• ই-পেপার

ঋণখেলাপিদের গণসুবিধা দিয়ে নীতিমালা জারি

বিশ্ববাজারে বেড়েছে সোনা-রুপার দাম, দেশে কোনটার ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে বেড়েছে সোনা-রুপার দাম, দেশে কোনটার ভরি কত?
স্বর্ণ-রুপার বার। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাতের একটি ইতিবাচক সমাধানের আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হারও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নিচে নেমে এসেছে। আর এই জোড়া প্রভাবেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম এক ধাক্কায় ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার হয়েছে। অথচ আজ দিনের শুরুতেই ধাতুটির দাম গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক সোনার দাম (গোল্ড ফিউচার্স) শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫২৯ দশমিক ৩০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘হাই রিজ ফিউচার্স’-এর মেটালস ট্রেডিং বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ট্রেজারি ইল্ডের টানা বাড়তে থাকার প্রবণতা থেকে বাজার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। আর সে কারণেই সোনার দাম সাম্প্রতিক সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি নোটের মুনাফার হার ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার বাড়লে সোনা সঞ্চয় রাখার আগ্রহ কমে যায়; কারণ সোনা থেকে কোনো নিয়মিত লভ্যাংশ বা সুদ পাওয়া যায় না।

ডেভিড মেগার আরো বলেন, যুদ্ধাবস্থার যেকোনো ধরনের সমাধান বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া সোনার বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত। এর ফলে বাজারে সুদের হার কমবে—এমন একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়, যা সোনার বাজারকে চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে বলে আবারও আশ্বাস দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটছে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার চড়া রাখতে হয়। সোনাকে মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার নিরাপদ মাধ্যম মনে করা হলেও, সুদের হার চড়া থাকলে এই ধাতুটির বাজারে মন্দা দেখা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (ফেড) আগামী জুনের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে—এমন সম্ভাবনা এখন ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগকারী।

তবে সোনার এই সুসময় সাময়িক হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক সিটি। তারা জানিয়েছে, নিকটবর্তী সময়ে সোনা নিয়ে তারা সতর্ক অবস্থানে থাকছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলারে নেমে আসতে পারে।

বুধবার রাতের শেষভাগে ফেডারেল রিজার্ভের এপ্রিল মাসের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কার্যবিবরণী (মিনিটস) প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে, যা আগামীতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। রুপার (স্পট সিলভার) দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৪২ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫ দশমিক ১২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

এই দেশে জন্ম নেওয়া প্রথম পাপ, দ্বিতীয় পাপ ব্যবসা করা : ব্যবসায়ী ইমরান

অনলাইন ডেস্ক
এই দেশে জন্ম নেওয়া প্রথম পাপ, দ্বিতীয় পাপ ব্যবসা করা : ব্যবসায়ী ইমরান
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।

এই দেশে জন্মগ্রহণ প্রথম পাপ এবং দেশে ব্যবসা করা দ্বিতীয় পাপ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি মনে করি টোটাল স্টিস্টেমটাই দুর্নীতিগ্রস্ত। যখন সিস্টেমে থাকে তখন কথা বলে না, আবার যখন সিস্টেম থেকে বের হয় তখন সিস্টেমের বিরোধিতা করে। এটি একটি দ্বিচারিতা।’

‘কোনো কিছু নিয়ে কথা যাবে না’ মন্তব্য করে ইমরান হাসান বলেন, ‘আজকে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, পাশাপাশি আমলাতন্ত্রে দুর্বৃত্তায়ন। এই কারণে দেশের ১৮ কোটি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। আমাদের বিভাজন করে দেওয়া হয় পলিটিক্যালি। বিভাজন এমন একটা জায়গায় চলে গেছে যে, কেউ কথা বলে না।’

কোথাও ন্যায্য বিচার নেই বলেও মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন করেন, কোথায় অনিয়ম নেই?  

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, বর্তমান কর নির্ধারণ পদ্ধতি অকার্যকর এবং পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল সমন্বয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হয়রানি ও অনানুষ্ঠানিক চাপের কারণে ব্যবসায়ীরা করব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ভোক্তাদের প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ভোক্তাদের প্রত্যাখ্যান
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবসহ শিল্পখাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। 

তারা বলেছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়বে। একইসঙ্গে শিল্প খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজিত দুইদিনব্যাপী গণশুনানির প্রথম দিনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে তীব্র বিরোধিতা করে এসব কথা বলেন বক্তারা।

শুনানিতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ছয়টি বিতরণ কম্পানি খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আবেদন জমা দিয়ে রেখেছে বিইআরসিতে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যহার নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

শুনানিতে বক্তব্যে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হলে বিইআরসি ‘গণশত্রুতে’ পরিণত হবে। মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে বারবার বলা হচ্ছে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। কিন্তু সরকার তো জনগণের টাকাতেই ভর্তুকি দেয়। সবাই সরকারের মুনাফার কথা ভাবছে, অথচ মানুষের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে না।’’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অতীতে আইনের দোহাই দিয়ে সবচেয়ে বেশি বেআইনি কাজ করা হয়েছে এবং এতে বিইআরসি সহায়তা করেছে।’ এখনো কমিশনের সতর্ক হওয়ার সময় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিইআরসিকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।’

ড. মিজানুর রহমান আরো বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও বিইআরসিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কমিশন বলছে আইন অনুযায়ী তাদের ক্ষমতা নেই। কিন্তু যেখানে সংবিধান পরিবর্তনের আলোচনা হতে পারে, সেখানে বিইআরসি আইন পরিবর্তন অসম্ভব নয়। বিইআরসি জনগণের পক্ষ না নিয়ে অবৈধ প্রস্তাবদাতাদের পক্ষ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। বর্তমানে দেশের রপ্তানি খাত নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে শিল্পখাত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাবে।’

তিনি বলেন, ‘একসময় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ চীনের পরেই ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অবস্থান দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই কোনো অবস্থাতেই বিদ্যুতের মূল্যহার বাড়ানোর সুযোগ নেই।’
 
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই মূল্যবৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিপিডিবির মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশে জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি। এজন্য এই গণশুনানি বাতিলের দাবি জানান তিনি।’

রুহিন হোসেন প্রিন্স আরো বলেন, ‘বর্তমান আইনে বিইআরসি শুধু দাম বাড়ানোর সুপারিশ নিয়েই শুনানি করতে পারে, দাম কমানোর সুপারিশ নিয়ে নয়। তাই বিইআরসি আইন সংশোধন করে জনগণের স্বার্থ রক্ষার আইন করতে হবে এবং কোনো অজুহাতেই বিদ্যুতের দাম যাতে বাড়ানো না হয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর গত দুই বছরের বেশি সময়ে বিদ্যুৎ উৎপানের মূল জ্বালানি গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু না থাকলেও এইচএফওভিত্তিক কেন্দ্র পরিচালনা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সরকারি ও বেসরকারি কম্পানিগুলোকে জ্বালানির মূল্য অনেক ক্ষেত্রে ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে দাবি করছেন বাংলাদেশ ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ আমদানি করে, বাস্তবে তা সঠিক নয়। বর্তমানে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হয়, বাকি বিদ্যুৎ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত। তবে দেশীয় উৎপাদনেও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়। আমদানিকৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান ট্যারিফ কাঠামোর তুলনায় বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে।’

বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্য কোনোভাবেই পুরো খাতকে ব্রেক-ইভেনে নেওয়া নয়। বরং বিপুল ভর্তুকির একটি অংশ সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের হিসাবে বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা, আর বিইআরসির হিসাবে তা প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত সমন্বয়ের মাধ্যমে হয়তো মোট ভর্তুকির এক-পঞ্চমাংশ বা এক-চতুর্থাংশ কমানো সম্ভব হবে, কিন্তু বাকি অংশ সরকারকেই বহন করতে হবে।’

রেজাউল করিম আরো বলেন, ‘ট্রান্সমিশন লসের বিষয়টিও বিপিডিবিকে বহন করতে হচ্ছে। বিপিডিবি প্রকৃত সিস্টেম লস ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ ধরে হিসাব করেছে, যেখানে বিইআরসি ২ দশমিক ৭ শতাংশ বিবেচনা করেছে। এ ছাড়া উৎস করসহ বিভিন্ন ব্যয়ও বিপিডিবির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কোথাও কয়েক মিনিট বিদ্যুৎ না থাকলেও অভিযোগ আসে। তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে যথাযথ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করতে পারলে উৎপাদনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সরকারের পক্ষেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি বহন করা কঠিন। এ কারণে একটি ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ তৈরি করতেই মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব আনা হয়েছে।’

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ নীতিমালায় কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। বিপিডিবির দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত প্রকৌশলীদের প্রচলিত ধারণা বদলাতে হবে, কারণ বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশ ইতিমধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। ভারতে শুধু সৌরবিদ্যুৎ ২০ শতাংশের বেশি এবং বায়ুবিদ্যুৎ ১০ শতাংশের বেশি। পাকিস্তানেও সৌরবিদ্যুতের অংশ ৩০ শতাংশের বেশি।

বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ যদি সৌরবিদ্যুতের দিকে এগোতে পারে এবং বিপিডিবি এ খাতে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করে, তাহলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে। এতে জনগণের ওপর বিদ্যুতের মূল্যজনিত চাপও হ্রাস পাবে।

দেশে সোনার দামে টানা পতন, তিন দফায় ভরিতে কমল কত?

অনলাইন ডেস্ক
দেশে সোনার দামে টানা পতন, তিন দফায় ভরিতে কমল কত?
সোনার গয়না। ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে সর্বশেষ ১০ দফা দাম সমন্বয়ে ৭ বারই কমেছে সোনার দাম। এর মধ্যে সর্বশেষ টানা ৩ দফায় কমানো হয়েছে মোট ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা। সর্বশেষ বুধবার (২০ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে টানা তৃতীয় দফা সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, সবশেষ গত ১৬ মে সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৩৫ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩১ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৯ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২১ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ১৮ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।