• ই-পেপার

মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী মারাকেশ

রুকু থেকে উঠে যে দোয়াটি পড়লে ফেরেশতারা সওয়াব লেখার প্রতিযোগিতা করেন

অনলাইন ডেস্ক
রুকু থেকে উঠে যে দোয়াটি পড়লে ফেরেশতারা সওয়াব লেখার প্রতিযোগিতা করেন
প্রতীকী ছবি

দোয়া হলো ইবাদতের অংশ। ভাগ্য পরিবর্তনে দোয়ার বিকল্প কিছু নেই। এজন্য বিপদ-আপদ কিংবা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি অথবা কল্যাণ চেয়ে বরাবরই মুমিনরা সৃষ্টিকর্তার দরবারে দু’হাত তুলে ধরেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, সৎকর্ম ব্যতীত অন্য কিছু আয়ুষ্কাল বাড়াতে পারে না এবং দোয়া ব্যতীত অন্য কিছুতে তাকদীর (ভাগ্য) রদ হয় না। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৪০২২)

অন্যদিকে নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)। আবার হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায়ের কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপরও। এমনকি খোদ মহান আল্লাহর কাছেও যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় আমল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

এ ক্ষেত্রে নামাজ আদায়ের সময় বিশেষ কিছু দোয়া রয়েছে যেগুলোর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এরমধ্যে আছে রুকু শেষে বিশেষ দোয়ার কথাও। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলেন তখন তোমরা ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ্‌’ বলবে। কেননা, যার এ উক্তি ফেরেশতাদের সঙ্গে একই সময়ে উচ্চারিত হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৬০)

অপর একটি হাদিসে রুকু শেষে বিশেষ একটি দোয়া পড়ার কথাও এসেছে, যা পড়লে ফেরেশতারা বান্দার সওয়াব লেখার জন্য প্রতিযোগিতা করেন। রিফা’আ ইবনু রাফি যুরাকী (রা.) বলেন, একবার আমরা রাসুল (সা.) এর পেছনে নামাজ পড়ছিলাম। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বললেন, তখন এক সাহাবী ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ্‌, হামদান কাছিরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফিহি’ বললেন।

পরবর্তীতে নামাজ শেষ করে রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, কে এমনটা বলেছিল। তখন ওই সাহাবী বললেন, আমি। জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, আমি দেখলাম ৩০ জনের বেশি ফেরেশতা এর সাওয়াব কে আগে লিখবেন, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৭৭০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৬৩)

হাদিসের বাণী

মহানবী (সা.) যে আমলকে সর্বোত্তম বলেছেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মহানবী (সা.) যে আমলকে সর্বোত্তম বলেছেন
সংগৃহীত ছবি

আবু কাতাদাহ হারিস ইবনে রিবয়ি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.) দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিলেন। বললেন, সর্বোত্তম আমল হলো আল্লাহর উপর ঈমান এবং জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ। এটা শুনে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনি বলুন, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হই, তাহলে আমার গুনাহ কি ক্ষমা করে দেওয়া হবে? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, হ্যাঁ, তুমি যদি সওয়াবের আশায়, সবরের সঙ্গে পিছপা না হয়ে জিহাদ করো, তাহলে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি কী যেন বলেছিলে? সে বলল, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হই, তাহলে আমার পাপ মোচন করা হবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ, তুমি যদি সাওয়াবের আশায়, সবরের সঙ্গে পিছপা না হয়ে জিহাদ কর, তাহলে তোমার পাপ মোচন করে দেওয়া হবে; কিন্তু ঋণ ক্ষমা করা হবে না। নিশ্চয় জিবরিল আমাকে এমনটাই বলেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৮৮০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৫৮৫)

শিক্ষা ও বিধান 
১. সর্বোত্তম আমল হলো ঈমান ও আল্লাহর পথে জিহাদ। 
২. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে জীবন উৎসর্গ করে, তার মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক উঁচু হয়ে যায়। 
৩. শুধু বাহ্যিক কাজ যথেষ্ট নয়; নিয়তও বিশুদ্ধ হতে হবে।
৪. সবর, দৃঢ়তা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া বড় কোনো আমল পূর্ণতা পায় না। এই হাদিস মুমিনকে ধৈর্যের শিক্ষা দেয়।
৫. আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করলে মানুষের বহু গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এটি আল্লাহর অসীম দয়ার একটি নিদর্শন।

এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, শাহাদাতের মতো মহান মর্যাদাও মানুষের হক নষ্ট করার দায় থেকে মুক্তি দেয় না। তাই একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর হক আদায়ের পাশাপাশি বান্দার হক, বিশেষত ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আন্তরিকতা, ধৈর্য ও বিশুদ্ধ নিয়তই নাজাতের মূল চাবিকাঠি। আল্লাহ তাআলা আমাদের বুঝে শুনে আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন। 

শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘বাবা-মা’ বলে সম্বোধন করা যাবে কি?

মুফতি ওমর বিন নাছির
শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘বাবা-মা’ বলে সম্বোধন করা যাবে কি?
সংগৃহীত ছবি

মানুষের পারিবারিক জীবনে সম্মান, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিয়ের মাধ্যমে শুধু দুজন মানুষেরই নয়, বরং দুটি পরিবারেরও বন্ধন সৃষ্টি হয়। এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর পিতা-মাতার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন ইসলামী শিষ্টাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের সমাজে অনেকেই শ্বশুর-শাশুড়িকে সম্মানার্থে ‘আব্বা-আম্মা’, ‘বাবা-মা’ বা অনুরূপ শব্দে সম্বোধন করে থাকেন। কিন্তু কিছু মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—হাদিসে তো অন্যকে নিজের পিতা বলে পরিচয় দিতে নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘আব্বা-আম্মা’ বলা কি বৈধ?

বংশপরিচয় সংরক্ষণের ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা
ইসলাম বংশপরিচয় সংরক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাদেরকে তাদের পিতার নামেই ডাক; এটিই আল্লাহর নিকট অধিক ন্যায়সঙ্গত।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫)
এই আয়াত নাজিল হয়েছিল দত্তক সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রচলিত প্রথা সংশোধনের জন্য। ইসলাম ঘোষণা করেছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃত বংশপরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

হাদিসে অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জেনে-শুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কারো সন্তান বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৬৬)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি জেনে-শুনে নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবি করে, সে বড় ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৫০৮)

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, হাদিসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বংশপরিচয় পরিবর্তন করা বা নিজের প্রকৃত পিতাকে গোপন রেখে অন্যকে পিতা হিসেবে দাবি করা।

শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘আব্বা-আম্মা’ বা ‘বাবা-মা’ বলার হুকুম
ফোকাহায়ে কেরাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সম্মান, ভালোবাসা ও সৌজন্যের খাতিরে শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘আব্বা-আম্মা’ বা ‘বাবা-মা’ বলে সম্বোধন করা নিষিদ্ধ নয়। কারণ এতে নিজের প্রকৃত বংশপরিচয় গোপন করা হয় না। এতে শ্বশুরকে জন্মদাতা পিতা হিসেবে দাবি করা হয় না। এটি শুধু সম্মানসূচক সম্বোধন। সমাজ ও পরিবারে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য এ ধরনের সম্বোধন প্রচলিত। যেমন একজন শিক্ষককে ‘আধ্যাত্মিক পিতা’, কোনো বয়োজ্যেষ্ঠকে ‘চাচা’, ‘মামা’ বা ‘বাবা’ বলা হয় সম্মানের কারণে; তেমনি শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘আব্বা-আম্মা’ বলা সম্মানসূচক সম্বোধন মাত্র।

কোরআনের আলোকে শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সদাচরণ
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে উত্তম কথা বল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৮৩)


আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে উত্তম আচরণ কর।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)
এখানে স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণের অংশ হলো তার পিতা-মাতার প্রতিও সম্মান ও সদাচরণ প্রদর্শন করা। একই ভাবে স্বামীর পিতা-মাতার প্রতিও স্ত্রীর সম্মান দেখানো ইসলামী শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত।

তাই আইডি কার্ড, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, শিক্ষাসনদ, সরকারি নথিপত্র কিংবা যেসব ক্ষেত্রে প্রকৃত পিতার নাম উল্লেখ করা আবশ্যক, সেখানে অবশ্যই জন্মদাতা পিতার নাম লিখতে হবে। অন্য কারো নাম লিখে পরিচয় দেওয়া হারাম ও গুরুতর গুনাহ। কিন্তু পারিবারিক সম্পর্কের সৌহার্দ্য বজায় রাখতে শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘আব্বা-আম্মা’ বা ‘বাবা-মা’ বলে ডাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং তা বৈধ। অনেক ক্ষেত্রে এটা প্রশংসনীয়ও বটে। 

ইসলাম বংশপরিচয় সংরক্ষণের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। তাই নিজের জন্মদাতা পিতাকে গোপন করে অন্যকে পিতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া বা সরকারি নথিতে অন্যের নাম ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। তবে শ্বশুর-শাশুড়িকে সম্মান, ভালোবাসা ও পারিবারিক সৌহার্দ্যের কারণে ‘আব্বা-আম্মা’, ‘বাবা-মা’ বা অনুরূপ শব্দে সম্বোধন করা সেই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এতে বংশপরিচয়ের কোনো পরিবর্তন ঘটে না; বরং এটি ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করারই বহিঃপ্রকাশ। অতএব, শ্বশুর-শাশুড়িকে সম্মানার্থে ‘আব্বু-আম্মু’, ‘আব্বা-আম্মা’ বা ‘বাবা-মা’ বলে সম্বোধন করা শরিয়তসম্মত ও জায়েজ। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি পারিবারিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধির একটি সুন্দর মাধ্যম।

তথ্যসূত্র :
আহকামুল কোরআন, জাসসাস : ৩/৩৫৪, উমদাতুল কারি : ১৬/৭৯, ইকমালুল মুলিম : ১/৩১৯, তাফসিরে কুরতুবি : ১২/৬৭, তাফসিরে রূহুল মাআনি : ৯/২১০, ফাতহুল মুলহিম : ১/২৩৬, মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক : ৯/৪৯-৫২, কেফায়াতুল মুফতি : ৯/১১৮)
 

বাবা দিবসে সন্তানের পঠিতব্য কিছু দোয়া

মুফতি ওমর বিন নাছির
বাবা দিবসে সন্তানের পঠিতব্য কিছু দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে বাবার স্থান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তিনি সন্তানের জন্য নিরাপত্তার ছায়া, ভালোবাসার আশ্রয় এবং ত্যাগের এক উজ্জ্বল প্রতীক। একজন বাবা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন। তাই ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা এতটাই উচ্চ যে আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের নির্দেশের পরপরই তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বর্তমান সময়ে ‘বাবা দিবস’ উপলক্ষে অনেকেই বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। একজন মুসলিম সন্তানের জন্য সবচেয়ে সুন্দর উপহার হলো—বাবার জন্য আন্তরিক দোয়া করা। কারণ দোয়া এমন এক আমল, যা জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পিতা-মাতার জন্য উপকারী হয়। তাই আসুন, আমরা বাবা দিবসকে উপলক্ষ করে বাবার জন্য কোরআন-সুন্নাহ থেকে শেখা দোয়াগুলো জানি এবং আমল করি।


১. বাবার জন্য রহমত ও নিরাপত্তা কামনায় দোয়া

رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

উচ্চারণ : রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সাগিরা।
অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে স্নেহ-মমতায় লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৪)

২. ক্ষমা ও জান্নাতের দোয়া

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ : রব্বানাগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মুমিনীনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪১)

৩. মৃত বাবার জন্য দোয়া
যাদের বাবা ইন্তেকাল করেছেন, তারা বেশি বেশি এ দোয়া করতে পারেন—

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু ওয়া আফিহি ওয়াফু আনহু।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর প্রতি দয়া করুন, তাঁকে নিরাপত্তা দিন এবং তাঁর ত্রুটিগুলো মার্জনা করুন।’ (সহিহ মুসলিম)

সন্তানের দোয়া মাতা-পিতার জন্য সদকায়ে জারিয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি আমল চলতে থাকে—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সন্তানের আন্তরিক দোয়া পিতা-মাতার জন্য মৃত্যুর পরও উপকার বয়ে আনে।

বাবা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন মুসলিম সন্তানের উচিত শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা জীবন বাবার সম্মান করা, তাঁর খোঁজখবর নেওয়া, তাঁর সেবা করা এবং তাঁর জন্য নিয়মিত দোয়া করা। পৃথিবীর কোনো উপহারই একজন বাবার জন্য সন্তানের আন্তরিক দোয়ার সমতুল্য নয়। তাই আসুন, আমরা আজ বাবা দিবসে এবং জীবনের প্রতিটি দিনে আমাদের বাবার জন্য আল্লাহর দরবারে হাত উঠাই, হে আল্লাহ! আমাদের বাবাদের ক্ষমা করুন, তাঁদের প্রতি রহম করুন, তাঁদের জীবনকে বরকতময় করুন এবং তাঁদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করুন। আমিন।