• ই-পেপার

বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে উদবাতুল বারী আবুকে সভাপতি এবং মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে ৯ সদস্যের উপদেষ্টা মণ্ডলী রাখা হয়েছে। তারা হলেন বেগম রাবেয়া চৌধুরী, ফজলুল হক ফজলু, ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের জিলানী, এস এ বারী সেলিম, ফরহাদ আক্তার মো. শাহরিয়ার, ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং অধ্যাপক ডা. নীলুফা পারভীন।

কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছে নজরুল ইসলাম ভিপিকে। সহসভাপতি পদে রয়েছেন শওকত আলী বকুল, আতাউর রহমান ছুটি, শহিদুল্লাহ রতন, মামুনুর রশিদ মজুমদার, অ্যাডভোকেট হোসেন মিয়া, মাহাবুবুর রহমান দুলাল ভিপি, রেজাউল হক আঁখি, ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস মেহেদী, আব্দুর রহমান, আবদুল জলিল, মুজিবুর রহমান কামাল, রায়হান রহমান হেলেন, মো. রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার ও শ্যামল কৃষ্ণ সাহা।

সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে খলিলুর রহমান বিপ্লবকে। যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন জলিশ আব্দুর রব, জামাল হোসেন, নাজমুল হক, অধ্যাপক নেছার আহাম্মেদ রাজু, রিয়াজ খান রাজু, মোর্শেদ আলম, মঞ্জুরুল আলম রুবেল, ফেরদৌস পাটোয়ারী, মো. কামাল হোসেন এবং বদরুল হাসান রাব্বু।

কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আহাম্মেদ শোয়েব সোহেলকে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন রাজিউর রহমান রাজিব, সাজ্জাদুল কবির সাজ্জাদ, খলিলুর রহমান খলিল, মনির হোসেন পারভেজ, ফুয়াদ আহাম্মেদ এবং মোসাম্মৎ ফরিদা আক্তার ডলি।

কমিটিতে প্রচার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ভিপি, দপ্তর সম্পাদক ইকরাম হোসেন তাজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুব চৌধুরী, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সারজেক আলম সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দাউদ আহাম্মেদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপিকা নাজমা আক্তার চৌধুরী, যুববিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম মনির এবং ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আল মামুন করা হয়েছে।

এ ছাড়া শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু ইউসুফ পাখি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শোহেব বিন আহাম্মেদ সোহেল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাছির উদ্দিন সুমন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. আবু তাহের মুহিত ও ডা. আফতাব উদ্দিন ভুঁইয়া, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ডা. প্রিয়ম চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন পদে নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটিতে সহ-কোষাধ্যক্ষ হিসেবে জহিরুল ইসলাম (রহমান), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নেছার আহাম্মেদ দিপু, সাজ্জাদ মাহমুদ দিপু ও মো. রবিউল হক শামীম, সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দেওয়ান সালাউদ্দিন আহাম্মেদ ও মনির হোসেন এবং সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে ফরিদ আলীকে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সহ-সম্পাদক পদে বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর হোসেন মোল্লা, তোফাজ্জল হোসেন বেলাল, নাসির উদ্দিন নাসির, ডা. তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, অ্যাডভোকেট মাহাবুব খন্দকার, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত মিঠু, অ্যাডভোকেট মাহামুদা খানম শিল্পী, আছমা আক্তার, রেহানা রহমান, ডা. খাজা মোর্শেদ মাহমুদ তুষার, মো. হামিদ উদ্দিন মজুমদার সুমন, গোলাম মুর্তুজা তপু, কামাল হোসেন (হাসেম), জামাল আহাম্মেদ, ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী, মোস্তফা মজুমদার, জাকির হোসেন ও আবুল খায়ের।

কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে কাউসার জামান বাপ্পী, মোস্তাক মিয়া, আনোয়ার হোসেন, বদরুল আলম বাবুল, বেলায়েত হোসেন কনক, মনোয়ার হোসেন সেলিম, আব্দুল মতিন, জামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট সেলিম হোসেন রনি, মো. জাকির হোসেন (৪ নম্বর ওয়ার্ড), আবুল হোসেন, তোফায়েল আহাম্মেদ, ফরিদ আহাম্মেদ মজুমদার, আক্তার হোসেন, আতিকুল ইসলাম, মো. হাসমত, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন শিশু, জাবেদ আহাম্মেদ মজুমদার কিসলু, আব্দুল কুদ্দুস, মো. মাসুদ হোসেন, অ্যাডভোকেট এ কে এম ইকবাল কবির, গোলাম মোস্তফা বাবুল, হুমায়ন কবির, সেলিনা বেগম, কিশোর দেবনাথ, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া আজাদ, খোকন আহাম্মেদ, সাইফ আহাম্মেদ সাইফুল, আলেক হোসেন, মাসুক মিয়া, তাজুল ইসলাম তাজু, সাদেকুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন বাবু, জামাল হায়দার, এস এম সবুর বশির, জহির উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, মো. লিটন মিয়া, জমিরুল হক জামাল, জাকির হোসেন, এনামুল কিবরিয়া রনি, শ্যামল কুমার সাহা, শাহাদাত হোসেন সাগর, মনির হোসেন, সালেহ উদ্দিন সেলিম, মো. মাহাবুবুল আলম, শাহাদাত হোসেন সানি, সফিকুল ইসলাম স্বপন, লিটন পাল, মো. আব্দুর রহিম খান, অ্যাডভোকেট মোজাদ্দেদ হোসেন আদনান, আমজাদ হোসেন মজুমদার, মাহাবুবুর রহমান, মহিবুর রহমান তুহিন, আশিকুর রহমান শিমুল, মঞ্জুরুল আলম, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) শাহজাহান মজুমদার, অধ্যাপক বেল্লাল হোসেন, সোহেল মজুমদার, গোলাম মো. হুমায়ন কবির, মো. হানিফ, মো. সাইফুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন মজুমদার জিহাদ ও মো. শাহাজান।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ, উন্নয়ন বরাদ্দের সুষম বণ্টন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদকে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যক্রম যত বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর হবে, মানুষের আস্থা তত বাড়বে। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে স্পিকারের ভূমিকা আরো শক্তিশালী হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসম্পদ লুটপাট বন্ধে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

সরকারি অর্থে স্থাপনায় ব্যক্তির নামফলক বসানোর সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নামফলক বদলাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয়। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত আলোচনা ও মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যা জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানীকে পরিকল্পিত ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা প্রাথমিক শিক্ষায় নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এবারের দুর্যোগে চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারি দলের তুলনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। উন্নয়ন তহবিল বণ্টনে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে সুষম ও ন্যায়সংগত নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম

আতিক রহমান, বগুড়া
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় এনসিপি আয়োজনে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এই সরকারের পরিণতি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই হবে। এই দেশ দিল্লির তাঁবেদারিতে চলবে না। শহীদ হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না।

জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপির) সারা দেশে পদযাত্রা ও পথসভা উপলক্ষে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় এনসিপি আয়োজনে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই)  বিকেলে সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বগুড়ার মানুষও গর্ব করতে পারে বাংলাদেশের মানুষও গর্ব করতে পারে। তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—আপনি আজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনি আপনার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হননি। আপনি আপনার যোগ্যতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হননি। ১৭ বছর পর আপনি যখন দেশে আসেন দেশের মানুষ যখন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো বিদায় দিয়েছে, যখন তাদের সামনে মেজর জিয়াউর রহমানের মুখখানি ভেসে উঠেছে। তাদের মুখের দিকে চেয়ে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। আপনি যদি এই আমানত রক্ষা করতে পারেন, তাহলে জনগণ আগামীতে ভোট দেবে। যদি আমানত রক্ষা করতে না পারেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে না পারেন আগামীতে ধানের শীষ তথা বিএনপিকে জনগণ ভোট দেবে না।’ 

বগুড়া জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ইজাজ আল ওয়াসী জ্বীমের পরিচালনায় পথসভায় আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিক মাহাদী, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এমএসএ মাহমুদ, সদস্যসচিব সুলতান মাহমুদ, এনসিপির দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ। এদিন সন্ধ্যায় বগুড়া মহানগরের সাতমাথায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে : জি এম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে :  জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে তিনি সফল বা ব্যর্থ—কোনোটিই বলতে চান না। তার ভাষায়, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এটি এখনো ‘অসমাপ্ত’ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরো বড় রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা নতুন পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রংপুর সফরের দ্বিতীয় দিনে নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘পল্লী নিবাসে’ কালের কণ্ঠকে তিনি এ কথা বলেন। পরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনকে আমি সফল বা ব্যর্থ বলতে চাই না। কারণ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। তাই আমি বলব, আন্দোলনটি এখনো অসমাপ্ত।’

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জনগণ আশা করেছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনে দলীয়করণ, নিয়োগে বৈষম্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব এখনো বিদ্যমান। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। তারা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, বিরোধী মতকে সম্মান করা হবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি, মামলা-হামলা এবং নানা ধরনের অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি জুলাই আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরো বড় আন্দোলন কিংবা নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা হলে নতুন সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে জি এম কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হতে হবে। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং নিয়োগপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে জনগণের আস্থা। সেই আস্থা অর্জন করতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে, বৈষম্য দূর করতে হবে এবং সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

দেশে মাদকের বিস্তার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাদক এখন সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা করা কঠিন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদক নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ বন্ধে আরো কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে রংপুর মহানগর ও জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৯টায় পল্লী নিবাসে স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

এ সময় জি এম কাদের বলেন, ‘পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন দর্শন আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী জনপদের অগ্রগতি এবং রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর যে অবদান, তা মানুষ কখনো ভুলবে না। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই জাতীয় পার্টি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা শেখ হাসিনার | কালের কণ্ঠ