• ই-পেপার

শ্রমিকদের বেতন-ভাতার তহবিল ঋণে একক ঋণগ্রহীতার সীমা শর্ত থাকছে না

দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?

টানা দুই দফা কমার পর গত সোমবার দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। পরে নতুন করে দাম সমন্বয় না হওয়ায় আজ বুধবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে।  

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) বাড়ায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে।

এর আগে, গত ২০ জুন সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

অন্যদিকে, দেশে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

প্রবাসীদের জন্য ‘এনআরসিটিএ’ হিসাব চালুর অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রবাসীদের জন্য ‘এনআরসিটিএ’ হিসাব চালুর অনুমোদন

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ধরনের হিসাব চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রবাসীরা দেশের ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (ওবিইউ) নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআরসিটিএ) খুলতে পারবেন। এ হিসাবে রাখা আমানত ও অর্জিত সুদ বা মুনাফা অবাধে বিদেশে নেয়ার সুযোগ থাকবে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটকে (ওবিইউ) এ সুবিধা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪ এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ নতুন হিসাব সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা, বিনিয়োগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আরো বাড়বে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, প্রবাসীরা ওবিইউতে সঞ্চয়ী, চলতি বা মেয়াদি আমানত—যেকোনো ধরনের এনআরসিটিএ খুলতে পারবেন। তবে এসব হিসাব পরিচালিত হবে ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এনে টাকায় রূপান্তরের মাধ্যমে।

এনআরসিটিএ হিসাবে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ জমা করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব বা নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাব থেকে টাকায় রূপান্তরিত অর্থ, অন্য এনআরসিটিএ থেকে স্থানান্তরিত অর্থ এবং হিসাবের অর্থের ওপর অর্জিত সুদ বা মুনাফা।

এছাড়া এনআরসিটিএ থেকে করা বিদেশি বিনিয়োগ বা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে ফেরত আসা অর্থও এ হিসাবে জমা করা যাবে। নতুন ইস্যুতে শেয়ার কেনার জন্য দেওয়া অর্থের ফেরত, অন্যান্য অনুমোদিত রিফান্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত অন্যান্য অর্থপ্রাপ্তিও এ হিসাবের আওতায় থাকবে।

নতুন এ হিসাবের আওতায় সংগৃহীত আমানত দেশের বিশেষায়িত অঞ্চলের (স্পেশালাইজড জোন) টাইপ-এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে টাকায় ঋণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারবে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো। তবে এসব ঋণ শুধু বেতন, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো অনুমোদিত চলতি হিসাবের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রফতানি আয় থেকে।

এছাড়া এনআরসিটিএ হিসাবের বিপরীতে দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিট (ডিবিইউ) প্রবাসী বাংলাদেশী বা তাদের মনোনীত তৃতীয় পক্ষকে ঋণ দিতে পারবে। তবে এসব ঋণ পুনঃঋণ প্রদান, কৃষি, বাগানভিত্তিক কার্যক্রম বা আবাসন ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য দেয়া যাবে না।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এনআরসিটিএ আমানত জামানত হিসেবে রেখে নেয়া ঋণের অর্থ বাংলাদেশে ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া নিজস্ব ব্যবহারের জন্য দেশে আবাসিক সম্পত্তি কেনা বা নির্দিষ্ট শর্তে এমন কিছু বিনিয়োগেও ব্যবহার করা যাবে, যেগুলো থেকে অর্থ বিদেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোকে প্রবাসীদের জন্য এনআরসিটিএ খোলার ক্ষেত্রে অনলাইন ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েব প্লাটফর্ম ও ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে হিসাবের বৈশিষ্ট্য, পরিচালন পদ্ধতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে

রেমিট্যান্সে দারুণ গতি, ২২ দিনে এলো ২৬ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেমিট্যান্সে দারুণ গতি, ২২ দিনে এলো ২৬ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা
সংগৃহীত ছবি

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পালে হাওয়া লেগেছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা বৈধ পথে ২১৫ কোটি ১০ লাখ (২১৫১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে জুনের ২২ দিনে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছর (২০২৫) জুন মাসের প্রথম ২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

তবে একক মাসের চেয়ে চলতি পুরো অর্থবছরের হিসাবে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি বেশ আশাবাঞ্জক। পরিসংখ্যান বলছে, অর্থবছরের হিসাবে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২২ জুন পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৯৬২ কোটি ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে (২২ জুন পর্যন্ত) তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।
এর মধ্যে কেবল ২২ জুনেই প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন ৬ কোটি ৭০ লাখ (৬৭ মিলিয়ন) ডলার।

কোরবানির পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছেই

বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে মূল্য পতনে দিশেহারা খামারিরা

অনলাইন ডেস্ক
কোরবানির পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছেই
সংগৃহীত ছবি

ঈদুল আজহার পর ব্রয়লার মুরগির দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় হাজার হাজার প্রান্তিক পোলট্রি খামারি লোকসানের মুখে পড়েছেন। পোলট্রি শিল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার পর মুরগির চাহিদা সব সময়ই কমে যায়, অনেক পরিবারের ফ্রিজারে কোরবানির মাংস সংরক্ষিত থাকার কারণে মুরগির চাহিদা কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশুপাখির খাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণের দাম কৃষকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় তারা ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ কমাতে পারছেন না। জুনের প্রথমার্ধে উত্তরাঞ্চলে ব্রয়লার মুরগির আনুমানিক উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি প্রায় ১৪০ টাকা হলেও বাজার চাহিদায় ভাটা থাকায় খামারিরা জীবন্ত ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পঞ্চগড় জেলা সদরের পূর্ব জালাসির প্রান্তিক পোলট্রি খামারি আবদুল খালেক সম্প্রতি এক হাজার ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করেছেন ১১৫ টাকা কেজি দরে। হিসাব শেষে তার লোকসান হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এর পরও নিজ বাড়ির আঙিনার দুটি পৃথক শেডে এক হাজার ৫০০ বাচ্চা তুলে লালন-পালন করছেন। তিনি বলেন, পোলট্রি খামার আমার নেশা এবং পেশা। ২০০১ সালে ১০০ বাচ্চা দিয়ে শুরু করে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এখন আমার দেড় হাজারের খামার। লাভ-লোকসান মিলিয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোটামুটি চলছিলাম। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতিটি ব্যাচে কমবেশি লোকসান হচ্ছে। এতে ডিলারের কাছে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার দেনা হয়ে গেছি। 

জেলা সদরের শেখেরহাট এলাকার নারী খামারি জুলেখা বেগম (৫০) স্বামীর অসুস্থতার কারণে সংসারের হাল ধরতে ২০১১ সালে ৩০০ ব্রয়লার বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর আয় বাড়াতে জমানো টাকায় খামারের আকারও বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাড়তি আয়ের বিপরীতে দিন দিন ডিলারের খাতায় ঋণের অঙ্ক বড় হচ্ছে উল্লেখ করে জুলেখা বেগম বলেন, যখন মুরগির কেজি ৬০ টাকা ছিল, তখন ফিডের বস্তা (৫০ কেজি) ছিল এক হাজার টাকা। আর বর্তমানে যখন ফিডের বস্তা তিন হাজার ৬০০ টাকা, তখন মুরগির কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা। এখন বাচ্চা তুললেই লোকসান, তাই আপাতত খামার বন্ধ রেখেছি। 

তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা করে চাকরি না খুঁজে নিজে উদ্যোক্তা হতে জেলার জগদল ঠুটাপুখরী এলাকার পোলট্রির খামার গড়েছেন মো. রবিউল পারভেজ (২৭)। তিনটি শেডে পাঁচ হাজার মুরগির খামারে বর্তমানে রয়েছে মাত্র এক হাজার ৩০০ মুরগি। তাঁর মতে, ‘মুরগির দামের অস্থিরতা আমাকেও অস্থির করে তুলেছে। একবার দর ভালো পেলে তিনবার খারাপ যাচ্ছে। এতে ক্রমে মনোবল হারিয়ে ফেলছি। যখন ৫০০-১০০০-এর মুরগির খামার ছিল, তখন ভালোই ছিলাম। কিন্তু এখন বড় বিনিয়োগ করে ঝুঁকিও বাড়িয়ে ফেলেছি।’ তিনি জানান, পোলট্রি খামার ব্যবসায় বাচ্চার দর ও ফিডের দর যাই হোক, মূল বিষয় মুরগির মাংসের বাজারদর। গত কয়েক মাস ধরে খামার গেটে মুরগির অস্বাভাবিক দর পতনের কারণে ডিলারের কাছে সাড়ে ছয় লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

দেশে উত্তরাঞ্চলের আরেক জেলা ঠাকুরগাঁও সদরের হরিহরপুরের খামারি মো. রবিউল আউয়াল (৪০) তাঁর ১৫ হাজার ব্রয়লার লালন ক্ষমতার খামারে বর্তমানে আছে মাত্র তিন হাজার মুরগি। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, আগে ৫৫-৬০ টাকা দরে বাচ্চা কিনেও মুরগির বাজারদর ভালো থাকায় হাজারে ৫০-৭৫ হাজার টাকা লাভ করেছি। আর এখন মুরগির চাহিদা ও বাজার দরে ধস নামায় ১৫ টাকা দরে বাচ্চা কিনেও খামারির খরচ উঠছে না, বরং ব্যাচ শেষে ৫০-৭০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। তাঁর হিসাবে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা হলেও বাজারদর ১১০ থেকে ১২০-১২৫ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। এতে প্রতি কেজিতে আমাদের গড় লোকসান কমপক্ষে ২০ টাকা। যার খামার যত বড়, তার লোকসানের হিসাবও তত বড় উল্লেখ করেন তিনি। 

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে পঞ্চগড়ের পাইকারি মুরগি ব্যবসায়ী মাসুদ পোলট্রির স্বত্বাধিকারী মো. আমান আলীর (৩৩) মতে, পোলট্রি ব্যবসা ভালো নেই। এ খাতের খামারি ও ব্যবসায়ীরাও কেউই ভালো নেই। বাজারে পোলট্রি মুরগির চাহিদা তলানিতে ঠেকেছে। সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে খামার পর্যায়ে মুরগির দাম কমেছে। তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড় ছাড়াও দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও থেকে আগে প্রতিদিন তিন গাড়ি (প্রতি গাড়িতে ২০০ কেজি) মুরগি এনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতাম। বর্তমানে তা কমে এক গাড়িতে নেমেছে।’ কোরবানির কারণে সব শ্রেণির ক্রেতার মুরগি কম কিনছেন। তা ছাড়া বাজারে মাছ ও সবজির সরবরাহ ও দাম কমেছে। মূলত এতে বাজারে মুরগির চাহিদ কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

এ বিষয়ে কাজী ফার্মসের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) সরদার সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দাম কম। মুরগির দাম কম থাকায় খামারিরা এক দিনের ব্রয়লার বাচ্চা কিনতে চাচ্ছেন না। ফলে এক দিনের বাচ্চার দামও কম এবং হ্যাচারিগুলো ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। আবার যখন ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বাড়বে এবং খামারিরা ফের এক দিনের বাচ্চা কিনতে চাইবেন, তখন বাচ্চার দাম বাড়তে পারে। আর এমনটা যদি হয়, সরকারের পক্ষ থেকে হ্যাচারিগুলোর চলমান লোকসান পুষিয়ে নিতে তখনকার বাজারভিত্তিক দরে বাচ্চা বিক্রির সুযোগ দেওয়া যুক্তযুক্ত হবে। বাজার যখন ভালো থাকবে, তখন কোম্পানিগুলোকে বাজারের মন্দার সময়ের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায়, হ্যাচারি শিল্প সংকুচিত হয়ে পড়বে।’

শ্রমিকদের বেতন-ভাতার তহবিল ঋণে একক ঋণগ্রহীতার সীমা শর্ত থাকছে না | কালের কণ্ঠ