• ই-পেপার

নিখোঁজের ছয় দিন পর সিংগাইরে স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

এমপিপুত্র সজীব ডিবি হেফাজতে

নারায়ণগঞ্জ নগর প্রতিনিধি
এমপিপুত্র সজীব ডিবি হেফাজতে
খাইরুল ইসলাম সজীব। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানী ঢাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সজীবকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

জানা গেছে, আটক সজীবকে পরে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ডিএমপিতে আনা হয়। 

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়েছি আমরা।’ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশাসন যেকোনো সময় যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিতে পারে। আমি নিজে তাকে প্রশাসনের কাছে তুলে দিয়েছি।’

শ্রীমঙ্গলে ২০ লাখ টাকার জিরা লুট, জাসাসের সদস্য সচিব গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলে ২০ লাখ টাকার জিরা লুট, জাসাসের সদস্য সচিব গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জিরাবাহী গাড়ি ও পণ্য লুটের ঘটনায় জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সামাজিক সংস্থা (জাসাস) পৌর শাখার সদস্য সচিব জাহেদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ড্রাইভার ও হেলপারকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৮০০ কেজি জিরা ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা যায়, সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকার ব্যবসায়ী আফজালুর রহমানের ১৬০ বস্তা জিরা কাভার্ডভ্যান ট্রাক গাড়ি নিয়ে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে শ্রীমঙ্গল শহরের পুরানবাজার এলাকায় পৌঁছায়।

অভিযোগ রয়েছে, জাসাস নেতা জাহেদ আলী ও তার সহযোগীরা ড্রাইভার ও হেলপারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। 

পরবর্তীতে শহরতলীর উত্তরসুর এলাকায় ড্রাইভার ও হেলপারকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে ৪ হাজার ৮০০ কেজি জিরা, ২০ হাজার টাকা নগদ এবং দুটি স্মার্টফোনসহ গাড়িটি লুট করে নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ী আফজালুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার রাতে তিনি শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এরপর থানা পুলিশ শনিবার (২০ জুন) রাত আড়াইটার দিকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবলু পালের নেতৃত্বে একটি দল শহরে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ আলীকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত জাহেদ আলী শ্রীমঙ্গল শহরের শাহীবাগ এলাকার মৃত নায়েব আলীর ছেলে এবং শ্রীমঙ্গল পৌর জাসাসের সদস্য সচিব।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আসামিকে রবিবার  বিকেলে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে চাঁদাবাজির অভিযোগে জাহেদ আলীকে জাসাসের শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সদস্যসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল সংগঠনটির মৌলভীবাজার জেলা কমিটি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নিজ ঘরে ৬০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

ভোলা প্রতিনিধি
নিজ ঘরে ৬০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
প্রতীকী ছবি

ভোলা সদর উপজেলায় নিজ ঘরে ৬০ বছরের এক বিধবা বৃদ্ধা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্যাতিতা নারীকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

রবিবার ( ২১ জুন) সকালে পরিবারের লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করান। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে ভোলা পৌরসভার চরনোয়াবাদ বৃদ্ধার নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা নারী ও অভিযুক্ত সজিব পরস্পর নিকটাত্মীয় (ভিকটিমের ছেলের বউয়ের ভাই) এবং ভিকটিমের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। শনিবার রাতে সজিব ওই বাড়িতে ঘুমান। ভোর রাতে ভিকটিম বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সটকে পড়ে সজিব। অভিযুক্ত সজিব ভোলা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিখোলা এলাকার শ্রী সুমঙ্গল তেলির ছেলে। সজিবের বিরুদ্ধে মাদক আসক্তির ও উচ্ছৃঙ্খল কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে জানায় স্থানীয়রা।

ভোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. সুরাইয়া ইয়াসনুর জানান, রোগীর অতিরিক্তি রক্তক্ষরণ হয়েছে। রোগী রক্তশূন্যতায় ভুগছে। বয়স্ক হওয়ায় শারীরিক দুর্বলতাও রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর পরবর্তী অবস্থা বলা যাবে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, রোগীর স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীর চিকিৎসা চলমান আছে।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার জানান, সকাল ১০টায় এ বিষয়ে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সিনিয়র অফিসাররা রোগীর খোঁজ-খরব নেন। ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো দেওয়া হবে। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতকে আইনের আওতায় আনার সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে জয়পুরহাটে আলুচাষিদের মানববন্ধন

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে জয়পুরহাটে আলুচাষিদের মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন আলুচাষি, সংরক্ষণকারী ও ব্যবসায়ীরা। 

রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টায় জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের কালাই পৌরশহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অর্গানাইজেশন (আলু)-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তিন শতাধিক আলুচাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জয়পুরহাট জেলার ১৯টি হিমাগারের মধ্যে ১২টিই কালাই উপজেলায় অবস্থিত। দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় এখানকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে হিমাগার মালিকরা সমন্বিতভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কালাইয়ের কৃষকরা।

উপজেলা ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অর্গানাইজেশন (আলু)-এর সভাপতি এ কে এম রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি ৬০ কেজি আলুর বস্তা সংরক্ষণে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে প্রায় ৬ টাকা ৯০ পয়সা খরচ হচ্ছে। উৎপাদন, শ্রমিক, সার, বীজ, সেচ ও পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর খরচ ২২ থেকে ২৩ টাকার নিচে নয়। অথচ বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকায়। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক লোকসানের শিকার হচ্ছেন।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘শুধু অন্য জেলার তুলনায় নয়, জয়পুরহাট জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায়ও কালাইয়ের হিমাগারগুলোতে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রতি বস্তায় সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি। গত এক সপ্তাহ ধরে আলু ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রেখেছি। দ্রুত সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

আঁওড়া মহল্লার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘আলু চাষ করে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। উৎপাদন খরচই উঠছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।’

একই দাবিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের মোলামগাড়ীহাট নর্থপোল কোল্ড স্টোরেজের সামনেও পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষক, সংরক্ষণকারী ও ব্যবসায়ীগণের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে আড়াই শতাধিক কৃষক, সংরক্ষণকারী ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।

এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মো. তাজমিনুর রহমান, ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা, রেজাউল ইসলাম, বুলবুল আহমেদ, কৃষক আবুল আলিম, রিপন আহম্মেদ এবং সংরক্ষণকারী কামাল হোসেনসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, আলু উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তার ওপর অতিরিক্ত সংরক্ষণ ভাড়া কৃষকদের আরও সংকটে ফেলেছে।

তবে হিমাগার মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। বর্তমানে হিমাগারগুলো ৬ টাকা ৫০ পয়সা হারে ভাড়া নিচ্ছে। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে।’

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, ‘চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় গত বছরের মতো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাড়া নির্ধারণের জন্য হিমাগার মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।’