• ই-পেপার

প্রাকবাজেট

অবৈধ ব্যান্ডরোলের ব্যবহার বাড়ায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

জুলাইয়ের ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ের ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার

চলতি জুলাই মাসের ১৯ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার ৮৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরিফ হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল রোববার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা। গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫২ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
 

বন্ধের মুখে জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক
বন্ধের মুখে জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যক্রম

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) চারটি শাখা বন্ধের পথে। মূলধন সংকটের কারণে ব্যাংকটির এসব শাখা বন্ধ হতে পারে বলে জানা গেছে। ব্যাংকটির এসব শাখার বিদ্যমান ব্যবসা ধাপে ধাপে গুটিয়ে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই)।

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিবিইউএই তাদের কাছে থাকা জনতা ব্যাংকের এই শাখাগুলোর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ওপর (ডেবিট লেনদেন) নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। একইসঙ্গে নতুন গ্রাহক হিসাব খোলা বন্ধ রাখতে বলেছে।

এসব নির্দেশনার কারণ হিসেবে সিবিইউএই উল্লেখ করেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিশোধিত মূলধন রাখতে না পারা এবং জনতা ব্যাংকের বাংলাদেশের সামগ্রিক কার্যক্রমের সংকটাপন্ন পরিস্থিতি।

এসব নির্দেশনা জানিয়ে সিবিইউএইর সহকারী গভর্নর আহমেদ সাঈদ আল কামজি গত ৮ জুলাই জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যদের সিদ্ধান্ত দ্রুত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিবিইউএই এর নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতস্থ জনতা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হওয়ার কথা ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১০০ মিলিয়ন দিরহাম। ঘাটতি ৩০০ মিলিয়ন দিরহাম বা প্রায় ১০০০ কোটি টাকা (প্রতি দিরহাম ৩৩.৫০ টাকা ধরে)। এই ঘাটতি পূরণ না করলে ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ পর্যাপ্ত পরিশোধিত মূলধন না থাকলে গ্রাহকদের আমানতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে জনতা ব্যাংক ইউএই শাখার পরিশোধিত মূলধন ৭৫ মিলিয়ন থেকে ১০০ মিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করেছিল। তবে সেটিও বর্তমান নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

গত ৯ জুলাই ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে এসংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখার প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাখাগুলোকে নতুন গ্রাহক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিদ্যমান কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনা চেয়েছেন।

গত ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৮৮৪তম সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সমন্বয়ে জরুরি বৈঠক প্রয়োজন।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ মজিবুর রহমান বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। এখন ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পর্যায়ক্রমে পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়ে ৪০০ মিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জনতা ব্যাংক তিন বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এই পরিশোধিত মূলধন সৃষ্টি করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ প্রস্তাবে রাজি না হলে সরকারের সহায়তা নিয়ে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশে জনতা ব্যাংকের সংকটময় পরিস্থিতির কারণে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে মজিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত নিয়েই বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের উদ্বেগ রয়েছে। কারণ জাতীয়ভাবে ব্যাংক খাতে ২০%-এর বেশি খেলাপি ঋণ উদ্বেগেরই। সেক্ষেত্রে জনতা ব্যাংকের ৭০% ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এটা অবশ্যই উদ্বেগের। তবে এরমধ্যেও ব্যাংকটি টিকে আছে। ব্যাংকের এসএলআর ঠিক আছে। কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের এলসি খোলা হচ্ছে এবং তার সেটেলমেন্ট করা হচ্ছে। সাধারণ এলসিও খোলা হচ্ছে। নতুন নতুন কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। ইনোভেশনে এগিয়ে রয়েছে জনতা ব্যাংক। মাসে ১২৫ কোটি টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে কোনো ধরনের ধারদেনা ছাড়াই।’

শিগগিরই ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাব্যক্ত করেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ মজিবুর রহমান।

ভুয়া ঋণের ফাঁদ সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করল এডিবি

অনলাইন ডেস্ক
ভুয়া ঋণের ফাঁদ সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করল এডিবি
সংগৃহীত ছবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো ও কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। 

এডিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এডিবি কখনোই কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে, এডিবি কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ারও অনুরোধ করে না।

এডিবি জানায়, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতারকরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের যোগাযোগে কোনো ধরনের সাড়া না দেওয়ার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে এডিবি। 

এ ছাড়া এডিবির ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এডিবির নাম, কর্মকর্তাদের পরিচয় বা অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে পরিচালিত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং এ ধরনের প্রতারণা এড়িয়ে চলার প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এডিবির ‘সতর্কবার্তা ও পরামর্শসমূহ’ দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধিতে একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উন্নয়ন সংস্থার বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৯, যার মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে ৫০টি। 

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

বাজারে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রার জোগান থাকার পরও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়ন করতে পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম বাড়ানো ও টাকার মান কমানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এ মাসের শুরুতে দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম গড় হিসেবে ১৩ পয়সা ও সর্বোচ্চ হিসেবে ১৫ পয়সা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫০ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত মাসে আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (২০ জুলাই ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সা
ইউরো : ১৪১ টাকা ৩৬ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৬ টাকা ২৫ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৮ টাকা ১২ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ২৫ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ২৩ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৫ টাকা ৬৪ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ০৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭২ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ০১ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৩ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। তবে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গত কয়েকদিনে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, চলতি মাসের শুরুতে ডলারের সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা থাকলেও সেটি ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সায় পৌঁছেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়ক।

অবৈধ ব্যান্ডরোলের ব্যবহার বাড়ায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার | কালের কণ্ঠ