জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, ‘দেশের রাজনীতিতে আবারও মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।’ তিনি বলেন, ‘চতুর কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না।’
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি রেস্টুরেন্টে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
যুবদল সভাপতি বলেন, ‘চতুর কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। আপনারা রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলুন, সাংগঠনিক কাজ করুন। বেফাঁস বক্তব্য-মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।’
মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘প্রত্যেক নেতাকর্মীর রাজপথের ত্যাগ ও সংগ্রামকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগের কমিটির প্রায় ১১৪ জনকে আমরা এই কমিটিতে রেখেছি। আমরা তাদের রাজপথের লড়াই ও অবদানকে স্বীকার করেছি, বিবেচনায় নিয়েছি। আরো কয়েকজন ত্যাগী নেতাকে আমরা জায়গা দিতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে আমরা যাচাই-বাছাই করে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছি। এরপর যাদের কমিটিতে রাখতে পারিনি, তাদের জন্য চেষ্টা করব। আরো অন্তত ১০০ জনকে কমিটিতে সংযুক্ত করার চেষ্টা করব। সেখানে হয়তো তাদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করা যাবে। তাই কারো হতাশ হওয়ার কারণ নেই।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়র দেখে কমিটিতে কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। আন্দোলন-সংগ্রামে প্রত্যেকের অবদান দেখা হয়েছে। অতীতে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে যুবদলের নেতাকর্মী সামাজিক কর্মসূচি সেভাবে পালন করতে পারেনি। আগামী বড় পরিসরে তা পালন করা হবে।’
বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন যুবদল সভাপতি।
অনুষ্ঠানে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সময় অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং শোকজ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে। এসব নেতাকর্মীর অনেকেই আমাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। দলের জন্য তাদের অবদান ছিল, আন্দোলন-সংগ্রামেও ভূমিকা ছিল। তার পরও দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এ সময় দলের সুনাম নষ্ট করলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘আপনাদের যে পদ দেওয়া হয়েছে, তার অপব্যবহার করবেন না। এটি দলের আমানত। এমন কাজ করুন, যাতে যুবদলের সুনাম বৃদ্ধি পায়। যে কাজগুলো যুবদলের দুর্নাম ডেকে আনতে পারে, সেসব কাজ থেকে বিরত থাকুন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল কবীর পল, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দফতরের দায়িত্বে), সহসভাপতি সাইদ ইকবাল টিটো, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জুয়েল, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু ও মাহবুবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।








