• ই-পেপার

জোটের আসন চূড়ান্ত করতে শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা

জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী ৩ দলকে দায় মুক্তি দিতে চেয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী ৩ দলকে দায় মুক্তি দিতে চেয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার সংজ্ঞা থেকে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। পরে আপসের ভিত্তিতে দলগুলোর নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ যুক্ত করে সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নির্ধারণকারী কর্তৃপক্ষ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে (জামুকা) না জানিয়েই পাঠ্যপুস্তকে মুদ্রিত সংজ্ঞায় আনা হয়েছিল পরিবর্তন। এ বিষয়ে অনুমোদন নিতে জামুকার সভায় তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ও সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফারুক-ই-আজম উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব উত্থাপন করলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামুকার সদস্যরা।

তারা সাফ জানিয়ে দেন—মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং আলবদর, রাজাকার ও আলশামস বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এটিই সত্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত ইতিহাস। জামুকা সদস্যরা এ ইতিহাসের বিকৃতি করতে পারেন না। আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

দৈনিকটি জানিয়েছে, ওই সময় জামুকা সদস্যদের তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদের মুখে উপদেষ্টা পরিষদের প্রস্তাবটি নাকচ হলে সিদ্ধান্ত হয়, মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ যোগ হবে। সেভাবেই তখন প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত হয়। সেই অধ্যাদেশটিই গত ১০ এপ্রিল ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া এমন প্রচেষ্টার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামুকার তৎকালীন সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারায় বিব্রত হন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। জামুকা সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার কারণেই তিনি এটা করতে পারেননি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর ১০ মে হয় জামুকার ৯৬তম সভা। তাতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। উপস্থিত ছিলেন জামুকার সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান (বীর-উত্তম), ক্যাপ্টেন (অব.) এম নুরুল হুদা, মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, মেজর (অব.) কাইয়ুম খান, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, হাবিবুল আলম, খ. ম. আমীর আলী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব ইসরাত চৌধুরী ও জামুকা মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন।

মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা থেকে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রেখে বৈঠকে ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘গত ৬ মে উপদেষ্টা পরিষদ সভায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ সংশোধনকল্পে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

সভায় জানানো হয়, পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রকাশিত পাঠ্যপুস্তকে এসংক্রান্ত রচনায় সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের একটি সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ওই সংজ্ঞার সঙ্গে মিল রেখে সর্বজনীন মুক্তিযুদ্ধ/মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের ২(১১) এবং ২/১৩) উপধারায় ‘মুজাহিদ বাহিনী, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম’ শব্দগুলো বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

ফারুক-ই-আজম আরো বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের সভার পরামর্শমতে সংশোধন বা পরিমার্জনের লক্ষ্যে কাউন্সিলের সদস্যদের মতামতের জন্য উপস্থাপন করা হলো।’ সঙ্গে সঙ্গে সভায় উপস্থিত জামুকার সদস্যরা তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।

সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীর-উত্তম তখন বলেন, ‘আমরা সবাই জানি কাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, আলবদর, আলশামস— এদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, এটিই সত্য ইতিহাস।’

জামুকাকে না জানিয়ে পাঠ্যপুস্তকের রচনায় কিভাবে সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হলো, সে প্রশ্ন তুলে তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে অন্য সদস্য মেজর (অব.) কাইয়ুম খান মন্তব্য করেন, পাঠ্যপুস্তকে কী সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের জানা নেই। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার যেকোনো সংজ্ঞা একমাত্র জামুকাই দেবে।

উপদেষ্টা পরিষদের এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকারী আরেক সদস্য মেজর (অব.) সৈয়দ মুনিবুর রহমানের ভাষ্য, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে পারি না। মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, দালাল শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত।’

সদস্য হাবিবুল আলম বলেন, বিদ্যমান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২-এ ‘মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম’ শব্দগুলো আছে। এগুলো যথার্থভাবেই আইন/আদেশ/প্রজ্ঞাপনে সন্নিবেশিত হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসও তাই। এ ছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ২(১১) ও ২(১৪) নম্বর ধারায় যথাক্রমে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ’-এর সংজ্ঞায় জামায়াতে ইসলামীর কথা বর্ণিত আছে। ওই শব্দগুলো প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে বাদ দেওয়া সমীচীন হবে না।

এ সময় উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞাসহ প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং নেজামে ইসলামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দ যোগ করার প্রস্তাব করা যায় কি না, তা জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত সদস্যরা তাতে একমত পোষণ করেন।

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের আগের আইনে মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় বলা হয়েছিল, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়া দখলদার ও হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম ও মুসলিম লীগ এবং তাহাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুজাহিদ বাহিনী ও পিস কমিটির বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধ।’ এর পরিবর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বাদ দিয়ে সংজ্ঞায় বলা হয়— ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় হানাদার ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।’

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়। পরে এগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে এর মধ্য থেকে ৯৮টি অধ্যাদেশ সংসদে হুবহু বিল আকারে তোলার জন্য করা হয় সুপারিশ।

জামায়াত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয় : মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
জামায়াত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয় : মির্জা ফখরুল
ছবি: কালের কণ্ঠ

জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত রেজিমেন্টেড দল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক দল। তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শ রয়েছে এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই তারা রাজনীতি করছে। তবে শরিয়াভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য তারা ধারণ করে, তা বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া বা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যায় না। বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থী রাজনীতি করতে চায়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত অভিযোগ করেছে সরকার নাকি জুলাই সনদ মানেনি। অথচ সনদের প্রতিটি পাতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—কোন রাজনৈতিক দল কোন বিষয়ে একমত হয়েছে এবং কোন বিষয়ে হয়নি। নির্বাচনে বিজয়ী দল জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সেসব বাস্তবায়ন করবে বলেও সেখানে উল্লেখ আছে। সব জায়গায় বলা আছে যে দল নির্বাচনে বিজয়ী হবে তাদের মেন্ডেট অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, জনগণ বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। জুলাই সনদের প্রতিটি শর্তও সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল জামায়াতকে। কিন্তু তারা সেই পথে না গিয়ে ১১ দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি বেছে নিয়েছে। তবে এসব কর্মসূচিতে জনগণের উল্লেখযোগ্য সমর্থন নেই বলেও দাবি করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, তারা বিভাগে বিভাগে মিটিং করেছেন, ঢাকায় মিটিং করেছেন। কিন্তু জনগণের কোনো সমর্থন তাদের মধ্যে নেই।

তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান নির্বাচনের সময় যেসব ওয়াদা করেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও কোনো নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হবে না।

বর্ধিতসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়।

জনগণের আস্থা অর্জনই রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় পরিচয় : প্রিন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণের আস্থা অর্জনই রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় পরিচয় : প্রিন্স

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনীতিকে জনসেবার হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে থেকে সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় পরিচয়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জনকল্যাণে তারেক রহমানের অনাড়ম্বর ও মানবিক রাজনীতি এবং কর্মপরিকল্পনা অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তারেক রহমান মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার কারিগড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। জনপ্রত্যাশা পূরণে তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। পরিবর্তনের এ যাত্রায় নেতাকর্মীদেরও সমান তালে কাজ করতে হবে এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শের ধারাবাহিকতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিফলিত হয়েছে। শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি তারেক রহমান। তাকে সহযোগিতা করা নেতাকর্মীদের জন্য একান্ত অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, দুর্নীতি এবং সব ধরনের সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের সমাজের শান্তি, নিরাপত্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি বা অংগসংগঠনের কোনো নেতা বা কর্মী যদি সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত হন, তবে তিনি যত বড় নেতা বা যত জনপ্রিয়ই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কোনো অপরাধীকে রক্ষা করা হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তিনি এ বিষয়ে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

এ জাতিকে কখনো বিভাজন করা সম্ভব নয় : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এ জাতিকে কখনো বিভাজন করা সম্ভব নয় : রিজভী
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আলোচনাসভায় বক্তৃতা করছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

বর্তমানে দেশে মুক্ত পরিবেশে নির্বিঘ্নে সবাই সবার কথা বলতে পারছে, যা অনেক দিন এ দেশে ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিমভাবে বিভাজন তৈরি করা যায়। কিন্তু এ দেশে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করে অভ্যস্ত। তাই এ জাতিকে কখনো বিভাজন করা সম্ভব নয়।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এ কথা বলেন তিনি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এ দেশের সব মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছে। জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে শুধু মুসলিমরাই গুলি খায়নি; হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান–সব সম্প্রদায়ের মানুষই গুলি খেয়েছে ও রক্ত দিয়েছে। তাই দেশ গঠনেও এখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি ও সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জনগণের ভোটাধিকার এবং একটি জবাবদিহিমূলক সরকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আলোচনাসভায় ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জোটের আসন চূড়ান্ত করতে শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা | কালের কণ্ঠ