যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। ফলে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক লোকসানের পথে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটি। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। খবর রয়টার্স
শুক্রবার (১২ জুন) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২০৫ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে আসে। সপ্তাহজুড়ে ধাতুটির দাম কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সোনা ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২৬ দশমিক ১০ ডলারে ওঠে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কমেনি বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে ফেড সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বলে ধারণা জোরালো হয়েছে।
ধাতুবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জ্যানার মেটালসের জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ পিটার গ্রান্ট বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে—এমন বিশ্বাস এখনো বাজারে তৈরি হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতা হতে পারে—এমন খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক পশ্চিমা সূত্রের তথ্যমতে, এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষর হতে পারে এবং সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে অনাগ্রহী হতে পারে, যা সোনা বাজারের জন্য নেতিবাচক।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে লাভের পথে রয়েছে।





