণ্ঠ