জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প খসড়া বাজেটে অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর যে প্রস্তাবনা আমরা দিয়েছিলাম, সরকার সেগুলোকে বাদ দিয়ে উচ্চাভিলাষী বিদেশের ঋণের ওপর নির্ভরশীল একটা লুটপাটের বাজেট পেশ করেছে।’
আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা শহরের ওয়েস্টার্নপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে উপজেলা ‘কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবির’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রশাসন থেকে শুরু করে কর কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও জুডিশিয়ারি কমিশন থেকে দুর্নীতি না কমালে যে বাজেট হবে সে বাজেটের টাকা দলীয় কর্মীরা ভাগযোগ করে খাবে। দুর্নীতির কোনো হিসাব হবে না, এ জন্য আমরা বলেছি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এ বাজেট জনগণের আশা পূরণ করবে না। এটা হয়েছে দলীয় কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তনের লুটপাটের একটা বাজেট। সরকারে বলব, আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে খসড়া বাজেট প্রস্তাব করেছি তার আলোকে বাজেটকে সংশোধন করে আগামী ৩০ জুন জনবান্ধব বাজেট পাস করুন।’
জুলাই সনদ নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারির একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। জুলাই সনদের ভিক্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ৮৪টি ঐক্যমতের ভিত্তিকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবে সব দল একমত হয়েছে এবং গণভোটের ৪টি প্রশ্নের সমন্বয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০ ভাগ লোক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তারা মতামত দিয়েছে। এমনকি বিএনপিও সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে দুঃখজনকভাবে দেখা গেল বিএনপি সরকার সংসদ গঠনের পর পরই ১৮০ ডিগ্রী ইউটার্ন নিয়ে বললেন—গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ বেআইনি এবং এগুলো সংবিধানে নাই আমার এগুলো মনি না। এতে বোঝা গেল তাদের অন্তরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোনো ইচ্ছা ছিল না, ক্ষমতায় বসে জাতির ওপরে আবার ফ্যাসিবাদের মতো শাসনের ইচ্ছাই তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন। যার কারণেই তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। ফলে রাজনীতি সেই সংকট রয়েই গেল।”
কর্মশালায় ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার মুহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরা সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাজীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





