• ই-পেপার

ওজর ছাড়া রোজা না রাখার ভয়াবহ পরিণতি

যে ৭ গুনাহ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়

অনলাইন ডেস্ক
যে ৭ গুনাহ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়
প্রতীকী ছবি

ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। পরকালে সফল হতে অবশ্যই এই পরীক্ষায় সফলকাম হতে হবে। এরপরই মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)

এজন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে গুনাহ বা পাপ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.) এর আদর্শ এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে বান্দাদের নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধ করেছেন নবীজি। এরমধ্যে একটি হাদিসে তিনি ধ্বংসকারী সাতটি কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। এ কথা শুনে সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! (সা.) সেগুলো কি? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, (১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, (২) যাদু, (৩) আল্লাহ তা’আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা, (৪) সুদ খাওয়া, (৫) ইয়াতিমের (এতিম) সম্পদ গ্রাস করা, (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৭৮)

বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর কুফু তথা সমতাবিধানের গুরুত্ব

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর কুফু তথা সমতাবিধানের গুরুত্ব
সংগৃহীত ছবি

বিয়েতে সমতাবিধানকে আরবিতে ‘কুফু’ বলা হয়। ‘কুফু’ মানে ‘সমতা ও সাদৃশ্য’। অন্য কথায়, পাত্র-পাত্রীর ‘সমান-সমান হওয়া’, একের সঙ্গে অন্যজনের সামঞ্জস্য হওয়া। বিয়ের উদ্দেশ্য যখন স্বামী-স্ত্রীর মনের প্রশান্তি লাভ, উভয়ের মিলমিশ লাভের পথে বাধা বা অসুবিধা সৃষ্টির সামান্যতম কারণও যাতে না ঘটতে পারে, তার ব্যবস্থা করা একান্তই কর্তব্য। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই (আল্লাহ) মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে। অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তোমার রব সর্বশক্তিমান।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৫৪)

ইমাম বুখারি (রহ.) বুখারি শরিফে এই আয়াতকে ‘কুফু’ অধ্যায়ের সূচনায় উল্লেখ করেছেন। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি (রহ.) তার কারণ উল্লেখ করে লিখেছেন, এই আয়াতকে এখানে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে এ কথা জানিয়ে দেওয়া যে বংশ ও শ্বশুর-জামাতার সম্পর্ক এমন জিনিস, যার সঙ্গে কুফুর ব্যাপারটি সম্পর্কিত। বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে যাতে ভবিষ্যৎ বংশ রক্ষার ব্যবস্থা হয়, সেই দৃষ্টিতে কুফু রক্ষা করা একটা জরুরি বিষয়।

কুফুর মানে যদিও সমান বা সদৃশ, তবু বিয়ের ব্যাপারে কোন কোন দিক দিয়ে এর বিচার করা আবশ্যক, তা বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি (রহ.) লিখেছেন, ‘কুফু’ ইসলামী বিশেষজ্ঞদের কাছে সর্বসম্মত ও গৃহীত। তবে সেটি প্রধানত গণ্য হবে দ্বিন পালনের ব্যাপারে। কাজেই মুসলিম মেয়েকে কাফিরের কাছে বিয়ে দেওয়া যেতে পারে না। এবং ব্যভিচারী পুরুষ ঈমানদার মেয়ের জন্য এবং ব্যভিচারী নারী ঈমানদার পুরুষের জন্য কুফু নয়।  কোরআনের এক আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তবে যে ব্যক্তি মুমিন, সে কি পাপাচারীর মতো? তারা সমান নয়।’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ১৮)

অর্থাৎ মুমিন ও ফাসিক এক নয়। তাদের মধ্যে কোনো রকমের সমতা ও সাদৃশ্য নেই।

ইমাম শাওকানি (রহ.) লিখেছেন, দ্বিনদারি ও চরিত্রের দিক দিয়ে কুফু আছে কি না—বিয়ের সময়ে তা অবশ্যই লক্ষ করতে হবে।

ইমাম শাফিঈ (রহ) ধন-সম্পত্তির দৃষ্টিতেও ‘কুফু’র গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা এ কথা প্রমাণ করে না যে ধনী ও গরিবের সন্তানের মধ্যে পারস্পরিক বিয়ে হলে দাম্পত্যজীবনে তাদের সুখময় ভালোবাসার সৃষ্টি হতে পারে না। তবে এক তরফের ধন-ঐশ্বর্য ও বিত্ত-সম্পদের প্রাচুর্য অনেক সময় দাম্পত্যজীবনে তিক্ততারও সৃষ্টি করতে পারে—তা অস্বীকার করা যায় না।

ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফিঈ (রহ.) একটি হাদিসের ভিত্তিতে বংশীয় ‘কুফু’র গুরুত্ব স্বীকার করেছেন।

ইমাম খাত্তাবি (রহ.) লিখেছেন, বহুসংখ্যক মনীষীর মতে, চারটি কুফুর বিচার গণ্য হবে : দ্বিনদারি, স্বাধীনতা (আজাদি), বংশ ও শিল্প-জীবিকা। তাঁদের অনেকে আবার দোষত্রুটিমুক্ত ও আর্থিক সচ্ছলতার দিক দিয়েও কুফুর বিচার গণ্য করেছেন। ফলে কুফু বিচারের জন্য মোট দাঁড়াল ছয়টি গুণ।

হানাফি মাজহাবে ‘কুফু’র বিচারে বংশমর্যাদা ও আর্থিক অবস্থাও বিশেষভাবে গণ্য। এর কারণ এই যে বংশমর্যাদার দিক দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য হলে যদিও একজন অন্যকে ন্যায়সংগতভাবে ঘৃণা করতে পারে না, কিন্তু একজন অন্যজনকে অন্তর দিয়ে গ্রহণ করতে অসমর্থ হতে পারে—তা অস্বীকার করা যায় না। অনুরূপভাবে একজন যদি হয় ধনীর দুলাল আর একজন গরিবের সন্তান, তাহলে যদিও সেখানে ঘৃণার কোনো কারণ থাকে না, কিন্তু একজন যে অন্যজনের কাছে যথেষ্ট আদরণীয় নাও হতে পারে। এসব বাস্তবতা সামনে রেখে দ্বিনদারি ও নৈতিক চরিত্রের পাশাপাশি বংশমর্যাদা, জীবিকার উপায় ও আর্থিক অবস্থার বিচার হওয়াও অন্যায় কিছু নয়।

সাত শ্রেণির মানুষের জন্য ধ্বংসের সতর্কবার্তা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সাত শ্রেণির মানুষের জন্য ধ্বংসের সতর্কবার্তা
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কোরআন মানুষের আকিদা, ইবাদত, নৈতিকতা, সামাজিক আচরণ, পারিবারিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক লেনদেন এবং রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআন সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। কোরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি যেমন সৎকর্মশীলদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছে, তেমনি অন্যায়, পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তাও ঘোষণা করেছে।

আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন আয়াতে ‘ওয়াইল’ ‘ধ্বংস হোক’ কিংবা অনুরূপ শব্দ ব্যবহার করে কিছু শ্রেণির মানুষের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন। এসব সতর্কবার্তার উদ্দেশ্য মানুষকে হতাশ করা নয়; বরং আত্মসমালোচনা, তাওবা এবং চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। কোরআনে যাদের ধ্বংসের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এমন সাত শ্রেণির মানুষের আলোচনা তুলে ধরা হলো।

১. অপবাদ, গীবত ও কুৎসা রটনাকারী
ইসলাম মানুষের সম্মানকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে বিবেচনা করেছে। কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষচর্চা, অপবাদ, কুৎসা রটনা কিংবা বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। তাই কোরআন এদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

 وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ 

অর্থ : ‘ধ্বংস প্রত্যেক নিন্দাকারী ও পরনিন্দাকারীর জন্য।’ (সুরা : হুমাজাহ, আয়াত : ১)
তাই কোনো মানুষের সম্মানহানি করা একজন মুমিনের চরিত্র হতে পারে না।

২. যারা আন্দাজ ও অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলে
প্রমাণ ছাড়া কথা বলা, গুজব ছড়ানো, অনুমানের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ তোলা কিংবা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, 

 قُتِلَ الْخَرَّاصُونَ 

অর্থ : ‘ধ্বংস হোক সেইসব লোকের, যারা অনুমান ও আন্দাজের ভিত্তিতে কথা বলে।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১০)
বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই নির্দেশনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাই যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রচার করা একজন মুমিনের শোভনীয় নয়।

৩. যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে
শিরক হলো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ। একমাত্র তাওবার মাধ্যমে এ গুনাহ থেকে মুক্তি সম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেন—

 فَوَيْلٌ لِّلْمُشْرِكِينَ

অর্থ : ‘অতএব ধ্বংস সেই মুশরিকদের জন্য।’ (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত : ৬)
তাই তাওহিদের ওপর অবিচল থাকা একজন মুসলিমের সর্বপ্রথম দায়িত্ব।

৪. যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা কথা বলে
ধর্মের নামে মনগড়া কথা বলা, প্রমাণ ছাড়া কোনো বিষয়কে হালাল বা হারাম ঘোষণা করা কিংবা আল্লাহর বিধান বিকৃত করা অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, 

 وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَٰذَا حَلَالٌ وَهَٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ 

অর্থ : ‘তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা বলে যা বর্ণনা করে, তা বলে দিও না—'এটি হালাল, এটি হারাম'; এভাবে আল্লাহর নামে মিথ্যা আরোপ করো না। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করে তারা কখনো সফল হবে না।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১১৬)

৫. যারা মানুষকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও অপমান করে
অহংকার, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, বিদ্রূপ ও অপমান মানুষের হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং সমাজে বিদ্বেষের জন্ম দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

 وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ

অর্থ : ‘ধ্বংস প্রত্যেক বিদ্রূপকারী ও দোষারোপকারীর জন্য।’ (সুরা : হুমাজাহ, আয়াত : ১)
তাই একজন প্রকৃত মুমিন মানুষের সম্মান রক্ষা করে, তাকে অপমান করে না।

৬. প্রত্যেক মিথ্যাবাদী ও পাপাচারী
মিথ্যা মানুষের ঈমানকে দুর্বল করে এবং যারা পাপকে নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করে। তাই কোরআন এদের জন্যও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

 وَيْلٌ لِّكُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ 

অর্থ : ‘ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী ও পাপাচারীর জন্য।’ (সুরা : জাসিয়াহ, আয়াত : ৭)
তাই একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সত্যবাদিতা এবং আমানতদারিতা।


৭. যারা ওজনে ও পরিমাপে কম দেয়
ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা অপরিহার্য। ওজনে কম দেওয়া, প্রতারণা করা কিংবা মানুষের হক নষ্ট করা বড় গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ

অর্থ : ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মাপে ও ওজনে কম দেয়।’ (সুরা : মুতাফফিফিন,আয়াত : ১)
এই আয়াত ব্যবসায়িক সততা ও ন্যায়পরায়ণতার মৌলিক শিক্ষা প্রদান করে।

অতএব, আসুন, আমরা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের আকিদা, চরিত্র ও আমলকে শুদ্ধ করি। সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা, বিনয় ও মানুষের সম্মান রক্ষার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরআনের সতর্কবার্তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নেক আমলের জীবন গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানা কি জায়েজ, ইসলাম কী বলে?

মুফতি ওমর বিন নাছির
টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানা কি জায়েজ, ইসলাম কী বলে?
সংগৃহীত ছবি

মানুষ স্বভাবতই নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আগামী দিনে কী ঘটবে, জীবনে সুখ-দুঃখ, সফলতা-ব্যর্থতা, বিয়ে, সন্তান, অর্থ-সম্পদ কিংবা মৃত্যু—এসব বিষয় জানার কৌতূহল মানুষের চিরন্তন প্রবৃত্তি। এই কৌতূহলকে পুঁজি করেই যুগে যুগে জ্যোতিষী, গণক, ভাগ্যবিচারক ও বিভিন্ন অলৌকিক দাবিদার মানুষের ঈমান ও বিশ্বাস নিয়ে খেলেছে। আধুনিক সময়ে এই ধারারই একটি মাধ্যম হলো টেরোট কার্ড। অনেকে দাবি করে, এই বিশেষ ধরনের কার্ড দেখে মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য বলা যায়। কিন্তু একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার দাবি ইসলামের দৃষ্টিতে কি বৈধ? এটি কি শুধু হারাম, নাকি শিরক ও কুফরির অন্তর্ভুক্ত? বর্তমানে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এর উত্তর জানা অত্যন্ত জরুরী।

আল্লাহই একমাত্র অদৃশ্য সব বিষয় জানেন 

ইসলামের মৌলিক আকিদা হলো—গায়েব তথা অদৃশ্য জগতের পূর্ণ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলার। তিনি যাকে যতটুকু ইচ্ছা ওহির মাধ্যমে জানান, সে শুধু ততটুকুই জানতে পারে। এর বাইরে কোনো মানুষ, ফেরেশতা, জিন, গণক কিংবা কোনো বস্তু নিজস্ব ক্ষমতায় ভবিষ্যৎ জানে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অদৃশ্য জগতের চাবিকাঠি তাঁর কাছেই রয়েছে। তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী (সা.) ঘোষণা করতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘বলুন, আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডার রয়েছে এবং আমি গায়েব জানি না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫০)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, মহানবী (সা.)ও নিজ থেকে গায়েব জানতেন না; আল্লাহ ওহির মাধ্যমে যতটুকু জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ততটুকুই জানতেন।

টেরোট কার্ডে বিশ্বাস কেন হারাম?
টেরোট কার্ডের মূল ভিত্তিই হলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। অথচ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলারই রয়েছে। তাই কেউ যদি বিশ্বাস করে যে টেরোট কার্ড বা কার্ড পাঠকারী ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে ভবিষ্যৎ জানে, তাহলে সে আল্লাহর একচেটিয়া গুণে অন্যকে অংশীদার বানাচ্ছে। এটা শিরক এবং অত্যন্ত ভয়াবহ আকিদাগত বিচ্যুতি। কেননা টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার দাবি মিথ্যা। এতে বিশ্বাস করা হারাম। এমনকি কৌতূহলবশত এসব চর্চায় অংশ নেওয়াও মারাত্মক গুনাহ এবং ঈমানের জন্য বিপজ্জনক।

হাদিসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
রাসুলুল্লাহ (সা.) গণক ও ভাগ্যবিচারকদের কাছে যাওয়া থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ বিধানের সঙ্গে কুফরি করল।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৩৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৬৩৯)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে কোনো বিষয় জিজ্ঞাসা করবে, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল করা হবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৩০)
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, শুধু বিশ্বাস করাই নয়; নিছক কৌতূহলবশত এসব গণক বা ভবিষ্যৎবক্তার কাছে যাওয়াও মারাত্মক অপরাধ।

একজন মুসলিমের করণীয়
১. একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
২. ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা না করে আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।
৩. কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী দোয়া, ইস্তিখারা ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
৪. টেরোট কার্ড, রাশিফল, জ্যোতিষ, হাত দেখা, সংখ্যা বা নক্ষত্রের মাধ্যমে ভাগ্য গণনা—এসব থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।
৫. নিজের পরিবার ও সন্তানদেরও এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে রক্ষা করা।

অতএব, টেরোট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানা যায়—এমন বিশ্বাস করা কুফরি, এবং এটা ইসলামে সুস্পষ্ট হারাম । তাই কৌতূহলবশতও এসব চর্চায় অংশ নেওয়া জায়েজ নেই। কেননা এটা ঈমানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একজন মুমিনের প্রকৃত পথ হলো—আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করা, তাঁর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শিরক, কুফরি, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত আকিদা থেকে হেফাজত করুন এবং বিশুদ্ধ ঈমানের ওপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ওজর ছাড়া রোজা না রাখার ভয়াবহ পরিণতি | কালের কণ্ঠ