• ই-পেপার

৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা : নিরাপত্তা প্রহরীর ৩ দিনের রিমান্ড

স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় ৯ বছর আগে ঢাকার মধ্যবাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই)  ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।’

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।’

মামলায় মনির হোসেন জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই রায়ের দিন ধার্যের পর (যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে) আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের দিকে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকির খাতুন সোমা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর কিছুদিন তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলেন। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেন। মনির ব্যবসার কথা বলে তাকে টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। সোমার দুই বোনও তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তবে আরো টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করতেন তিনি।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মনির সোমাকে নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দেন। সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। আর কখনো এমনটা করবে মর্মে অঙ্গীকার দিয়ে সোমাকে কয়েক দিন পর নিয়ে আসেন মনির। তারপরও নির্যাতন কমেনি। ৬ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার করা হয় মনিরকে। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকর্তা বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী। ২০১৮ সালের ১৭ মে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ আদালত থেকে আসামির সাজার রায় এলো।

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফরের বিরুদ্ধে শুনানি আজ

অনলাইন ডেস্ক
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফরের বিরুদ্ধে শুনানি আজ
জিয়াউর রহমান ও আসামি মোজাফফর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আসামি করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালে এসংক্রান্ত একটি আবেদন জমা হয়েছে। যেখানে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আজই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর শুনানি হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীর কথোপকথনের সূত্র ধরে ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার করা হয় মোজাফফর হোসেনকে। এরপর তাকে নেওয়া হয় জিয়া হত্যার ঘটনাস্থলে।

উল্লেখ্য, গতকাল (সোমবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার এ আসামির বিচার হবে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মোজাফফরকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ও বিচারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আইনমন্ত্রী

এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

বর্তমানে দেশে বিচারকের স্বল্পতার বিপরীতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন। যা পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর একটি বিরাট বোঝা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পাওয়া গেছে। এটি বিচারব্যবস্থার জন্য আশাব্যঞ্জক। এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন নতুন করে যে বিপুলসংখ্যক মামলা আদালতে জমা হচ্ছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে, বিচারকদের উদ্দেশে বলেন আইনমন্ত্রী।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে, আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

২৪ বছর আগে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ বছর আগে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন

ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় ২৪ বছর আগে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন–সুজন, জুলহাস ও মাহাম্মদ।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে জরিমানার টাকা আদায়পূর্বক ভিকটিম বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি সুজন ও ও মাহাম্মদ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জুলহাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভিকটিমের ৮ বছর বয়সী ফুপাতো বোন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চাইলে ভিকটিম তার বসতবাড়ির পেছনে পাটকাঠির বেড়ার টয়লেটে নিয়ে যান। ফুপাতো বোনকে টয়লেটে বসিয়ে তার বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে পৌঁছামাত্র এজাহারভুক্ত আসামি সুজন পেছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে মুখ চেপে ধরে বাড়ির পেছনে উত্তর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আসামি জুলহাস ও মাহাম্মদ আগে থেকে অবস্থান করছিল। আসামিরা ভিকটিমকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সোনাপুর সার্কিনস্থ গরবাকান্দার বর্মিজ উদ্দিনের বোরো ধানক্ষেতে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ। এরপর আসামিদের চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার বিচারকালে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।